ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো জামায়াত আমিরের শ্রদ্ধা: সাংবাদিকদের প্রশ্নে দিলেন ঝটপট উত্তর


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো জামায়াত আমিরের শ্রদ্ধা: সাংবাদিকদের প্রশ্নে দিলেন ঝটপট উত্তর

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই তিনি শহীদ মিনারে পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ডা. শফিকুর রহমান শহীদ মিনারের বেদিতেই মোনাজাত পরিচালনা করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে শহীদ মিনারে আসা নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হন তিনি। ‘জামায়াত কখনো শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসত না, এবার কেন এলেন’—এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে বলেন, “রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটি আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে, তাই আমি এসেছি।”

তবে এর পরেই এক সাংবাদিকের প্রশ্নে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। ‘জামায়াত কি এখনো শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে নাজায়েজ মনে করে’—এমন প্রশ্নে ডা. শফিকুর রহমান সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, “এমন একটা পবিত্র দিনে এ ধরনের প্রশ্ন আপনি কেন করছেন? এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।”

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তিনি সরাসরি আজিমপুর কবরস্থানে যান এবং সেখানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যারা মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করে প্রাণ দিয়েছেন, তাদের শাহাদাত কবুলের জন্য আমরা মহান আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেছি।”

নাগরিক অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিরোধীদলীয় এই নেতা উল্লেখ করেন যে, ভাষার অধিকার অর্জিত হলেও দেশের মানুষ এখনো প্রকৃত নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠিত কায়েমি স্বার্থবাদী সরকারগুলো জনগণের অধিকার গায়ের জোরে চেপে ধরতে চেয়েছিল বলেই বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহের ফলেই আমরা ভাষার অধিকার পেয়েছি। তবে একটি প্রকৃত মানবিক সমাজ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।”

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো জামায়াত আমিরের শ্রদ্ধা: সাংবাদিকদের প্রশ্নে দিলেন ঝটপট উত্তর

প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই তিনি শহীদ মিনারে পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ডা. শফিকুর রহমান শহীদ মিনারের বেদিতেই মোনাজাত পরিচালনা করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে শহীদ মিনারে আসা নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হন তিনি। ‘জামায়াত কখনো শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসত না, এবার কেন এলেন’—এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে বলেন, “রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটি আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে, তাই আমি এসেছি।”

তবে এর পরেই এক সাংবাদিকের প্রশ্নে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। ‘জামায়াত কি এখনো শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে নাজায়েজ মনে করে’—এমন প্রশ্নে ডা. শফিকুর রহমান সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, “এমন একটা পবিত্র দিনে এ ধরনের প্রশ্ন আপনি কেন করছেন? এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।”

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তিনি সরাসরি আজিমপুর কবরস্থানে যান এবং সেখানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যারা মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করে প্রাণ দিয়েছেন, তাদের শাহাদাত কবুলের জন্য আমরা মহান আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেছি।”

নাগরিক অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিরোধীদলীয় এই নেতা উল্লেখ করেন যে, ভাষার অধিকার অর্জিত হলেও দেশের মানুষ এখনো প্রকৃত নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠিত কায়েমি স্বার্থবাদী সরকারগুলো জনগণের অধিকার গায়ের জোরে চেপে ধরতে চেয়েছিল বলেই বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহের ফলেই আমরা ভাষার অধিকার পেয়েছি। তবে একটি প্রকৃত মানবিক সমাজ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।”


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ