ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকির উদ্যোগ

সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না আগামী দুই বছর


বিশেষ প্রতিনিধি :
বিশেষ প্রতিনিধি :
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না আগামী দুই বছর
চিত্র : প্রতিকী

নবনির্বাচিত সরকার অন্তত আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় না। বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে জনজীবনে চাপ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দাম না বাড়িয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করতে বিদ্যুৎখাতের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিদ্যুৎখাতের বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিমসহ বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত অর্থবছরও বিদ্যুৎখাতে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে দেনাও যোগ হয়েছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদ্যুৎখাতে বরাদ্দ তুলনামূলক কম রাখা হয়েছিল। এই অবস্থায় বিপিডিবি ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে ভর্তুকি ও লোকসান কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসে। তবে বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দেননি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীরা বিদ্যুৎখাতের অপারেশনাল খরচ কমানো, সিস্টেম লস কমানো এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত ট্যারিফ নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে উৎপাদন পর্যায়ে ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করে সংকট মোকাবিলার পথ খুঁজতে কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ব্যয় কমিয়ে সামগ্রিক চাপ কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের স্বার্থ ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিদ্যুৎখাতে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক, কারিগরি ও সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিগত সরকারের সময় দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হয়েছিল, যার চাপ জনগণ বহন করেছে। নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা চাই, বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কীভাবে সমস্যা সমাধান করা যায় এবং মানুষকে কষ্ট না দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

দাম না বাড়ানোর সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময় বলা না গেলেও চেষ্টা থাকবে যেন বিদ্যুতের দাম না বাড়াতে হয়। অন্যান্য খরচ কমিয়ে কীভাবে ভর্তুকি কমানো যায়, সে বিষয়ে সকলকে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিভিন্ন গ্রাহকের বিপুল অর্থ পাওনা রয়েছে। বিপিডিবির কাছেও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা আছে। এসব বিষয় বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎখাতে পিডিবির বিপুল ঋণ জমেছে। সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি আমদানির বিপরীতে বড় অঙ্কের দেনা রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও বিক্রিমূল্যের মধ্যে ফারাক থাকায় প্রতিবছর ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে দাম বাড়ানো বা ভর্তুকি বৃদ্ধি করতে হবে। কোন পথে সরকার যাবে, তা নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না আগামী দুই বছর

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

নবনির্বাচিত সরকার অন্তত আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় না। বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে জনজীবনে চাপ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দাম না বাড়িয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করতে বিদ্যুৎখাতের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিদ্যুৎখাতের বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিমসহ বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সূত্র জানায়, বৈঠকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত অর্থবছরও বিদ্যুৎখাতে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে দেনাও যোগ হয়েছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদ্যুৎখাতে বরাদ্দ তুলনামূলক কম রাখা হয়েছিল। এই অবস্থায় বিপিডিবি ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে ভর্তুকি ও লোকসান কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসে। তবে বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দেননি।


বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীরা বিদ্যুৎখাতের অপারেশনাল খরচ কমানো, সিস্টেম লস কমানো এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত ট্যারিফ নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে উৎপাদন পর্যায়ে ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করে সংকট মোকাবিলার পথ খুঁজতে কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ব্যয় কমিয়ে সামগ্রিক চাপ কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের স্বার্থ ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিদ্যুৎখাতে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক, কারিগরি ও সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিগত সরকারের সময় দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হয়েছিল, যার চাপ জনগণ বহন করেছে। নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা চাই, বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কীভাবে সমস্যা সমাধান করা যায় এবং মানুষকে কষ্ট না দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।


দাম না বাড়ানোর সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময় বলা না গেলেও চেষ্টা থাকবে যেন বিদ্যুতের দাম না বাড়াতে হয়। অন্যান্য খরচ কমিয়ে কীভাবে ভর্তুকি কমানো যায়, সে বিষয়ে সকলকে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিভিন্ন গ্রাহকের বিপুল অর্থ পাওনা রয়েছে। বিপিডিবির কাছেও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা আছে। এসব বিষয় বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।


বিদ্যুৎ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎখাতে পিডিবির বিপুল ঋণ জমেছে। সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি আমদানির বিপরীতে বড় অঙ্কের দেনা রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও বিক্রিমূল্যের মধ্যে ফারাক থাকায় প্রতিবছর ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে দাম বাড়ানো বা ভর্তুকি বৃদ্ধি করতে হবে। কোন পথে সরকার যাবে, তা নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের বিষয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ