ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফেরার জন্য নানাভাবে তৎপরতা শুরু করেছে। একদিকে বিএনপি ও তার মিত্ররা সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনতে ভারতীয় কূটনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি বিশেষ অংশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের ‘দ্য ট্রিবউন’ পত্রিকায় বাংলাদেশের সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার বীণা সিক্রির একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি নতুন সরকারের প্রতি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তার মতে, একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির জন্য এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের এই ফেরার প্রক্রিয়ায় বিদেশের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়েও কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটছে। নির্বাচনের পরদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ থাকা আওয়ামী লীগ অফিসগুলো পুনরায় খোলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। খুলনায় আগুনে পোড়া দলীয় কার্যালয় পরিষ্কার করে পতাকা উত্তোলন ও শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। দিনাজপুরেও পরিত্যক্ত কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে, যেখানে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকসহ পাঁচজন জনতার ক্ষোভের মুখে পড়েন এবং পুলিশ তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে হেফাজতে নেয়।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বিদেশি গণমাধ্যমে দাবি করেছেন যে, আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচন সাজানো হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট কিছু দল বাড়তি সুবিধা পায়। তিনি আরও জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা ও তিনি নিজে অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরবেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি নিরাপদ মনে করছেন না। উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং জুলাই বিপ্লবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। এছাড়া দুর্নীতি ও রাষ্ট্রবিরোধী মামলায় তার বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন সরকার ‘রুল অব ল’ বা আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সব বিচারিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশমুখী হবে না বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সবার সঙ্গে সমান সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ও খুনের বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন করা হবে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফেরার জন্য নানাভাবে তৎপরতা শুরু করেছে। একদিকে বিএনপি ও তার মিত্ররা সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনতে ভারতীয় কূটনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি বিশেষ অংশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের ‘দ্য ট্রিবউন’ পত্রিকায় বাংলাদেশের সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার বীণা সিক্রির একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি নতুন সরকারের প্রতি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তার মতে, একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির জন্য এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের এই ফেরার প্রক্রিয়ায় বিদেশের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়েও কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটছে। নির্বাচনের পরদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ থাকা আওয়ামী লীগ অফিসগুলো পুনরায় খোলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। খুলনায় আগুনে পোড়া দলীয় কার্যালয় পরিষ্কার করে পতাকা উত্তোলন ও শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। দিনাজপুরেও পরিত্যক্ত কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে, যেখানে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকসহ পাঁচজন জনতার ক্ষোভের মুখে পড়েন এবং পুলিশ তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে হেফাজতে নেয়।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বিদেশি গণমাধ্যমে দাবি করেছেন যে, আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচন সাজানো হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট কিছু দল বাড়তি সুবিধা পায়। তিনি আরও জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা ও তিনি নিজে অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরবেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি নিরাপদ মনে করছেন না। উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং জুলাই বিপ্লবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। এছাড়া দুর্নীতি ও রাষ্ট্রবিরোধী মামলায় তার বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন সরকার ‘রুল অব ল’ বা আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সব বিচারিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশমুখী হবে না বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সবার সঙ্গে সমান সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ও খুনের বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন করা হবে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।

আপনার মতামত লিখুন