ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে।
ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মেগা প্রকল্প ‘তৃতীয় টার্মিনাল’ নির্মাণে জড়িত বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাওনা সংক্রান্ত বিরোধের রায় ঘোষিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ডের সভায় বেবিচককে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধের এই নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আজ রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক বোর্ড বেবিচক এবং বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)’-এর মধ্যে দেনা-পাওনা ও রিটেনশন মানি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে এই সালিশি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। জাপানের মিৎসুবিশি ও ফুজিটা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত এডিসি এই নির্মাণকাজের মূল দায়িত্ব পালন করছে।
রায়ের আর্থিক বিবরণী সালিশি বোর্ডের রায় অনুযায়ী, কাজের বিভিন্ন পর্যায় (এপিসিএস-৪৮ এবং ৫২-৫৪) বাবদ এডিসিকে ৫৮৯ কোটি ৮৬ লাখ জাপানি ইয়েন এবং ২৭২ কোটি ৯ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে। এছাড়া রিটেনশন মানির দ্বিতীয় অংশ হিসেবে ৬০২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং ৪০০ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পাওনা পরিশোধে বিলম্বের কারণে সৃষ্ট চার্জ বাবদ আরও ২২ কোটি ২৯ লাখ জাপানি ইয়েন এবং ২৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে।
আইনি পর্যবেক্ষণ ও বাধ্যবাধকতা রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাজের পরিধি বৃদ্ধি সংক্রান্ত কিছু আইনি জটিলতা থাকলেও এবং ডিফেক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ড (ডিএনপি) ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি উত্তীর্ণ হওয়ায় পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় এখনও হয়নি। ফলে এডিসির পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরতের আবেদনটি বোর্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে সালিশি বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
বেবিচকের প্রতিক্রিয়া এ বিষয়ে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ডের রায়ের বিস্তারিত ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা ও আইনি পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, তৃতীয় টার্মিনালের মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুষ্ঠু সমাপ্তি ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এই পাওনা পরিশোধের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে।
ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মেগা প্রকল্প ‘তৃতীয় টার্মিনাল’ নির্মাণে জড়িত বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাওনা সংক্রান্ত বিরোধের রায় ঘোষিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ডের সভায় বেবিচককে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধের এই নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আজ রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক বোর্ড বেবিচক এবং বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)’-এর মধ্যে দেনা-পাওনা ও রিটেনশন মানি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে এই সালিশি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। জাপানের মিৎসুবিশি ও ফুজিটা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত এডিসি এই নির্মাণকাজের মূল দায়িত্ব পালন করছে।
রায়ের আর্থিক বিবরণী সালিশি বোর্ডের রায় অনুযায়ী, কাজের বিভিন্ন পর্যায় (এপিসিএস-৪৮ এবং ৫২-৫৪) বাবদ এডিসিকে ৫৮৯ কোটি ৮৬ লাখ জাপানি ইয়েন এবং ২৭২ কোটি ৯ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে। এছাড়া রিটেনশন মানির দ্বিতীয় অংশ হিসেবে ৬০২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং ৪০০ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পাওনা পরিশোধে বিলম্বের কারণে সৃষ্ট চার্জ বাবদ আরও ২২ কোটি ২৯ লাখ জাপানি ইয়েন এবং ২৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে।
আইনি পর্যবেক্ষণ ও বাধ্যবাধকতা রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাজের পরিধি বৃদ্ধি সংক্রান্ত কিছু আইনি জটিলতা থাকলেও এবং ডিফেক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ড (ডিএনপি) ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি উত্তীর্ণ হওয়ায় পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় এখনও হয়নি। ফলে এডিসির পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরতের আবেদনটি বোর্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে সালিশি বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
বেবিচকের প্রতিক্রিয়া এ বিষয়ে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ডের রায়ের বিস্তারিত ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা ও আইনি পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, তৃতীয় টার্মিনালের মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুষ্ঠু সমাপ্তি ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এই পাওনা পরিশোধের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন