ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ফেনীতে তারেক রহমানের জনসভা

কানায় কানায় পূর্ণ ফেনী পাইলট মাঠ


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

কানায় কানায় পূর্ণ ফেনী পাইলট মাঠ
ফেনী জনসভায় তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফেনীর নির্বাচনি জনসভায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। জনসভা শুরুর আগেই দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ। মাঠের ভেতরের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন পয়েন্টেও অবস্থান নেন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

ফেনী ছাড়াও নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে বাস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে নেতাকর্মীরা শহরের প্রবেশমুখে এসে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। মঞ্চে বক্তব্য দেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। অনেক নেতাকর্মীর হাতে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ দেখা যায়। কেউ কেউ দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত টি-শার্ট, পাঞ্জাবি ও মাফলার পরে জনসভায় অংশ নেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

পরশুরামের বীরচন্দ্র নগর থেকে আসা আবুল কাশেম বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতি করলেও সরাসরি কখনোই তারেক রহমানকে দেখার সুযোগ হয়নি। এর আগে তিনবার তিনি ফেনী আসলেও এবারই প্রথম দলীয় প্রধান হিসেবে আসছেন। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থেকে তিনি দল পরিচালনা করেছেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই সফর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বড় প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।

ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, এই জনসভা ফেনীর অতীতের সব উপস্থিতিকে ছাড়িয়ে যাবে। ইতোমধ্যে মাঠে হাজারো মানুষের সমাগম হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ফেনী-১ আসনে বেগম খালেদা জিয়া পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এই জনপদের সঙ্গে বেগম জিয়ার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দলমত নির্বিশেষে ফেনীর মানুষ এখন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত। জনসভায় বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও চোখে পড়ছে।

জনসভা ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জনসভার মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।

প্রায় দুই দশক পর সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত ফেনীতে তারেক রহমানের আগমন স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন ভবনগুলোতে তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে। বিপুল জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শহরজুড়ে অন্তত ১০টি স্থানে বড় পর্দা স্থাপন করা হয়েছে।

বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের এই জনসভায় পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করারও কথা রয়েছে তার।

এর আগে দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি মহাসমাবেশে অংশ নেন তারেক রহমান। ফেনীর জনসভা শেষে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। রাতে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে সর্বশেষ জনসভায় অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কানায় কানায় পূর্ণ ফেনী পাইলট মাঠ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফেনীর নির্বাচনি জনসভায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। জনসভা শুরুর আগেই দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ। মাঠের ভেতরের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন পয়েন্টেও অবস্থান নেন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।


ফেনী ছাড়াও নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে বাস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে নেতাকর্মীরা শহরের প্রবেশমুখে এসে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। মঞ্চে বক্তব্য দেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। অনেক নেতাকর্মীর হাতে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ দেখা যায়। কেউ কেউ দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত টি-শার্ট, পাঞ্জাবি ও মাফলার পরে জনসভায় অংশ নেন।


রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।


পরশুরামের বীরচন্দ্র নগর থেকে আসা আবুল কাশেম বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতি করলেও সরাসরি কখনোই তারেক রহমানকে দেখার সুযোগ হয়নি। এর আগে তিনবার তিনি ফেনী আসলেও এবারই প্রথম দলীয় প্রধান হিসেবে আসছেন। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থেকে তিনি দল পরিচালনা করেছেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই সফর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বড় প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।


ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, এই জনসভা ফেনীর অতীতের সব উপস্থিতিকে ছাড়িয়ে যাবে। ইতোমধ্যে মাঠে হাজারো মানুষের সমাগম হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করছেন।


জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ফেনী-১ আসনে বেগম খালেদা জিয়া পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এই জনপদের সঙ্গে বেগম জিয়ার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দলমত নির্বিশেষে ফেনীর মানুষ এখন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত। জনসভায় বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও চোখে পড়ছে।


জনসভা ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জনসভার মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।


প্রায় দুই দশক পর সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত ফেনীতে তারেক রহমানের আগমন স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন ভবনগুলোতে তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে। বিপুল জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শহরজুড়ে অন্তত ১০টি স্থানে বড় পর্দা স্থাপন করা হয়েছে।


বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের এই জনসভায় পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করারও কথা রয়েছে তার।


এর আগে দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি মহাসমাবেশে অংশ নেন তারেক রহমান। ফেনীর জনসভা শেষে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। রাতে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে সর্বশেষ জনসভায় অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ