গায়ে হাত ও ফ্যামিলি কার্ড একসঙ্গে চলতে পারে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘একদিকে গায়ে হাত, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ড—এই দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। যাদের হাতে আজ মা-বোনেরা নিরাপদ নয়, তারা ভবিষ্যতে কী করবে তা সহজেই বোঝা যায়।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
বক্তব্যে জামায়াত আমির যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং আধুনিক ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নকে জামায়াত নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করবে।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ আখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়; বরং জনগণের রায়ের মাধ্যমে রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তনের সুযোগ। পরিবারকেন্দ্রিক ও গোষ্ঠীগত রাজনীতির পরিবর্তে জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
নারীদের প্রতি আচরণের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘যেসব দল প্রকাশ্যে নারীদের কল্যাণের কথা বলে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদেরই নির্বাচনী প্রচারে নারী কর্মীদের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা ঘটে—যা সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘মায়েদের অসম্মান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন কখনোই নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে সংঘাতে না জড়িয়ে যুব সমাজকে সচেতনভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। জামায়াত আমির বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে যশোরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
গায়ে হাত ও ফ্যামিলি কার্ড একসঙ্গে চলতে পারে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘একদিকে গায়ে হাত, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ড—এই দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। যাদের হাতে আজ মা-বোনেরা নিরাপদ নয়, তারা ভবিষ্যতে কী করবে তা সহজেই বোঝা যায়।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
বক্তব্যে জামায়াত আমির যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং আধুনিক ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নকে জামায়াত নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করবে।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ আখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়; বরং জনগণের রায়ের মাধ্যমে রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তনের সুযোগ। পরিবারকেন্দ্রিক ও গোষ্ঠীগত রাজনীতির পরিবর্তে জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
নারীদের প্রতি আচরণের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘যেসব দল প্রকাশ্যে নারীদের কল্যাণের কথা বলে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদেরই নির্বাচনী প্রচারে নারী কর্মীদের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা ঘটে—যা সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘মায়েদের অসম্মান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন কখনোই নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে সংঘাতে না জড়িয়ে যুব সমাজকে সচেতনভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। জামায়াত আমির বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে যশোরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন