ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সচিবালয়ে ভোটের হাওয়া: সংসদ নির্বাচনের চেয়ে আলোচনায় এগিয়ে গণভোট


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

সচিবালয়ে ভোটের হাওয়া: সংসদ নির্বাচনের চেয়ে আলোচনায় এগিয়ে গণভোট


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর ঐতিহাসিক গণভোট। এই জোড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন সরগরম প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়। প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আড্ডায় অবধারিতভাবে উঠে আসছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। তবে দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের চেয়েও এবার আলোচনা ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংবিধান সংস্কারের ‘হ্যাঁ-না’ ভোট।

সচিবালয়ের বিভিন্ন উইং ও ডেস্কে কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসনের সর্বস্তরে গণভোটের প্রচার জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো থেকে ইতিমধ্যে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রচারের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। সচিবালয়ের ভবনগুলোর গায়ে ঝোলানো হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবনা সম্বলিত বিশাল সব ব্যানার।

শিক্ষা সচিবের একান্ত সচিব মো. রকিবুল হাসান জানান যে নির্বাচনী আমেজ এখনো পুরোপুরি জমেনি, তবে গণভোটের প্রচার দৃশ্যমান। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে সনদের প্রস্তাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন যে কেবল নামমাত্র পদ নয়, সম্পত্তির অধিকার বন্টনের মতো মৌলিক জায়গা থেকে নারীর ক্ষমতায়ন শুরু হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে ভূমি উপদেষ্টার জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন দীর্ঘ বিরতির পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং বিগত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে এবার একটি উৎসবমুখর পরিবেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিগত নির্বাচনগুলোতে (২০১৮ ও ২০২৪) ভোটের অনিয়ম নিয়েও সচিবালয়ের কর্মীদের মধ্যে এখনো ভীতি ও ক্ষোভ কাজ করছে। সমাজকল্যাণ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও জবরদস্তির যে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, তা এবারের নির্বাচনে কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন সবাই। সাধারণ লিফটম্যান থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা—সবারই কাম্য একটি স্বচ্ছ ও চাপমুক্ত নির্বাচন।

উল্লেখ্য যে জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের সচেতন করতে সরকারি দপ্তরগুলোতে ‘পরিবর্তনের পক্ষে হ্যাঁ ভোট’ দেওয়ার বার্তা সম্বলিত প্রচারণা এখন তুঙ্গে। তবে তৃণমূল পর্যায়ের কিছু কর্মীর মধ্যে গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে এই ভোটের রেশ বলে দিচ্ছে যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কেবল সরকার গঠন নয় বরং দেশের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর ভোল বদলে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় নামছে বাংলাদেশ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সচিবালয়ে ভোটের হাওয়া: সংসদ নির্বাচনের চেয়ে আলোচনায় এগিয়ে গণভোট

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর ঐতিহাসিক গণভোট। এই জোড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন সরগরম প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়। প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আড্ডায় অবধারিতভাবে উঠে আসছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। তবে দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের চেয়েও এবার আলোচনা ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংবিধান সংস্কারের ‘হ্যাঁ-না’ ভোট।

সচিবালয়ের বিভিন্ন উইং ও ডেস্কে কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসনের সর্বস্তরে গণভোটের প্রচার জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো থেকে ইতিমধ্যে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রচারের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। সচিবালয়ের ভবনগুলোর গায়ে ঝোলানো হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবনা সম্বলিত বিশাল সব ব্যানার।

শিক্ষা সচিবের একান্ত সচিব মো. রকিবুল হাসান জানান যে নির্বাচনী আমেজ এখনো পুরোপুরি জমেনি, তবে গণভোটের প্রচার দৃশ্যমান। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে সনদের প্রস্তাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন যে কেবল নামমাত্র পদ নয়, সম্পত্তির অধিকার বন্টনের মতো মৌলিক জায়গা থেকে নারীর ক্ষমতায়ন শুরু হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে ভূমি উপদেষ্টার জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন দীর্ঘ বিরতির পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং বিগত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে এবার একটি উৎসবমুখর পরিবেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিগত নির্বাচনগুলোতে (২০১৮ ও ২০২৪) ভোটের অনিয়ম নিয়েও সচিবালয়ের কর্মীদের মধ্যে এখনো ভীতি ও ক্ষোভ কাজ করছে। সমাজকল্যাণ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও জবরদস্তির যে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, তা এবারের নির্বাচনে কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন সবাই। সাধারণ লিফটম্যান থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা—সবারই কাম্য একটি স্বচ্ছ ও চাপমুক্ত নির্বাচন।

উল্লেখ্য যে জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের সচেতন করতে সরকারি দপ্তরগুলোতে ‘পরিবর্তনের পক্ষে হ্যাঁ ভোট’ দেওয়ার বার্তা সম্বলিত প্রচারণা এখন তুঙ্গে। তবে তৃণমূল পর্যায়ের কিছু কর্মীর মধ্যে গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে এই ভোটের রেশ বলে দিচ্ছে যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কেবল সরকার গঠন নয় বরং দেশের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর ভোল বদলে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় নামছে বাংলাদেশ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ