ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বগুড়ায় সমিতির নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ টাকা ফেরতের দাবিতে সাতমাথায় মানববন্ধন


মোঃ মতিন খন্দকার
মোঃ মতিন খন্দকার বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বগুড়ায় সমিতির নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ টাকা ফেরতের দাবিতে সাতমাথায় মানববন্ধন

বগুড়ায় অগ্রসর যুব উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে গ্রাহকদের প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারসহ সংশ্লিষ্টরা গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকা ফেরত না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আশিকুর রহমান (শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার হাট দক্ষিণপাড়া এলাকার আব্দুল বারীর ছেলে) বিভিন্ন লোভনীয় লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে হাজারো গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। পরে নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় বন্ধ করে তিনি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা পালিয়ে যান।

এর আগে একই দাবিতে গত সোমবার কাটনারপাড়া শিববাটি বিগবাজার এলাকায় প্রতিষ্ঠানের সামনে সড়ক অবরোধ করেন গ্রাহকরা। পরে ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাবিনা আহম্মেদ বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় আশিকুর রহমানসহ আটজনের নাম উল্লেখ এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, বিভিন্ন লভ্যাংশের আশায় তারা দীর্ঘদিন ধরে কষ্টার্জিত অর্থ জমা রেখেছিলেন। পীরগাছা এলাকার রওজা বেগম জানান, টিউশনি করে আয় করা টাকা থেকে তিনি প্রতিদিন ৪০ টাকা করে চারটি হিসাবে এক বছর জমা রাখেন। একই সঙ্গে তার মা গবাদিপশু পালন করে জমানো এক লাখ টাকা সেখানে বিনিয়োগ করেন।

বৃন্দাবনপাড়া এলাকার গৃহকর্মী পারুল বেগম বলেন, মানুষের বাসায় কাজ করে পাওয়া আয়ের একটি অংশ তিনি ওই সমিতিতে জমা রাখেন। অপর ভুক্তভোগী মুস্তারী জাহান জানান, মাসিক লভ্যাংশের আশায় তিনি তার বোন ও আত্মীয়দের নিয়ে মোট ১৬ লাখ টাকা জমা দেন। বারোপুর এলাকার মনোয়ারা বেগম তার প্রবাসী ছেলের পাঠানো চার লাখ টাকা জমা রাখেন বলে জানান। গ্রাহকদের অভিযোগ, টাকা জমার এক বছর পূর্ণ হলে সমিতির কর্তৃপক্ষ হিসাবের বহি জমা নিয়ে টাকা দেওয়ার নামে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরে হঠাৎ করেই অফিস বন্ধ করে কর্মকর্তারা গা-ঢাকা দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটককৃতরা হলেন বাদুরতলা এলাকার তৌফিক হাসান (৩৩), ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকার রেজাউল করিম (৫০) ও আশিকুর রহমানের স্ত্রী রিতু জাহান (২৯)। মামলায় আরও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন সুমনা আক্তার (৪৫), রোজিনা বেগম (৩৫), মো. রাহাত (৩৭), তৌফিক হাসান (৩৩) ও মো. জাহিদুল (৩৬)।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের জমা রাখা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। তবে মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বগুড়ায় সমিতির নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ টাকা ফেরতের দাবিতে সাতমাথায় মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বগুড়ায় অগ্রসর যুব উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে গ্রাহকদের প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারসহ সংশ্লিষ্টরা গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকা ফেরত না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আশিকুর রহমান (শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার হাট দক্ষিণপাড়া এলাকার আব্দুল বারীর ছেলে) বিভিন্ন লোভনীয় লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে হাজারো গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। পরে নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় বন্ধ করে তিনি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা পালিয়ে যান।

এর আগে একই দাবিতে গত সোমবার কাটনারপাড়া শিববাটি বিগবাজার এলাকায় প্রতিষ্ঠানের সামনে সড়ক অবরোধ করেন গ্রাহকরা। পরে ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাবিনা আহম্মেদ বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় আশিকুর রহমানসহ আটজনের নাম উল্লেখ এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, বিভিন্ন লভ্যাংশের আশায় তারা দীর্ঘদিন ধরে কষ্টার্জিত অর্থ জমা রেখেছিলেন। পীরগাছা এলাকার রওজা বেগম জানান, টিউশনি করে আয় করা টাকা থেকে তিনি প্রতিদিন ৪০ টাকা করে চারটি হিসাবে এক বছর জমা রাখেন। একই সঙ্গে তার মা গবাদিপশু পালন করে জমানো এক লাখ টাকা সেখানে বিনিয়োগ করেন।

বৃন্দাবনপাড়া এলাকার গৃহকর্মী পারুল বেগম বলেন, মানুষের বাসায় কাজ করে পাওয়া আয়ের একটি অংশ তিনি ওই সমিতিতে জমা রাখেন। অপর ভুক্তভোগী মুস্তারী জাহান জানান, মাসিক লভ্যাংশের আশায় তিনি তার বোন ও আত্মীয়দের নিয়ে মোট ১৬ লাখ টাকা জমা দেন। বারোপুর এলাকার মনোয়ারা বেগম তার প্রবাসী ছেলের পাঠানো চার লাখ টাকা জমা রাখেন বলে জানান। গ্রাহকদের অভিযোগ, টাকা জমার এক বছর পূর্ণ হলে সমিতির কর্তৃপক্ষ হিসাবের বহি জমা নিয়ে টাকা দেওয়ার নামে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরে হঠাৎ করেই অফিস বন্ধ করে কর্মকর্তারা গা-ঢাকা দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটককৃতরা হলেন বাদুরতলা এলাকার তৌফিক হাসান (৩৩), ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া এলাকার রেজাউল করিম (৫০) ও আশিকুর রহমানের স্ত্রী রিতু জাহান (২৯)। মামলায় আরও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন সুমনা আক্তার (৪৫), রোজিনা বেগম (৩৫), মো. রাহাত (৩৭), তৌফিক হাসান (৩৩) ও মো. জাহিদুল (৩৬)।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের জমা রাখা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। তবে মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ