বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাব, বয়স জালিয়াতি এবং কোনো প্রকার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই আওয়ামী মন্ত্রী ও এমপিদের সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া ১৫৩ জন কর্মকর্তা এখনো সংস্থাটিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিলেও এই অবৈধ সিন্ডিকেট এখনো ভাঙা সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে যে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিটিআরসিতে মোট ৪৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অনিয়মটি ঘটে ২০১০ সালে। কোনো প্রকার লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয় ২৯ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট এবং ২১ জন প্রকল্প কর্মকর্তাকে। তৎকালীন আওয়ামী প্রভাবশালী নেতা এইচটি ইমাম, বাহাউদ্দিন নাছিম এবং তারেক সিদ্দিকীদের সরাসরি সুপারিশে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৯৭ সালের পরবর্তী প্রকল্প জনবল সরাসরি আত্তীকরণের কোনো সুযোগ নেই বলে জানানো হলেও রাজনৈতিক প্রভাবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়েছিল।
বিটিআরসির বর্তমান স্থায়ী জনবল ৩৫৫ জনের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই অভিযুক্ত কর্মকর্তা। কারিগরি পদে ১৫৩ জন এবং চালক ও এমএলএসএসসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সহায়ক জনবল এই সময়ে নিয়োগ পায়। ২০২৩ সালে মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে এক অডিট রিপোর্টে এই নিয়োগগুলোকে বিধিবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অডিট আপত্তিতে বলা হয় যে বয়স পরিমার্জনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং প্রবিধান উপেক্ষা করে সরাসরি সিনিয়র সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আলোচিত বিতর্কিত কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের আপন ভাতিজা এমএ তালেব হোসেন। এছাড়া কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ছেলে খালেদ ফয়সল এবং ফেনীর আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন নাসিমের শ্যালিকা শারমিন সুলতানার নিয়োগ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাদের অনেকেরই নিয়োগের সময় নির্ধারিত বয়সসীমা পার হয়ে গিয়েছিল অথবা প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না। লিগ্যাল ও লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডুর নিয়োগও রাজনৈতিক সুপারিশে হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বিটিআরসির নিয়মিত ও যোগ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই অবৈধ কর্মকর্তাদের কারণে সংস্থাটিতে গত কয়েক বছরে কোনো নিয়মিত পদোন্নতি হয়নি। ৫ আগস্টের পর দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতিবঞ্চিতদের মূল্যায়ন করা হলেও বিটিআরসিতে এই সিন্ডিকেটের প্রভাবে তা থমকে আছে। বর্তমানে এই বিতর্কিত কর্মকর্তারা তাদের অবস্থান শক্ত করতে বিভিন্ন দপ্তরে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলতি মাসেই শুরু হতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাব, বয়স জালিয়াতি এবং কোনো প্রকার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই আওয়ামী মন্ত্রী ও এমপিদের সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া ১৫৩ জন কর্মকর্তা এখনো সংস্থাটিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিলেও এই অবৈধ সিন্ডিকেট এখনো ভাঙা সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে যে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিটিআরসিতে মোট ৪৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অনিয়মটি ঘটে ২০১০ সালে। কোনো প্রকার লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয় ২৯ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট এবং ২১ জন প্রকল্প কর্মকর্তাকে। তৎকালীন আওয়ামী প্রভাবশালী নেতা এইচটি ইমাম, বাহাউদ্দিন নাছিম এবং তারেক সিদ্দিকীদের সরাসরি সুপারিশে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৯৭ সালের পরবর্তী প্রকল্প জনবল সরাসরি আত্তীকরণের কোনো সুযোগ নেই বলে জানানো হলেও রাজনৈতিক প্রভাবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়েছিল।
বিটিআরসির বর্তমান স্থায়ী জনবল ৩৫৫ জনের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই অভিযুক্ত কর্মকর্তা। কারিগরি পদে ১৫৩ জন এবং চালক ও এমএলএসএসসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সহায়ক জনবল এই সময়ে নিয়োগ পায়। ২০২৩ সালে মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে এক অডিট রিপোর্টে এই নিয়োগগুলোকে বিধিবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অডিট আপত্তিতে বলা হয় যে বয়স পরিমার্জনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং প্রবিধান উপেক্ষা করে সরাসরি সিনিয়র সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আলোচিত বিতর্কিত কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের আপন ভাতিজা এমএ তালেব হোসেন। এছাড়া কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ছেলে খালেদ ফয়সল এবং ফেনীর আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন নাসিমের শ্যালিকা শারমিন সুলতানার নিয়োগ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাদের অনেকেরই নিয়োগের সময় নির্ধারিত বয়সসীমা পার হয়ে গিয়েছিল অথবা প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না। লিগ্যাল ও লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডুর নিয়োগও রাজনৈতিক সুপারিশে হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বিটিআরসির নিয়মিত ও যোগ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই অবৈধ কর্মকর্তাদের কারণে সংস্থাটিতে গত কয়েক বছরে কোনো নিয়মিত পদোন্নতি হয়নি। ৫ আগস্টের পর দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতিবঞ্চিতদের মূল্যায়ন করা হলেও বিটিআরসিতে এই সিন্ডিকেটের প্রভাবে তা থমকে আছে। বর্তমানে এই বিতর্কিত কর্মকর্তারা তাদের অবস্থান শক্ত করতে বিভিন্ন দপ্তরে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলতি মাসেই শুরু হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন