ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

গণভোটের প্রচারে ছয় মন্ত্রণালয়কে ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

গণভোটের প্রচারে ছয় মন্ত্রণালয়কে ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে সাংবিধানিক গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনি ব্যয়কে বড় অংকের বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে। জাতীয় নির্বাচনের নিয়মিত বাজেটের সঙ্গে গণভোটের অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হওয়ায় এবার মোট নির্বাচনি ব্যয় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে কেবল গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের জন্য ছয়টি মন্ত্রণালয়কে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাজেট শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গণভোটের গুরুত্ব জনগণের কাছে তুলে ধরতে ছয়টি মন্ত্রণালয় এই বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করবে। বরাদ্দের বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ ছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪৬ কোটি টাকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৭ কোটি টাকা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। ইসির নিজস্ব জনসংযোগ শাখা থেকেও গণভোটের প্রচারে আরও ৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানান, প্রাথমিকভাবে সংসদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলেও পরে গণভোটের নির্দেশনা আসায় অতিরিক্ত ১ হাজার ৭০ কোটি টাকার চাহিদা পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, গণভোটের ব্যালট পেপার মুদ্রণ ও সরঞ্জাম কেনাকাটা ইসি সরাসরি করলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারের জন্য এই অর্থ উপ-বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচনের সার্বিক ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে মাঠপর্যায়ে গণভোটের প্রচার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, টেলিভিশন বা ব্যানারে কিছু প্রচার থাকলেও প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোট নিয়ে তেমন কোনো ধারণা বা আগ্রহ তৈরি হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রচারসামগ্রী তৈরি ও বিতরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু তৃতীয় পক্ষ বা এজেন্সিকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের সুপারিশের অভিযোগও উঠেছে। বড় অংকের এই অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোটের প্রকৃত বার্তা কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


গণভোটের প্রচারে ছয় মন্ত্রণালয়কে ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে সাংবিধানিক গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনি ব্যয়কে বড় অংকের বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে। জাতীয় নির্বাচনের নিয়মিত বাজেটের সঙ্গে গণভোটের অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হওয়ায় এবার মোট নির্বাচনি ব্যয় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে কেবল গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের জন্য ছয়টি মন্ত্রণালয়কে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাজেট শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গণভোটের গুরুত্ব জনগণের কাছে তুলে ধরতে ছয়টি মন্ত্রণালয় এই বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করবে। বরাদ্দের বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ ছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪৬ কোটি টাকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৭ কোটি টাকা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। ইসির নিজস্ব জনসংযোগ শাখা থেকেও গণভোটের প্রচারে আরও ৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানান, প্রাথমিকভাবে সংসদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলেও পরে গণভোটের নির্দেশনা আসায় অতিরিক্ত ১ হাজার ৭০ কোটি টাকার চাহিদা পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, গণভোটের ব্যালট পেপার মুদ্রণ ও সরঞ্জাম কেনাকাটা ইসি সরাসরি করলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারের জন্য এই অর্থ উপ-বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচনের সার্বিক ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে মাঠপর্যায়ে গণভোটের প্রচার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, টেলিভিশন বা ব্যানারে কিছু প্রচার থাকলেও প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোট নিয়ে তেমন কোনো ধারণা বা আগ্রহ তৈরি হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রচারসামগ্রী তৈরি ও বিতরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু তৃতীয় পক্ষ বা এজেন্সিকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের সুপারিশের অভিযোগও উঠেছে। বড় অংকের এই অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোটের প্রকৃত বার্তা কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ