ফিনল্যান্ডের ভিসার কাজে দিল্লি সফরকালে সামাজিক মাধ্যমে হুমকির শিকার হওয়ার পরদিনই বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকাগামী ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ওঠার আগে দিল্লী বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে মাহদীকে আটক করা হয়। আটকের পরপরই তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন।
ভারতস্থ বাংলাদেশ কনসুলেটের এক সূত্র জানিয়েছে, এর আগে মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে হুমকির ঘটনার প্রেক্ষিতে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন মাহদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পরবর্তীতে বুধবার দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। ওইদিন দুপুরে ফিনল্যান্ডের ভিসার জন্য দিল্লির কনট প্লেসে অবস্থিত ভিএফএস গ্লোবাল আবেদন কেন্দ্রে কাগজপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন মাহদী। সেখানে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি তার অগোচরে পেছন থেকে ভিডিও ধারণ করেন। এরপর সেই ভিডিও ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সংশ্লিষ্ট এবং পলাতক আওয়ামী লীগ সমর্থক বিভিন্ন ফেসবুক ও এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পোস্টগুলোতে তাকে 'জুলাইয়ের আত্মস্বীকৃত খুনি' এবং 'সন্ত্রাসী' আখ্যা দিয়ে গ্রেফতারের আহ্বান জানানো হয়।
দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে 'Leo Chyper' নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে মাহদীর অবস্থান, পরিচয় এবং ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। দ্য ডিসেন্ট অনুসন্ধান করে ফেসবুক ও এক্সে মাহদীকে নিয়ে শতাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছে।
হোটেলে ফিরে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মাহদী গণমাধ্যমকে জানান, অপরিচিত নম্বর থেকে অবিরাম কল ও বার্তা আসতে থাকে এবং দরজায় বারবার নক হওয়ায় তিনি তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। তিনি বলেন, "আমি খুব ভয়ে আছি। কে বা কারা আমাকে অনুসরণ করছে আমি কিছু বুঝতে পারছি না। হোটেলে ফেরার পর আমি আর বের হইনি।" বিষয়টি তিনি দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনকে জানান। তবে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ মিটিংয়ে থাকার কথা বলে ফোন রেখে দেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক ভিডিওতে মাহদী হাসান জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে বানিয়াচং থানায় অগ্নিসংযোগ ও একজন এসআইকে পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন। ওই বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার মুক্তির দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা থানার সামনে বিক্ষোভ করেন এবং ঢাকায়ও কেন্দ্রীয়ভাবে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সংগঠনটি নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সবাইকে পহেলা জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানায়।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফিনল্যান্ডের ভিসার কাজে দিল্লি সফরকালে সামাজিক মাধ্যমে হুমকির শিকার হওয়ার পরদিনই বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকাগামী ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ওঠার আগে দিল্লী বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে মাহদীকে আটক করা হয়। আটকের পরপরই তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন।
ভারতস্থ বাংলাদেশ কনসুলেটের এক সূত্র জানিয়েছে, এর আগে মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে হুমকির ঘটনার প্রেক্ষিতে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন মাহদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পরবর্তীতে বুধবার দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। ওইদিন দুপুরে ফিনল্যান্ডের ভিসার জন্য দিল্লির কনট প্লেসে অবস্থিত ভিএফএস গ্লোবাল আবেদন কেন্দ্রে কাগজপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন মাহদী। সেখানে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি তার অগোচরে পেছন থেকে ভিডিও ধারণ করেন। এরপর সেই ভিডিও ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সংশ্লিষ্ট এবং পলাতক আওয়ামী লীগ সমর্থক বিভিন্ন ফেসবুক ও এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পোস্টগুলোতে তাকে 'জুলাইয়ের আত্মস্বীকৃত খুনি' এবং 'সন্ত্রাসী' আখ্যা দিয়ে গ্রেফতারের আহ্বান জানানো হয়।
দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে 'Leo Chyper' নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে মাহদীর অবস্থান, পরিচয় এবং ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। দ্য ডিসেন্ট অনুসন্ধান করে ফেসবুক ও এক্সে মাহদীকে নিয়ে শতাধিক পোস্টের সন্ধান পেয়েছে।
হোটেলে ফিরে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মাহদী গণমাধ্যমকে জানান, অপরিচিত নম্বর থেকে অবিরাম কল ও বার্তা আসতে থাকে এবং দরজায় বারবার নক হওয়ায় তিনি তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। তিনি বলেন, "আমি খুব ভয়ে আছি। কে বা কারা আমাকে অনুসরণ করছে আমি কিছু বুঝতে পারছি না। হোটেলে ফেরার পর আমি আর বের হইনি।" বিষয়টি তিনি দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনকে জানান। তবে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ মিটিংয়ে থাকার কথা বলে ফোন রেখে দেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক ভিডিওতে মাহদী হাসান জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে বানিয়াচং থানায় অগ্নিসংযোগ ও একজন এসআইকে পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন। ওই বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার মুক্তির দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা থানার সামনে বিক্ষোভ করেন এবং ঢাকায়ও কেন্দ্রীয়ভাবে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সংগঠনটি নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সবাইকে পহেলা জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানায়।

আপনার মতামত লিখুন