বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিকে একটি ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে অভিহিত করে এর টেকসই সমাধানে রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতারা। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘জাস্ট নিউজ এনার্জি’ আয়োজিত এক সেমিনারে তারা বলেন, গত দেড় দশকের লুটপাট, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং আত্মঘাতী আমদানিনির্ভরতার কারণে এই খাতটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কোনো একক সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় বিধায় একটি জাতীয় ঐকমত্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পথনির্দেশনা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
সেমিনারে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এবং সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী দেশের জ্বালানি খাতের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে যে, গত ১৬ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানে স্থবিরতা বজায় রাখা হয়েছিল কেবল আমদানিনির্ভরতাকে উসকে দিতে। ভারতের আদানির সঙ্গে করা চুক্তিকে অপ্রতিযোগিতামূলক ও আত্মঘাতী হিসেবে উল্লেখ করে জানানো হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন চারগুণ বাড়লেও আদানির পাওনা বেড়েছে ১১ গুণ। এর ফলে ২০২৫ সাল নাগাদ এই খাতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যা ডলার সংকটের এই সময়ে অর্থনীতির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।
রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকার এই খাতকে সুপরিকল্পিতভাবে লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাঁরা মনে করেন, সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে নীতি বদলানোর কারণে সমস্যা না কমে বরং বাড়ছে। তাই জ্বালানির মতো কৌশলগত ও মৌলিক ইস্যুতে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি সাধারণ অঙ্গীকার থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম সতর্ক করে বলেন যে, আগামী সরকারকে অত্যন্ত কঠিন এবং রাজনৈতিকভাবে জটিল কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তবে হুট করে কোনো চুক্তি বাতিল করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে জনভোগান্তি বাড়ার ঝুঁকিও মাথায় রাখতে হবে।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে সেমিনার থেকে বেশ কিছু টেকসই সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে রপ্তানি খাতের আন্তর্জাতিক শর্ত পূরণে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং এলএনজি আমদানির বিকল্প হিসেবে দেশের স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা। এছাড়া বিতর্কিত ও অসম বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করার পাশাপাশি নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চেয়ে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে শিল্পায়ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিকে একটি ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে অভিহিত করে এর টেকসই সমাধানে রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতারা। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘জাস্ট নিউজ এনার্জি’ আয়োজিত এক সেমিনারে তারা বলেন, গত দেড় দশকের লুটপাট, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং আত্মঘাতী আমদানিনির্ভরতার কারণে এই খাতটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কোনো একক সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় বিধায় একটি জাতীয় ঐকমত্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পথনির্দেশনা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
সেমিনারে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এবং সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী দেশের জ্বালানি খাতের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে যে, গত ১৬ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানে স্থবিরতা বজায় রাখা হয়েছিল কেবল আমদানিনির্ভরতাকে উসকে দিতে। ভারতের আদানির সঙ্গে করা চুক্তিকে অপ্রতিযোগিতামূলক ও আত্মঘাতী হিসেবে উল্লেখ করে জানানো হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন চারগুণ বাড়লেও আদানির পাওনা বেড়েছে ১১ গুণ। এর ফলে ২০২৫ সাল নাগাদ এই খাতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যা ডলার সংকটের এই সময়ে অর্থনীতির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।
রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকার এই খাতকে সুপরিকল্পিতভাবে লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাঁরা মনে করেন, সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে নীতি বদলানোর কারণে সমস্যা না কমে বরং বাড়ছে। তাই জ্বালানির মতো কৌশলগত ও মৌলিক ইস্যুতে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি সাধারণ অঙ্গীকার থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম সতর্ক করে বলেন যে, আগামী সরকারকে অত্যন্ত কঠিন এবং রাজনৈতিকভাবে জটিল কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তবে হুট করে কোনো চুক্তি বাতিল করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে জনভোগান্তি বাড়ার ঝুঁকিও মাথায় রাখতে হবে।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে সেমিনার থেকে বেশ কিছু টেকসই সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে রপ্তানি খাতের আন্তর্জাতিক শর্ত পূরণে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং এলএনজি আমদানির বিকল্প হিসেবে দেশের স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা। এছাড়া বিতর্কিত ও অসম বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করার পাশাপাশি নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চেয়ে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে শিল্পায়ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

আপনার মতামত লিখুন