ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অচেনা শফিকুর রহমান এখন বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বীতায়


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অচেনা শফিকুর রহমান এখন বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বীতায়


দীর্ঘদিন প্রান্তিক রাজনীতিতে অবস্থান করা ডা. শফিকুর রহমান এখন দেশের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। ৬৭ বছর বয়সী চিকিৎসক ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ছবি রাজধানীর দেয়াল ও বিলবোর্ডে ছড়িয়ে পড়েছে। অচেনা থেকে এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাংলাদেশে প্রায় ৯১ শতাংশ মুসলিম বাস করে এবং সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা আছে।

শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরুতে কম পরিচিত ছিল। হাসিনার শাসনামলে জামায়াতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আদালত দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এতে দীর্ঘদিন গোপনে কাজ করা দলটি পুনরায় প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করে।

জামায়াত দ্রুত মাঠে আসে, দাতব্য ও বন্যা-ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে। শফিকুর রহমানের সাদা দাড়ি ও সাদা পোশাক তাকে দৃশ্যমান এবং পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। ডিসেম্বরে রয়টার্সকে তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের পর আমরা আবার সামনে আসার সুযোগ পেয়েছি।”

শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত জীবনও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেন, চিকিৎসক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন এবং একটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান। স্ত্রী ও সন্তানরা চিকিৎসক। ১৯৮৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন, ২০২০ সালে দলের আমির হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর শফিকুর রহমান রাজনৈতিক শূন্যতা কাজে লাগিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, “তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন, আর দেশে দৃশ্যমান নেতা ছিলেন না। শফিকুর রহমান সারাদেশ ঘুরেছেন, গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছেন এবং দুই বছরের মধ্যেই শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেছেন।”

প্রচারণার মাধ্যমে তিনি জামায়াতকে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক, সৎ ও নৈতিক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছেন। দলটি ডিসেম্বর মাসে জেন জি–নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সঙ্গে জোট করেছে, যা তরুণ ও মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দিয়েছে।

শফিকুর রহমান দলকে মধ্যপন্থী ও নমনীয়ভাবে উপস্থাপন করছেন। তিনি দুর্নীতি দমন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সমান আচরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে নারীদের বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্যও এসেছে; জামায়াত এবার কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং তিনি বলেছেন, নারীদের দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করা উচিত নয়।

শফিকুর রহমানের নিজস্ব বক্তব্যে, “আমাদের নীতিগুলো ইসলামী মূল্যবোধ এবং কুরআনের ভিত্তিতে। কুরআন কেবল মুসলমানদের জন্য নয়, এটি সকল সৃষ্টির জন্য।”

শফিকুর রহমানের দ্রুত উত্থান, রাজনৈতিক শূন্যতা কাজে লাগানো এবং মাঠে সক্রিয় প্রচারণা তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


অচেনা শফিকুর রহমান এখন বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বীতায়

প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


দীর্ঘদিন প্রান্তিক রাজনীতিতে অবস্থান করা ডা. শফিকুর রহমান এখন দেশের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। ৬৭ বছর বয়সী চিকিৎসক ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ছবি রাজধানীর দেয়াল ও বিলবোর্ডে ছড়িয়ে পড়েছে। অচেনা থেকে এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাংলাদেশে প্রায় ৯১ শতাংশ মুসলিম বাস করে এবং সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা আছে।

শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরুতে কম পরিচিত ছিল। হাসিনার শাসনামলে জামায়াতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আদালত দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এতে দীর্ঘদিন গোপনে কাজ করা দলটি পুনরায় প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করে।

জামায়াত দ্রুত মাঠে আসে, দাতব্য ও বন্যা-ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে। শফিকুর রহমানের সাদা দাড়ি ও সাদা পোশাক তাকে দৃশ্যমান এবং পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। ডিসেম্বরে রয়টার্সকে তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের পর আমরা আবার সামনে আসার সুযোগ পেয়েছি।”

শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত জীবনও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেন, চিকিৎসক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন এবং একটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান। স্ত্রী ও সন্তানরা চিকিৎসক। ১৯৮৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন, ২০২০ সালে দলের আমির হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর শফিকুর রহমান রাজনৈতিক শূন্যতা কাজে লাগিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, “তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন, আর দেশে দৃশ্যমান নেতা ছিলেন না। শফিকুর রহমান সারাদেশ ঘুরেছেন, গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছেন এবং দুই বছরের মধ্যেই শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেছেন।”

প্রচারণার মাধ্যমে তিনি জামায়াতকে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক, সৎ ও নৈতিক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছেন। দলটি ডিসেম্বর মাসে জেন জি–নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সঙ্গে জোট করেছে, যা তরুণ ও মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দিয়েছে।

শফিকুর রহমান দলকে মধ্যপন্থী ও নমনীয়ভাবে উপস্থাপন করছেন। তিনি দুর্নীতি দমন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সমান আচরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে নারীদের বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্যও এসেছে; জামায়াত এবার কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং তিনি বলেছেন, নারীদের দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করা উচিত নয়।

শফিকুর রহমানের নিজস্ব বক্তব্যে, “আমাদের নীতিগুলো ইসলামী মূল্যবোধ এবং কুরআনের ভিত্তিতে। কুরআন কেবল মুসলমানদের জন্য নয়, এটি সকল সৃষ্টির জন্য।”

শফিকুর রহমানের দ্রুত উত্থান, রাজনৈতিক শূন্যতা কাজে লাগানো এবং মাঠে সক্রিয় প্রচারণা তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ