আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। সে কারণে সরকারের অর্জন ও ব্যর্থতা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সরকারের প্রধান তিনটি লক্ষ্য ছিল—সংবিধানসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন আয়োজন। এসব বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে সরকার দাবি করছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরকার কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখালেও সব লক্ষ্য পূরণে পুরোপুরি সফল হয়নি। তারা মনে করেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কিছুটা সাফল্য পেয়েছে এবং সংস্কার কার্যক্রমও আংশিকভাবে এগিয়েছে। কিন্তু সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও বিভিন্ন চাপের কারণে সংস্কার প্রক্রিয়া কিছু ক্ষেত্রে দিকভ্রষ্ট হয়েছে।
বিচার প্রসঙ্গে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, এটি প্রকৃত বিচার নাকি রাজনৈতিক প্রতিশোধ—এই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া শুরু থেকেই ‘মব সংস্কৃতি’ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সরকার একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং নারীর সমতার বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। অনেকের মতে, এই সময়কালে সামাজিক খাতে বড় ধরনের পিছিয়ে পড়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সরকার তুলনামূলক ভালো করেছে, তবে সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যর্থতা স্পষ্ট। রাজনৈতিক দিক থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের পথে এগিয়ে যাওয়াকেও তিনি সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। সে কারণে সরকারের অর্জন ও ব্যর্থতা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সরকারের প্রধান তিনটি লক্ষ্য ছিল—সংবিধানসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন আয়োজন। এসব বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে সরকার দাবি করছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরকার কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখালেও সব লক্ষ্য পূরণে পুরোপুরি সফল হয়নি। তারা মনে করেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কিছুটা সাফল্য পেয়েছে এবং সংস্কার কার্যক্রমও আংশিকভাবে এগিয়েছে। কিন্তু সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও বিভিন্ন চাপের কারণে সংস্কার প্রক্রিয়া কিছু ক্ষেত্রে দিকভ্রষ্ট হয়েছে।
বিচার প্রসঙ্গে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, এটি প্রকৃত বিচার নাকি রাজনৈতিক প্রতিশোধ—এই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া শুরু থেকেই ‘মব সংস্কৃতি’ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সরকার একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং নারীর সমতার বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। অনেকের মতে, এই সময়কালে সামাজিক খাতে বড় ধরনের পিছিয়ে পড়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সরকার তুলনামূলক ভালো করেছে, তবে সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যর্থতা স্পষ্ট। রাজনৈতিক দিক থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের পথে এগিয়ে যাওয়াকেও তিনি সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখেন।

আপনার মতামত লিখুন