১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভার আকার ও সম্ভাব্য সদস্যদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণ কতটা থাকবে এবং সমমনা দলগুলোর প্রতিনিধিদের রাখা হবে কি না—এসব প্রশ্ন ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের পক্ষে প্রচারণা চোখে পড়ছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার আকার বা গঠন নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের তুলনায় আকারে অনেকটাই ছোট হতে পারে। মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমালে প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নতুন মন্ত্রিসভা নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত হচ্ছে বলেও তারা আভাস দিয়েছেন।
নিজ দলের বাইরে নির্বাচনে জয়ী সমমনা দলের নেতাদেরও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে তাদের শপথ পড়াবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই দিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতে পারেন।
বর্তমানে দেশে ৪৩টি মন্ত্রণালয় রয়েছে। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, পূর্ববর্তী সময়ে ভেঙে আলাদা করা কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে পুনরায় একীভূত করার চিন্তা রয়েছে। একই খাতের অধীনস্থ মন্ত্রণালয়গুলোকে এক ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয় একীভূত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্রের ধারণা, নতুন মন্ত্রিসভায় প্রায় দুই ডজন পূর্ণমন্ত্রী থাকতে পারেন। পাশাপাশি এক ডজনের মতো উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রাখার সম্ভাবনাও রয়েছে।
মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তুলনামূলক কম বিতর্কিত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে মেধাবী তরুণদের উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আলোচনায় থাকা সিনিয়র নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরও কয়েকজন।
নারী নেতৃত্বের মধ্যে সেলিমা রহমান ও শামা ওবায়েদের নামও আলোচনায় রয়েছে। শামা ওবায়েদ এবারের নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে জয় পেয়েছেন। তরুণদের মধ্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ইশরাক হোসেনের নাম প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
মিত্র দলগুলোর মধ্যে ঢাকা-১৩ থেকে ববি হাজ্জাজ এবং লক্ষ্মীপুর-১ থেকে শাহাদাত হোসেন সেলিম জয় পেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে তাদের নামও আলোচনায় আছে। এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর বিজয়ী নেতাদের মধ্যে আন্দালিভ রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রের আভাস।
অন্যদিকে, যারা সরাসরি মন্ত্রিসভায় থাকছেন না, তাদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হতে পারেন। নজরুল ইসলাম খানকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন, তা শপথ অনুষ্ঠানের পরই পরিষ্কার হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভার আকার ও সম্ভাব্য সদস্যদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণ কতটা থাকবে এবং সমমনা দলগুলোর প্রতিনিধিদের রাখা হবে কি না—এসব প্রশ্ন ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের পক্ষে প্রচারণা চোখে পড়ছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার আকার বা গঠন নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের তুলনায় আকারে অনেকটাই ছোট হতে পারে। মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমালে প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নতুন মন্ত্রিসভা নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত হচ্ছে বলেও তারা আভাস দিয়েছেন।
নিজ দলের বাইরে নির্বাচনে জয়ী সমমনা দলের নেতাদেরও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে তাদের শপথ পড়াবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই দিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতে পারেন।
বর্তমানে দেশে ৪৩টি মন্ত্রণালয় রয়েছে। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, পূর্ববর্তী সময়ে ভেঙে আলাদা করা কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে পুনরায় একীভূত করার চিন্তা রয়েছে। একই খাতের অধীনস্থ মন্ত্রণালয়গুলোকে এক ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয় একীভূত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্রের ধারণা, নতুন মন্ত্রিসভায় প্রায় দুই ডজন পূর্ণমন্ত্রী থাকতে পারেন। পাশাপাশি এক ডজনের মতো উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রাখার সম্ভাবনাও রয়েছে।
মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তুলনামূলক কম বিতর্কিত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে মেধাবী তরুণদের উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আলোচনায় থাকা সিনিয়র নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরও কয়েকজন।
নারী নেতৃত্বের মধ্যে সেলিমা রহমান ও শামা ওবায়েদের নামও আলোচনায় রয়েছে। শামা ওবায়েদ এবারের নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে জয় পেয়েছেন। তরুণদের মধ্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ইশরাক হোসেনের নাম প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
মিত্র দলগুলোর মধ্যে ঢাকা-১৩ থেকে ববি হাজ্জাজ এবং লক্ষ্মীপুর-১ থেকে শাহাদাত হোসেন সেলিম জয় পেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে তাদের নামও আলোচনায় আছে। এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর বিজয়ী নেতাদের মধ্যে আন্দালিভ রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রের আভাস।
অন্যদিকে, যারা সরাসরি মন্ত্রিসভায় থাকছেন না, তাদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হতে পারেন। নজরুল ইসলাম খানকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন, তা শপথ অনুষ্ঠানের পরই পরিষ্কার হবে।

আপনার মতামত লিখুন