ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সরকারি দলের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করার ঘোষণাকে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের মূল প্রত্যাশা ছিল সুশাসন, জবাবদিহি ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন। তিনি উল্লেখ করেন, সদ্য ক্ষমতাসীন জোট তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দুর্নীতি প্রতিরোধকে অপরিহার্য পূর্বশর্ত হিসেবে দেখতে হবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি ও জনপ্রতিনিধিত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সদিচ্ছা থাকলেও কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ না হলে উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয়খাত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, দলীয়করণ, ঘুস, করফাঁকি ও অর্থপাচারের ঝুঁকি থেকে যাবে। এতে সরকারের গৃহীত কর্মসূচির সুফল জনগণের কাছে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছানো কঠিন হবে।
তিনি জানান, জুলাই সনদের ৭৪ ধারার আলোকে দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সব জনপ্রতিনিধির নিজ ও পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণী বার্ষিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বেতনভুক্ত সব সরকারি কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট জনবলদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি আরও মনে করে, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনার প্রতিফলন। তবে এই উদ্যোগের পরিপূর্ণ সুফল নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনি ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশলে সরকারি জোট, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ও সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান ও খাতের দায়িত্ব নির্ধারণ করে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সরকারি দলের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করার ঘোষণাকে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের মূল প্রত্যাশা ছিল সুশাসন, জবাবদিহি ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন। তিনি উল্লেখ করেন, সদ্য ক্ষমতাসীন জোট তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দুর্নীতি প্রতিরোধকে অপরিহার্য পূর্বশর্ত হিসেবে দেখতে হবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি ও জনপ্রতিনিধিত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সদিচ্ছা থাকলেও কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ না হলে উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয়খাত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, দলীয়করণ, ঘুস, করফাঁকি ও অর্থপাচারের ঝুঁকি থেকে যাবে। এতে সরকারের গৃহীত কর্মসূচির সুফল জনগণের কাছে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছানো কঠিন হবে।
তিনি জানান, জুলাই সনদের ৭৪ ধারার আলোকে দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সব জনপ্রতিনিধির নিজ ও পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণী বার্ষিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বেতনভুক্ত সব সরকারি কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট জনবলদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি আরও মনে করে, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনার প্রতিফলন। তবে এই উদ্যোগের পরিপূর্ণ সুফল নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনি ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশলে সরকারি জোট, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ও সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান ও খাতের দায়িত্ব নির্ধারণ করে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আপনার মতামত লিখুন