বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আম, কাঁঠালের মতো ফলের পাশাপাশি সরিষা, আলু, টমেটো, সিম, বাঁধাকপি, মরিচসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদনে দেশের কৃষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে নওগাঁ জেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষা আবাদ হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
চলতি রবি মৌসুমে নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩২ হাজার ১০০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার প্রায় ৩৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার ৩২০ হেক্টর বেশি। এই আবাদ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকারও বেশি উৎপাদন আশা করা হচ্ছে।
নওগাঁ জেলায় কৃষকেরা বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭, বারি-১৮, বিনা-৪, বিনা-৭, বিনা-৯ এবং টরি-৭ জাতের সরিষা বেশি চাষ করেছেন। কম খরচে ও স্বল্প সময়ে ভালো লাভ পাওয়ায় আমন ধান কাটার পর সরিষা এখন একটি জনপ্রিয় রবিশস্য হিসেবে কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।
সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহের কাজও চলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও মৌয়ালদের তথ্যমতে, প্রতিটি মৌবাক্স থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে একদিকে স্থানীয় চাহিদা মেটানো যাচ্ছে, অন্যদিকে মৌচাষের মাধ্যমে বাড়ছে কৃষকদের অতিরিক্ত আয়।
কৃষক মো. জয়নাল বলেন, আমি ৮ বিঘা জমিতে সরিষা, ধান, টমেটো ও আলু চাষ করি। কিন্তু সঠিক সময়ে ও সঠিক দামে সার পাওয়া নিয়ে সমস্যা আছে। বাজারে সব সময় সহজে সার পাওয়া যায় না।
আরেক কৃষক আশরাফুল জানান, গত বছর সরিষা, আলু, টমেটো, বাঁধাকপি, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ চাষ করে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো লাভ হয়েছিল। এ বছরও ভালো ফলনের আশা করছি।
বদলগাছি উপজেলার কৃষক মফিজ উদ্দিন বলেন, আমি পেঁয়াজের পাশাপাশি সরিষা ও আলু চাষ করেছি। ২০২৪ সালে জেলা পর্যায়ে প্রধান কৃষক হয়েছিলাম এবং পেঁয়াজ চাষে থানায় চ্যাম্পিয়ন হই। সরিষা এমন একটি ফসল, যার ফলে আমাদের তেল কিনে খেতে হয় না। নিজে চাষ করে তেলের পাশাপাশি খৈল পাওয়া যায়, যা মাছ চাষ ও গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আমরা চাই সরকার যদি মাঠ পর্যায়ে আরও নজরদারি বাড়ায় এবং বিনামূল্যে বীজ ও কীটনাশক দেয়, তাহলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বদলগাছি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জানান, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে প্রায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। কৃষকেরা বারি-১৪, বারি-১৫ ও বারি-১৭ জাতের সরিষা বেশি আবাদ করেছেন। কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও পরামর্শমূলক কাউন্সিলিং করছে। সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। সার সংকটের বিষয়টি এখন স্বাভাবিক রয়েছে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।
সরিষার এই বাম্পার আবাদ ও সম্ভাব্য উৎপাদন নওগাঁ জেলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আম, কাঁঠালের মতো ফলের পাশাপাশি সরিষা, আলু, টমেটো, সিম, বাঁধাকপি, মরিচসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদনে দেশের কৃষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে নওগাঁ জেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষা আবাদ হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
চলতি রবি মৌসুমে নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩২ হাজার ১০০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার প্রায় ৩৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার ৩২০ হেক্টর বেশি। এই আবাদ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকারও বেশি উৎপাদন আশা করা হচ্ছে।
নওগাঁ জেলায় কৃষকেরা বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭, বারি-১৮, বিনা-৪, বিনা-৭, বিনা-৯ এবং টরি-৭ জাতের সরিষা বেশি চাষ করেছেন। কম খরচে ও স্বল্প সময়ে ভালো লাভ পাওয়ায় আমন ধান কাটার পর সরিষা এখন একটি জনপ্রিয় রবিশস্য হিসেবে কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।
সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহের কাজও চলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও মৌয়ালদের তথ্যমতে, প্রতিটি মৌবাক্স থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে একদিকে স্থানীয় চাহিদা মেটানো যাচ্ছে, অন্যদিকে মৌচাষের মাধ্যমে বাড়ছে কৃষকদের অতিরিক্ত আয়।
কৃষক মো. জয়নাল বলেন, আমি ৮ বিঘা জমিতে সরিষা, ধান, টমেটো ও আলু চাষ করি। কিন্তু সঠিক সময়ে ও সঠিক দামে সার পাওয়া নিয়ে সমস্যা আছে। বাজারে সব সময় সহজে সার পাওয়া যায় না।
আরেক কৃষক আশরাফুল জানান, গত বছর সরিষা, আলু, টমেটো, বাঁধাকপি, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ চাষ করে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো লাভ হয়েছিল। এ বছরও ভালো ফলনের আশা করছি।
বদলগাছি উপজেলার কৃষক মফিজ উদ্দিন বলেন, আমি পেঁয়াজের পাশাপাশি সরিষা ও আলু চাষ করেছি। ২০২৪ সালে জেলা পর্যায়ে প্রধান কৃষক হয়েছিলাম এবং পেঁয়াজ চাষে থানায় চ্যাম্পিয়ন হই। সরিষা এমন একটি ফসল, যার ফলে আমাদের তেল কিনে খেতে হয় না। নিজে চাষ করে তেলের পাশাপাশি খৈল পাওয়া যায়, যা মাছ চাষ ও গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আমরা চাই সরকার যদি মাঠ পর্যায়ে আরও নজরদারি বাড়ায় এবং বিনামূল্যে বীজ ও কীটনাশক দেয়, তাহলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বদলগাছি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জানান, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে প্রায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। কৃষকেরা বারি-১৪, বারি-১৫ ও বারি-১৭ জাতের সরিষা বেশি আবাদ করেছেন। কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও পরামর্শমূলক কাউন্সিলিং করছে। সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। সার সংকটের বিষয়টি এখন স্বাভাবিক রয়েছে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।
সরিষার এই বাম্পার আবাদ ও সম্ভাব্য উৎপাদন নওগাঁ জেলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন