ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পটুয়াখালীতে ওয়ারেন্টভুক্ত ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার ঘিরে তুলকালাম, পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পটুয়াখালীতে ওয়ারেন্টভুক্ত ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার ঘিরে তুলকালাম, পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা

পটুয়াখালীর দশমিনায় একটি আদালতের পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের তীব্র তোপের মুখে পড়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ওই নেতাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হলেও, আগের রাতে তাকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে দশমিনা উপজেলা সদরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব হোসেনকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে দশমিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাকিবকে হেফাজতে নিতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশারের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী পুলিশকে ঘিরে ধরেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নথিপত্র দেখতে চান। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আবুল বশারকে বলতে শোনা যায়, “বিএনপির লোক আপনি থানায় নিতে পারবেন না। তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত মানছি, অন্য কিছু না। আমরা গণঅধিকার করি না, বিএনপি করি। যদি নিতে হয়, দুই আসামিকেই নিতে হবে।”

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখানোর পর পুলিশ রাকিবকে থানায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। শুক্রবার সকালে তাকে পটুয়াখালী আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশার জানান, চরবোরহান ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবকে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা অন্যায়ভাবে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তিনি কেবল সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং কেন তাকে ধরা হচ্ছে তা জানতে চেয়েছেন।

অন্যদিকে, দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মিলন খান মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পুলিশ ধরেছে, এখানে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উল্টো ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পুলিশের সামনেই আমার গায়ে হাত তুলেছে।”

দশমিনা থানার এসআই মনির হোসেন জানান, নিয়মিত মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবেই রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুরুতে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বাধা দিলেও আইনি কাগজপত্র দেখানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


পটুয়াখালীতে ওয়ারেন্টভুক্ত ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার ঘিরে তুলকালাম, পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা

প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর দশমিনায় একটি আদালতের পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের তীব্র তোপের মুখে পড়েছে পুলিশ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ওই নেতাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হলেও, আগের রাতে তাকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে দশমিনা উপজেলা সদরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব হোসেনকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে দশমিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাকিবকে হেফাজতে নিতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশারের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী পুলিশকে ঘিরে ধরেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নথিপত্র দেখতে চান। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আবুল বশারকে বলতে শোনা যায়, “বিএনপির লোক আপনি থানায় নিতে পারবেন না। তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত মানছি, অন্য কিছু না। আমরা গণঅধিকার করি না, বিএনপি করি। যদি নিতে হয়, দুই আসামিকেই নিতে হবে।”

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখানোর পর পুলিশ রাকিবকে থানায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। শুক্রবার সকালে তাকে পটুয়াখালী আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশার জানান, চরবোরহান ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবকে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা অন্যায়ভাবে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তিনি কেবল সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং কেন তাকে ধরা হচ্ছে তা জানতে চেয়েছেন।

অন্যদিকে, দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মিলন খান মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পুলিশ ধরেছে, এখানে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উল্টো ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পুলিশের সামনেই আমার গায়ে হাত তুলেছে।”

দশমিনা থানার এসআই মনির হোসেন জানান, নিয়মিত মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবেই রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুরুতে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বাধা দিলেও আইনি কাগজপত্র দেখানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ