বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব গিয়েছিলেন বরিশালের এক তরুণী। উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করলেও সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তিনি মানবপাচারচক্রের কবলে পড়েন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তাকে চারবার হাতবদল করা হয় বিভিন্ন দালাল ও সিন্ডিকেটের কাছে। প্রতিটি ধাপে তার গন্তব্য ও অবস্থান সম্পর্কে তাকে কিছুই জানানো হয়নি, ফলে পুরো যাত্রাই হয়ে ওঠে অজানা ও অনিশ্চয়তায় ভরা।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, সৌদি আরব পৌঁছে প্রথমেই স্থানীয় দালালরা তার পাসপোর্টসহ সব কাগজপত্র নিয়ে নেয়। এরপর কাজের নামে তাকে বিভিন্ন বাড়িতে পাঠানো হয়, আবার কিছুদিন পর নতুন দালালের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতিটি হাতবদলের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পর্যাপ্ত খাবার, বিশ্রাম বা নিরাপত্তা কোনোটিই নিশ্চিত ছিল না। দালালরা তাকে কোনোভাবেই বাইরে যোগাযোগ করতে দিত না, ফলে পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে সৌদি পুলিশ এক অভিযানে তরুণীকে আটক করে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাকে পাচারচক্রের শিকার হিসেবে নয়, বরং ‘অবৈধ অবস্থানকারী’ হিসেবে দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, তরুণী অপরাধী নন; বরং প্রতারণা ও পাচারের শিকার। তারা দ্রুত রাষ্ট্রীয় সহায়তার মাধ্যমে তার দেশে ফেরার দাবি জানিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, প্রতি বছর বাংলাদেশের বহু নারী উন্নত জীবনের আশায় মধ্যপ্রাচ্যে গেলেও দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গৃহপরিচারিকা খাতে মানবপাচারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
সরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তরুণীর আইনি সহায়তা ও দেশে ফেরানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার মধ্যে আবারও স্পষ্ট হলো বিদেশগামী শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং মানবপাচারচক্রকে কঠোরভাবে দমন করা এখন সময়ের দাবি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব গিয়েছিলেন বরিশালের এক তরুণী। উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করলেও সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তিনি মানবপাচারচক্রের কবলে পড়েন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তাকে চারবার হাতবদল করা হয় বিভিন্ন দালাল ও সিন্ডিকেটের কাছে। প্রতিটি ধাপে তার গন্তব্য ও অবস্থান সম্পর্কে তাকে কিছুই জানানো হয়নি, ফলে পুরো যাত্রাই হয়ে ওঠে অজানা ও অনিশ্চয়তায় ভরা।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, সৌদি আরব পৌঁছে প্রথমেই স্থানীয় দালালরা তার পাসপোর্টসহ সব কাগজপত্র নিয়ে নেয়। এরপর কাজের নামে তাকে বিভিন্ন বাড়িতে পাঠানো হয়, আবার কিছুদিন পর নতুন দালালের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতিটি হাতবদলের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পর্যাপ্ত খাবার, বিশ্রাম বা নিরাপত্তা কোনোটিই নিশ্চিত ছিল না। দালালরা তাকে কোনোভাবেই বাইরে যোগাযোগ করতে দিত না, ফলে পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে সৌদি পুলিশ এক অভিযানে তরুণীকে আটক করে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাকে পাচারচক্রের শিকার হিসেবে নয়, বরং ‘অবৈধ অবস্থানকারী’ হিসেবে দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, তরুণী অপরাধী নন; বরং প্রতারণা ও পাচারের শিকার। তারা দ্রুত রাষ্ট্রীয় সহায়তার মাধ্যমে তার দেশে ফেরার দাবি জানিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, প্রতি বছর বাংলাদেশের বহু নারী উন্নত জীবনের আশায় মধ্যপ্রাচ্যে গেলেও দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গৃহপরিচারিকা খাতে মানবপাচারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
সরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তরুণীর আইনি সহায়তা ও দেশে ফেরানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার মধ্যে আবারও স্পষ্ট হলো বিদেশগামী শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং মানবপাচারচক্রকে কঠোরভাবে দমন করা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন