ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ড্রোন কারখানা স্থাপন: চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশে ড্রোন কারখানা স্থাপন: চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি


বাংলাদেশেই এখন থেকে তৈরি হবে অত্যাধুনিক ড্রোন বা মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি)। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন’ (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ঢাকার বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) এই চুক্তি সই হয়, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব প্রযুক্তিতে ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজনের যুগে পদার্পণ করল।

চুক্তির মূল লক্ষ্য ও সক্ষমতা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে একটি অত্যাধুনিক ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন করা হবে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তি হস্তান্তর (ToT), যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ড্রোন উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জন করবে। বিমানবাহিনী প্রাথমিকভাবে মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড্ডয়নে সক্ষম ‘মেল’ (MALE) ড্রোন এবং রানওয়ে ছাড়াই উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম ‘ভিটিওএল’ (VTOL) ড্রোন তৈরির সক্ষমতা অর্জন করবে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিমানবাহিনী নিজস্ব নকশার ড্রোন উৎপাদনেও কাজ করবে।

আর্থিক ও কৌশলগত গুরুত্ব সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রায় ৬০৮ কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর নিজস্ব বাজেট থেকেই সম্পন্ন করা হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। এই ড্রোনগুলো কেবল সামরিক নজরদারি বা আভিযানিক কাজেই নয়, বরং মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নিখোঁজ ব্যক্তি অনুসন্ধানের মতো অসামরিক খাতেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে একটি দক্ষ অ্যারোস্পেস জনবল ও বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত ক্ষেত্র তৈরি হবে।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বাংলাদেশে ড্রোন কারখানা স্থাপন: চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


বাংলাদেশেই এখন থেকে তৈরি হবে অত্যাধুনিক ড্রোন বা মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি)। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন’ (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ঢাকার বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) এই চুক্তি সই হয়, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব প্রযুক্তিতে ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজনের যুগে পদার্পণ করল।

চুক্তির মূল লক্ষ্য ও সক্ষমতা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে একটি অত্যাধুনিক ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন করা হবে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তি হস্তান্তর (ToT), যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ড্রোন উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জন করবে। বিমানবাহিনী প্রাথমিকভাবে মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড্ডয়নে সক্ষম ‘মেল’ (MALE) ড্রোন এবং রানওয়ে ছাড়াই উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম ‘ভিটিওএল’ (VTOL) ড্রোন তৈরির সক্ষমতা অর্জন করবে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিমানবাহিনী নিজস্ব নকশার ড্রোন উৎপাদনেও কাজ করবে।

আর্থিক ও কৌশলগত গুরুত্ব সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রায় ৬০৮ কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর নিজস্ব বাজেট থেকেই সম্পন্ন করা হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। এই ড্রোনগুলো কেবল সামরিক নজরদারি বা আভিযানিক কাজেই নয়, বরং মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নিখোঁজ ব্যক্তি অনুসন্ধানের মতো অসামরিক খাতেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে একটি দক্ষ অ্যারোস্পেস জনবল ও বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত ক্ষেত্র তৈরি হবে।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ