আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে ‘জুলাই সনদ’-এর ভাগ্য, যা মূলত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের একটি সংকলন। গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ পক্ষ জয়লাভ করে, তবে পরবর্তী সংসদ এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য থাকবে।
গণভোটের ব্যালটে বিস্তারিত ৮৪টি পয়েন্ট না থাকলেও চারটি সংক্ষিপ্ত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ভোটারদের মতামত নেওয়া হবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতিমধ্যে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ভোট শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশের পথ প্রশস্ত করবে।
‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংবিধানে যেসব প্রধান পরিবর্তন আসবে তার মধ্যে অন্যতম হলো নাগরিক পরিচয় ও ভাষার স্বীকৃতি। বর্তমানের ‘বাঙালি’ পরিচয়ের পরিবর্তে সকল নাগরিকের পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’ এবং বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য মাতৃভাষারও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এছাড়া মৌলিক অধিকারের তালিকায় যুক্ত হবে ইন্টারনেট ব্যবহারের নিশ্চয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়।
রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় ধরণের পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে জুলাই সনদে। প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা হবে এবং তিনি একই সঙ্গে একাধিক পদে থাকতে পারবেন না। জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের বদলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে এবং গোপন ব্যালটের মাধ্যমে।
সংসদীয় কাঠামোতেও আসবে ব্যাপক সংস্কার। জুলাই সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালু হবে এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ডেপুটি স্পিকার পদটি সংরক্ষিত থাকবে বিরোধী দলের জন্য। এছাড়া বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃপ্রবর্তন করা হবে। সংসদ সদস্যরা যেন দলীয় হুইপের বাইরেও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন, সেই সুযোগ রাখা হবে।
বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবে আপিল বিভাগ থেকে এবং বিচারক নিয়োগের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার পাশাপাশি ন্যায়পাল ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে পরবর্তী সংসদকে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে এবং তাদের নয় মাসের মধ্যে এই সংশোধন সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি করা সংশোধনী বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। তবে সমালোচকদের মতে, ব্যালটে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় সাধারণ ভোটারদের পক্ষে এই ব্যাপক পরিবর্তনের সবটুকু বুঝে ভোট দেওয়া কঠিন হতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে ‘জুলাই সনদ’-এর ভাগ্য, যা মূলত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের একটি সংকলন। গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ পক্ষ জয়লাভ করে, তবে পরবর্তী সংসদ এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য থাকবে।
গণভোটের ব্যালটে বিস্তারিত ৮৪টি পয়েন্ট না থাকলেও চারটি সংক্ষিপ্ত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ভোটারদের মতামত নেওয়া হবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতিমধ্যে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ভোট শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশের পথ প্রশস্ত করবে।
‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংবিধানে যেসব প্রধান পরিবর্তন আসবে তার মধ্যে অন্যতম হলো নাগরিক পরিচয় ও ভাষার স্বীকৃতি। বর্তমানের ‘বাঙালি’ পরিচয়ের পরিবর্তে সকল নাগরিকের পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’ এবং বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য মাতৃভাষারও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এছাড়া মৌলিক অধিকারের তালিকায় যুক্ত হবে ইন্টারনেট ব্যবহারের নিশ্চয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়।
রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় ধরণের পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে জুলাই সনদে। প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা হবে এবং তিনি একই সঙ্গে একাধিক পদে থাকতে পারবেন না। জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের বদলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে এবং গোপন ব্যালটের মাধ্যমে।
সংসদীয় কাঠামোতেও আসবে ব্যাপক সংস্কার। জুলাই সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালু হবে এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ডেপুটি স্পিকার পদটি সংরক্ষিত থাকবে বিরোধী দলের জন্য। এছাড়া বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃপ্রবর্তন করা হবে। সংসদ সদস্যরা যেন দলীয় হুইপের বাইরেও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন, সেই সুযোগ রাখা হবে।
বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবে আপিল বিভাগ থেকে এবং বিচারক নিয়োগের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার পাশাপাশি ন্যায়পাল ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে পরবর্তী সংসদকে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে এবং তাদের নয় মাসের মধ্যে এই সংশোধন সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি করা সংশোধনী বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। তবে সমালোচকদের মতে, ব্যালটে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় সাধারণ ভোটারদের পক্ষে এই ব্যাপক পরিবর্তনের সবটুকু বুঝে ভোট দেওয়া কঠিন হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন