ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং চাঁদাবাজি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ব্যবসা বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশে চাঁদাবাজি এত প্রবল যে ট্রাক ফ্যাক্টরিতে ঢুকতে এবং বের হওয়ার সময়ও চাঁদা দিতে হয়। অব্যাহত অনিয়ম ও দুর্নীতি সাধারণ মানুষকেও রাস্তায় নামতে বাধ্য করছে। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতার অভাব কমেনি; বরং কিছু ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, চাঁদাবাজি ও অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের কারণে ব্যবসার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং নতুন বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। উৎপাদক পর্যায়ে পণ্য স্বল্প মূল্যে বিক্রি হলেও মধ্যস্বত্বভোগী ও অবৈধ আদায়ের কারণে বাজারে ভোক্তাদের বহুগুণ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।

ডিসিসিআই সরকারের প্রতি চারটি মূল দাবি জানিয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে উন্নয়ন করা, চাঁদাবাজি নির্মূল করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব আর্থিক নীতি প্রণয়ন করা। এছাড়া ইচ্ছাকৃত নয় এমন ঋণখেলাপিদের পুনঃঅর্থায়ন এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে নামানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাসকিন আহমেদ বলেন, জটিল কর কাঠামোতে কর-জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে না; এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পৃথকীকরণ ও দ্রুত অটোমেশন জরুরি। বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থাকে কার্যকর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিসিসিআই শ্রমবাজার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশে প্রায় ২৬ লাখ মানুষ কর্মহীন এবং কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং চাঁদাবাজির প্রবণতাও কমবে। সংগঠনটি ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক চুক্তি পুনর্বিবেচনার তাগিদ দিয়েছে এবং রপ্তানি বৈচিত্র্য বাড়াতে চামড়া, হালকা প্রকৌশলসহ ৩০টি খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে। ডিসিসিআই নেতারা মনে করছেন, পরিকল্পিত সহায়তা দিলে অর্থনীতিতে গতি আসবে এবং উদ্যোক্তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং চাঁদাবাজি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ব্যবসা বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশে চাঁদাবাজি এত প্রবল যে ট্রাক ফ্যাক্টরিতে ঢুকতে এবং বের হওয়ার সময়ও চাঁদা দিতে হয়। অব্যাহত অনিয়ম ও দুর্নীতি সাধারণ মানুষকেও রাস্তায় নামতে বাধ্য করছে। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতার অভাব কমেনি; বরং কিছু ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, চাঁদাবাজি ও অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের কারণে ব্যবসার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং নতুন বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। উৎপাদক পর্যায়ে পণ্য স্বল্প মূল্যে বিক্রি হলেও মধ্যস্বত্বভোগী ও অবৈধ আদায়ের কারণে বাজারে ভোক্তাদের বহুগুণ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।

ডিসিসিআই সরকারের প্রতি চারটি মূল দাবি জানিয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে উন্নয়ন করা, চাঁদাবাজি নির্মূল করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব আর্থিক নীতি প্রণয়ন করা। এছাড়া ইচ্ছাকৃত নয় এমন ঋণখেলাপিদের পুনঃঅর্থায়ন এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে নামানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাসকিন আহমেদ বলেন, জটিল কর কাঠামোতে কর-জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে না; এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পৃথকীকরণ ও দ্রুত অটোমেশন জরুরি। বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থাকে কার্যকর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিসিসিআই শ্রমবাজার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশে প্রায় ২৬ লাখ মানুষ কর্মহীন এবং কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং চাঁদাবাজির প্রবণতাও কমবে। সংগঠনটি ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক চুক্তি পুনর্বিবেচনার তাগিদ দিয়েছে এবং রপ্তানি বৈচিত্র্য বাড়াতে চামড়া, হালকা প্রকৌশলসহ ৩০টি খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে। ডিসিসিআই নেতারা মনে করছেন, পরিকল্পিত সহায়তা দিলে অর্থনীতিতে গতি আসবে এবং উদ্যোক্তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ