২০২৬ সালের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে অন্তত ৩৪ শতাংশ প্রার্থী নির্ধারিত ব্যয়সীমা অতিক্রম করেছেন এবং ৮১ শতাংশ প্রার্থী প্রচারণাসামগ্রী অপসারণের নির্দেশ অমান্য করেছেন—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি (রোববার) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবি অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রাক-নির্বাচন এবং গণভোট পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও গবেষক মো. মাহফুজুল হক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেন এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে অন্তত ৩৪ শতাংশ প্রার্থী গড়ে এক কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৩১০ টাকা ব্যয় করেছেন, যা নির্ধারিত সীমার বাইরে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা সত্ত্বেও ৮১ দশমিক ৩ শতাংশ প্রার্থী মাঠ থেকে প্রচারণাসামগ্রী অপসারণ করেননি। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।
টিআইবি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটির মতে, প্রাক-নির্বাচন পর্যায়ে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে জনআস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ৫৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও এসব এলাকায় কার্যকর প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত’ উল্লেখ করে টিআইবি জানায়, ৮১টি সংস্থার অধীনে নিবন্ধিত ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে ১৭টি সংস্থা থেকেই ৬৪ শতাংশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। এমনকি অফিসবিহীন একটি প্রতিষ্ঠান থেকেও ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যয়ভার নির্বাচন কমিশনের বহনের সিদ্ধান্তকেও কর্তৃত্ববাদী আমলের চর্চার ধারাবাহিকতা হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে।
প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই নিয়েও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে জানিয়েছে টিআইবি। আয়-ব্যয়, দ্বৈত নাগরিকত্ব, বিদেশে সম্পদ ও ঋণসংক্রান্ত তথ্যের অসংগতি থাকা সত্ত্বেও কার্যকর যাচাই হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, অন্তত ৪৫ জন ঋণগ্রস্ত প্রার্থী আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রমে পুরোনো রাজনৈতিক চর্চা অব্যাহত থাকায় দল ও জোটের মধ্যে সংঘাত, অন্তঃকোন্দল ও সহিংসতা বাড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, অর্থ, ধর্ম ও পেশিশক্তির ব্যবহার এখনও নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও কোনো রাজনৈতিক দল তা অনুসরণ করেনি বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়হীন সিদ্ধান্তের কারণে গণভোট নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে টিআইবি মন্তব্য করেছে। গণভোটের অর্থায়ন, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং সরকারি কর্মচারীদের প্রচারণায় যুক্ত করার নির্দেশনার আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।
টিআইবি মনে করছে, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রস্তুতি ও কার্যকর উদ্যোগে ঘাটতি রয়েছে। সংস্থাটি আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ, পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৬ সালের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে অন্তত ৩৪ শতাংশ প্রার্থী নির্ধারিত ব্যয়সীমা অতিক্রম করেছেন এবং ৮১ শতাংশ প্রার্থী প্রচারণাসামগ্রী অপসারণের নির্দেশ অমান্য করেছেন—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি (রোববার) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবি অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রাক-নির্বাচন এবং গণভোট পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও গবেষক মো. মাহফুজুল হক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেন এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে অন্তত ৩৪ শতাংশ প্রার্থী গড়ে এক কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৩১০ টাকা ব্যয় করেছেন, যা নির্ধারিত সীমার বাইরে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা সত্ত্বেও ৮১ দশমিক ৩ শতাংশ প্রার্থী মাঠ থেকে প্রচারণাসামগ্রী অপসারণ করেননি। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।
টিআইবি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটির মতে, প্রাক-নির্বাচন পর্যায়ে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে জনআস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ৫৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও এসব এলাকায় কার্যকর প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত’ উল্লেখ করে টিআইবি জানায়, ৮১টি সংস্থার অধীনে নিবন্ধিত ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে ১৭টি সংস্থা থেকেই ৬৪ শতাংশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। এমনকি অফিসবিহীন একটি প্রতিষ্ঠান থেকেও ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যয়ভার নির্বাচন কমিশনের বহনের সিদ্ধান্তকেও কর্তৃত্ববাদী আমলের চর্চার ধারাবাহিকতা হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে।
প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই নিয়েও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে জানিয়েছে টিআইবি। আয়-ব্যয়, দ্বৈত নাগরিকত্ব, বিদেশে সম্পদ ও ঋণসংক্রান্ত তথ্যের অসংগতি থাকা সত্ত্বেও কার্যকর যাচাই হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, অন্তত ৪৫ জন ঋণগ্রস্ত প্রার্থী আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রমে পুরোনো রাজনৈতিক চর্চা অব্যাহত থাকায় দল ও জোটের মধ্যে সংঘাত, অন্তঃকোন্দল ও সহিংসতা বাড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, অর্থ, ধর্ম ও পেশিশক্তির ব্যবহার এখনও নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও কোনো রাজনৈতিক দল তা অনুসরণ করেনি বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়হীন সিদ্ধান্তের কারণে গণভোট নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে টিআইবি মন্তব্য করেছে। গণভোটের অর্থায়ন, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং সরকারি কর্মচারীদের প্রচারণায় যুক্ত করার নির্দেশনার আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।
টিআইবি মনে করছে, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রস্তুতি ও কার্যকর উদ্যোগে ঘাটতি রয়েছে। সংস্থাটি আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ, পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন