ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নিখোঁজের তিন দিন পরও উদ্ধার হয়নি যুবক, অপেক্ষায় পরিবার


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নিখোঁজের তিন দিন পরও উদ্ধার হয়নি যুবক, অপেক্ষায় পরিবার

নিখোঁজের তিন দিন পরও উদ্ধার হয়নি যুবক, অপেক্ষায় পরিবার

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হালদা নদীতে পড়ে নিখোঁজের তিন দিন পার হলেও উদ্ধার হয়নি যুবক। এদিকে তার ফিরে আসার অপেক্ষার প্রহর গুণছে পরিবারের সদস্যরা। এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডস্থ রামদাশ মুন্সির হাটের হালদা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

নিখোঁজ সাব্বির (২১) রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মৈশকরমস্থ মানাউল্লাহ চৌধুরী বাড়ির আবদুল মান্নানের ছেলে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিখোঁজ হওয়া ভিকটিমের বড় ভাই মো. টিপু এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাতে রামদাশ মুন্সির হাটে একটি মাজারের ওরসে দুই দল যুবকের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে মধ্যরাতে এক পক্ষ নৌকায় করে রাউজানের বাড়িতে ফেরার পথে অপর পক্ষ হামলা চালায়। নদীতে থাকা নৌকা টেনে ধরে সেখানে ওঠা যুবকদের মারধর করে হামলাকারীরা। এ সময় তিনজন নদীতে পড়ে যান। দুই যুবক সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সাব্বির নামের এক তরুণ তলিয়ে যান। তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে সঙ্গে থাকা অন্যরা জানিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়ে ওই তরুণের সন্ধান পায়নি। নিখোঁজ যুবকের পরিবারের সদস্যরা এখনও হালদা পাড়ে অবস্থান করছেন।

ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা ভিকটিম সাব্বিরের বন্ধু মারুফ জানায়, পথে হামলার শিকার হলে নৌকা থেকে সেও লাফ দেয়। তাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা সাঁতার কেটে কূলে উঠতে পারলেও সাব্বির উঠতে পারেনি। পরে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, দুই গ্রুপের পূর্বের একটি দ্বন্দ্বের কারণে গতকাল রাতে এ হামলা হয়। হামলার এক পর্যায়ে সে নদীতে লাফ দিয়ে আর উঠতে পারেনি।

ভিকটিম সাব্বিরের আপন চাচাতো ভাই মো. টিপু জানান, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কারা এ হামলা চালিয়েছে তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মার্দাশা রামদাশ মুন্সির হাট নৌ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রমজান জানান, খবর পাওয়ার পর থেকে নদীতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আবদুল মান্নান জানান, জেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী ৬ জনের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নিখোঁজের তিন দিন পরও উদ্ধার হয়নি যুবক, অপেক্ষায় পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

নিখোঁজের তিন দিন পরও উদ্ধার হয়নি যুবক, অপেক্ষায় পরিবার

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হালদা নদীতে পড়ে নিখোঁজের তিন দিন পার হলেও উদ্ধার হয়নি যুবক। এদিকে তার ফিরে আসার অপেক্ষার প্রহর গুণছে পরিবারের সদস্যরা। এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডস্থ রামদাশ মুন্সির হাটের হালদা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

নিখোঁজ সাব্বির (২১) রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মৈশকরমস্থ মানাউল্লাহ চৌধুরী বাড়ির আবদুল মান্নানের ছেলে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিখোঁজ হওয়া ভিকটিমের বড় ভাই মো. টিপু এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাতে রামদাশ মুন্সির হাটে একটি মাজারের ওরসে দুই দল যুবকের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে মধ্যরাতে এক পক্ষ নৌকায় করে রাউজানের বাড়িতে ফেরার পথে অপর পক্ষ হামলা চালায়। নদীতে থাকা নৌকা টেনে ধরে সেখানে ওঠা যুবকদের মারধর করে হামলাকারীরা। এ সময় তিনজন নদীতে পড়ে যান। দুই যুবক সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সাব্বির নামের এক তরুণ তলিয়ে যান। তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে সঙ্গে থাকা অন্যরা জানিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়ে ওই তরুণের সন্ধান পায়নি। নিখোঁজ যুবকের পরিবারের সদস্যরা এখনও হালদা পাড়ে অবস্থান করছেন।

ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা ভিকটিম সাব্বিরের বন্ধু মারুফ জানায়, পথে হামলার শিকার হলে নৌকা থেকে সেও লাফ দেয়। তাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা সাঁতার কেটে কূলে উঠতে পারলেও সাব্বির উঠতে পারেনি। পরে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, দুই গ্রুপের পূর্বের একটি দ্বন্দ্বের কারণে গতকাল রাতে এ হামলা হয়। হামলার এক পর্যায়ে সে নদীতে লাফ দিয়ে আর উঠতে পারেনি।

ভিকটিম সাব্বিরের আপন চাচাতো ভাই মো. টিপু জানান, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কারা এ হামলা চালিয়েছে তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মার্দাশা রামদাশ মুন্সির হাট নৌ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রমজান জানান, খবর পাওয়ার পর থেকে নদীতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আবদুল মান্নান জানান, জেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী ৬ জনের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ