ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে বেইজিংয়ের সমর্থন


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে বেইজিংয়ের সমর্থন
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন; বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে চীনের রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অখণ্ডতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সার্বভৌম অবস্থান রক্ষায় চীন সব সময় বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বৈঠকে বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা উঠলে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে এই প্রকল্পের বিষয়ে বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান কী হবে, সে সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তিনি কৌশলী বার্তা দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের টেকসই উন্নয়নের জন্য চীন কাজ করে যাচ্ছে। কোনো তৃতীয় দেশের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ এখানে কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের উন্নয়ন অংশীদারত্বের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি অন্যান্য প্রভাব ঠেকানোর একটি কৌশল।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনেও চীনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কথা বৈঠকে জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে চীন আগ্রহী। নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় চীনকে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গেও সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ওই বৈঠকেও আঞ্চলিক উন্নয়ন ও তিস্তা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে বেইজিংয়ের সমর্থন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন; বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে চীনের রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অখণ্ডতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সার্বভৌম অবস্থান রক্ষায় চীন সব সময় বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বৈঠকে বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা উঠলে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে এই প্রকল্পের বিষয়ে বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান কী হবে, সে সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তিনি কৌশলী বার্তা দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের টেকসই উন্নয়নের জন্য চীন কাজ করে যাচ্ছে। কোনো তৃতীয় দেশের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ এখানে কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের উন্নয়ন অংশীদারত্বের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি অন্যান্য প্রভাব ঠেকানোর একটি কৌশল।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনেও চীনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কথা বৈঠকে জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে চীন আগ্রহী। নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় চীনকে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গেও সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ওই বৈঠকেও আঞ্চলিক উন্নয়ন ও তিস্তা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ