ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জানুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৫৪৬ প্রাণ, ৩৭ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জানুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৫৪৬ প্রাণ, ৩৭ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

জানুয়ারি মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাসজুড়ে ৫৫২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ১,২০৪ জন আহত হয়েছেন। মোটরসাইকেল‑জড়িত দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ২০৯টি, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় এক‑তৃতীয়াংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবই প্রধান কারণ।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চালক ১২৭ জন, পথচারী ৮৯ জন, নারী ৫৪ জন, শিশু ৪৮ জন, এবং শিক্ষার্থী ৫৭ জন রয়েছে। এছাড়া, পরিবহন শ্রমিক ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্ঘটনায় জড়িত অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, পিকআপ ও লরির অংশ ২৩.৬৪%, বাস ১৪.৩৫%, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ১৩.৬৩%, এবং সিএনজি অটোরিকশা ৫.৫৪%। দুর্ঘটনার ধরন হিসেবে গাড়িচাপা (৪৮.৩৬%), মুখোমুখি সংঘর্ষ (২৮.৬২%) এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া (১৬.৮৪%) প্রধান।

স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাতীয় মহাসড়কে মোট দুর্ঘটনার ৪২.৫৭%, আঞ্চলিক মহাসড়কে ২৭.৮৯%, এবং ফিডার সড়কে ২৪.০৯% ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো নীতিগত দুর্বলতা, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য। রোড সেফটি উন্নয়নের জন্য দক্ষ চালক তৈরির প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস সনদ ডিজিটালকরণ, পথচারী পারাপার ও সার্ভিস লেন উন্নয়ন, এবং আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গঠন জরুরি।

এই পরিসংখ্যান দেশের সড়ক নিরাপত্তা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু প্রবণতা কমানো এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


জানুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৫৪৬ প্রাণ, ৩৭ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

জানুয়ারি মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাসজুড়ে ৫৫২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ১,২০৪ জন আহত হয়েছেন। মোটরসাইকেল‑জড়িত দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ২০৯টি, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় এক‑তৃতীয়াংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবই প্রধান কারণ।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চালক ১২৭ জন, পথচারী ৮৯ জন, নারী ৫৪ জন, শিশু ৪৮ জন, এবং শিক্ষার্থী ৫৭ জন রয়েছে। এছাড়া, পরিবহন শ্রমিক ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্ঘটনায় জড়িত অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, পিকআপ ও লরির অংশ ২৩.৬৪%, বাস ১৪.৩৫%, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ১৩.৬৩%, এবং সিএনজি অটোরিকশা ৫.৫৪%। দুর্ঘটনার ধরন হিসেবে গাড়িচাপা (৪৮.৩৬%), মুখোমুখি সংঘর্ষ (২৮.৬২%) এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া (১৬.৮৪%) প্রধান।

স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাতীয় মহাসড়কে মোট দুর্ঘটনার ৪২.৫৭%, আঞ্চলিক মহাসড়কে ২৭.৮৯%, এবং ফিডার সড়কে ২৪.০৯% ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো নীতিগত দুর্বলতা, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য। রোড সেফটি উন্নয়নের জন্য দক্ষ চালক তৈরির প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস সনদ ডিজিটালকরণ, পথচারী পারাপার ও সার্ভিস লেন উন্নয়ন, এবং আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গঠন জরুরি।

এই পরিসংখ্যান দেশের সড়ক নিরাপত্তা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু প্রবণতা কমানো এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ