ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রোজার আগেই দায়িত্ব ছাড়ছেন ইউনূস!


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

রোজার আগেই দায়িত্ব ছাড়ছেন ইউনূস!


আগামী সংসদ নির্বাচনের মাত্র চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই অর্থাৎ আগামী ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সংসদ সচিবালয় এবং বঙ্গভবনকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামের গেজেট প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে ১৩ বা ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশ হতে পারে এবং এর পরপরই ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখটিকে শপথের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নতুন সরকারের শপথ এবং দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে ইতোমধ্যে বঙ্গভবন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মকর্তারা সংসদ সচিবালয় এবং গণভবন পরিদর্শন করে শপথের প্রস্তুতি যাচাই করেছেন। সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার পর সংসদ ভবনের যে ক্ষতি হয়েছিল, তা পুরোপুরি সংস্কার করা হয়েছে এবং বর্তমানে সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় কোনো বাধা নেই। এছাড়া এমপি হোস্টেল, ন্যাম ভবন এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনও ব্যবহারের উপযোগী করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্বাচনের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ইতোমধ্যে চারটি বিকল্প ভবন পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা, সংসদ এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ভবন ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নতুন সরকার। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অবস্থান করছেন এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের পর রীতি অনুযায়ী তিনি সেখানে আরও কিছুদিন থাকতে পারেন। সেজন্য বিকল্প হিসেবে একাধিক বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানটি বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতির সামরিক বিভাগ এই পুরো আয়োজনের মূল তদারকিতে থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারের এই দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা মূলত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গতিশীল করা এবং রমজানের পবিত্রতা শুরুর আগেই একটি স্থিতিশীল সরকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রোজার আগেই দায়িত্ব ছাড়ছেন ইউনূস!

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


আগামী সংসদ নির্বাচনের মাত্র চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই অর্থাৎ আগামী ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সংসদ সচিবালয় এবং বঙ্গভবনকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামের গেজেট প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে ১৩ বা ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশ হতে পারে এবং এর পরপরই ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখটিকে শপথের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নতুন সরকারের শপথ এবং দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে ইতোমধ্যে বঙ্গভবন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মকর্তারা সংসদ সচিবালয় এবং গণভবন পরিদর্শন করে শপথের প্রস্তুতি যাচাই করেছেন। সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার পর সংসদ ভবনের যে ক্ষতি হয়েছিল, তা পুরোপুরি সংস্কার করা হয়েছে এবং বর্তমানে সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় কোনো বাধা নেই। এছাড়া এমপি হোস্টেল, ন্যাম ভবন এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনও ব্যবহারের উপযোগী করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্বাচনের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ইতোমধ্যে চারটি বিকল্প ভবন পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা, সংসদ এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ভবন ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নতুন সরকার। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অবস্থান করছেন এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের পর রীতি অনুযায়ী তিনি সেখানে আরও কিছুদিন থাকতে পারেন। সেজন্য বিকল্প হিসেবে একাধিক বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানটি বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতির সামরিক বিভাগ এই পুরো আয়োজনের মূল তদারকিতে থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারের এই দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা মূলত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গতিশীল করা এবং রমজানের পবিত্রতা শুরুর আগেই একটি স্থিতিশীল সরকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ