ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় স্বামীর নিষেধ অমান্য করার কারণে ফেনী সদর উপজেলার বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে তার স্বামী তালাক দিয়েছেন এমন ঘটনা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গৃহবধূ জহুরা ও তার তিন সন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিহারপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর এলাকায় স্বামীর নিষেধ উপেক্ষা করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ইসমাইল হোসেন কাওসার তার স্ত্রী জহুরাকে মৌখিকভাবে তালাক দেন। এরপর জহুরা তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়ে স্থানীয়দের মধ্যে টেনশনের পরিস্থিতিতে বাড়ি ত্যাগ করেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিএনপি‑র “আমরা বিএনপি পরিবার” সংগঠনের প্রতিনিধিদল জহুরার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে তার খোঁজ‑খবর নেয় এবং তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। দলের নেতারা জহুরার সন্তানদের পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচে সহায়তা করার আশ্বাস দেন।
জহুরা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগে তিনি কোনো ভুল করেননি। স্বামী ও পরিবারের কঠোর সিদ্ধান্তের পরও তিনি রাজনৈতিক মতামত ও ভোটাধিকার নিয়ে নিজের অবস্থান সমর্থন করেন এবং বিএনপি‑র সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ভোটাধিকার প্রয়োগের কারণে কোনো নাগরিক বিশেষ করে নারীকে শাস্তির মুখে পড়তে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনায় তারা জহুরা ও তার পরিবারকে সহায়তা করবে এবং সেই সহায়তা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এবং দেশের অন্যান্য জায়গায়ও আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সমালোচক মনে করেন, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সমাজে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। সমাজের কিছু অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি মানুষের আইনগত অধিকার নিয়ে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।
এই ঘটনার ফলে ভোটাধিকার ও নারীর স্বাধীনতা বিষয়টি আবারও দেশের রাজনীতিসহ সামাজিক পরিসরে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপি‑র পদক্ষেপ জহুরা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এক উদাহরণ হিসেবে উঁচু হয়েছে, যেখানে দলটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, মানবিক সহায়তা প্রদানের কথাও জানিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন