আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান শ্রমিক কর্মবিরতি এখন জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দেশের সরবরাহব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। শিল্পকারখানার কাঁচামাল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের প্রবাহে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
জাহাজজট ও পণ্য সরবরাহে স্থবিরতা বন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্দরে জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় থাকা জাহাজের সংখ্যা ১২০টি ছাড়িয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে অন্তত ৩৫টি জাহাজে রয়েছে রমজান মাসের অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য—যেমন খেজুর, ডাল, ছোলা, চিনি ও ভোজ্যতেল। ধর্মঘট শুরুর পর পণ্য খালাস কার্যক্রম অর্ধেকে নেমে আসায় এই সপ্তাহে পণ্যগুলো বাজারে না পৌঁছালে ভয়াবহ সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যয় বাড়ছে, চাপ পড়বে ভোক্তার ওপর বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জুয়েল জানান, একটি বড় জাহাজ একদিন বন্দরে বসে থাকলে গড়ে ২০ হাজার ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়। এই বিশাল অঙ্কের স্টোরেজ চার্জ ও ডেমারেজ শেষ পর্যন্ত আমদানিকারকরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তার পকেট থেকেই আদায় করবেন। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়েও ইতিমধ্যে শতকোটি টাকার ক্ষতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
শ্রমিকদের অনড় অবস্থান ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বন্দরকে বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়া হবে না—এমন স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। স্কপ নেতা শেখ নুরুল্লাহ বাহারের দাবি, জাতীয় স্বার্থেই এই টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে এক মাসের জন্য বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া আন্দোলনের অভিযোগে কয়েকজন কর্মচারীকে বদলি এবং ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, "পাঁচদিনের বেশি বন্দর বন্ধ রয়েছে, অথচ কারো কোনো মাথাব্যথা নেই—এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।" উল্লেখ্য, যে চুক্তিকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতা, সেই ১ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত চুক্তিটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত হলেও শ্রমিকরা তাঁদের অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি থেকে সরে আসেননি। বন্দর মুখপাত্র ওমর ফারুক জানিয়েছেন, শ্রমিকরা কাজে না ফিরলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান শ্রমিক কর্মবিরতি এখন জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দেশের সরবরাহব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। শিল্পকারখানার কাঁচামাল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের প্রবাহে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
জাহাজজট ও পণ্য সরবরাহে স্থবিরতা বন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্দরে জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় থাকা জাহাজের সংখ্যা ১২০টি ছাড়িয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে অন্তত ৩৫টি জাহাজে রয়েছে রমজান মাসের অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য—যেমন খেজুর, ডাল, ছোলা, চিনি ও ভোজ্যতেল। ধর্মঘট শুরুর পর পণ্য খালাস কার্যক্রম অর্ধেকে নেমে আসায় এই সপ্তাহে পণ্যগুলো বাজারে না পৌঁছালে ভয়াবহ সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যয় বাড়ছে, চাপ পড়বে ভোক্তার ওপর বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জুয়েল জানান, একটি বড় জাহাজ একদিন বন্দরে বসে থাকলে গড়ে ২০ হাজার ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়। এই বিশাল অঙ্কের স্টোরেজ চার্জ ও ডেমারেজ শেষ পর্যন্ত আমদানিকারকরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তার পকেট থেকেই আদায় করবেন। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়েও ইতিমধ্যে শতকোটি টাকার ক্ষতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
শ্রমিকদের অনড় অবস্থান ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বন্দরকে বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়া হবে না—এমন স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। স্কপ নেতা শেখ নুরুল্লাহ বাহারের দাবি, জাতীয় স্বার্থেই এই টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে এক মাসের জন্য বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া আন্দোলনের অভিযোগে কয়েকজন কর্মচারীকে বদলি এবং ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, "পাঁচদিনের বেশি বন্দর বন্ধ রয়েছে, অথচ কারো কোনো মাথাব্যথা নেই—এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।" উল্লেখ্য, যে চুক্তিকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতা, সেই ১ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত চুক্তিটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত হলেও শ্রমিকরা তাঁদের অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি থেকে সরে আসেননি। বন্দর মুখপাত্র ওমর ফারুক জানিয়েছেন, শ্রমিকরা কাজে না ফিরলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

আপনার মতামত লিখুন