প্রাচীন মিশরের পিরামিড বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্বর্ণালঙ্কার আর বিপুল ধনভাণ্ডার। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক উলফ্রাম গ্রায়েটজকি তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করেছেন, মিশরের বড় পিরামিডগুলোর ভেতরটা আসলে তুতেনখামুনের সমাধির মতো অতটা জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না।
পিরামিড টেক্সট ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব গবেষণায় দেখা গেছে, পিরামিডগুলো মূলত পরকালীন যাত্রার জন্য নির্মিত হতো। তাই সোনা-দানার চেয়ে সেখানে বেশি গুরুত্ব পেত ধর্মীয় মন্ত্র ও আধ্যাত্মিক দিক। অনেক পিরামিডের দেয়ালে খোদাই করা থাকত ‘পিরামিড টেক্সট’, যা মৃত ব্যক্তির আত্মাকে পরবর্তী জীবনের পথে পথ দেখাত। গবেষকদের মতে, এই লেখাসমূহ প্রাচীন মিশরীয়দের পরকাল-সংক্রান্ত গভীর বিশ্বাসের প্রমাণ বহন করে।
কী থাকত সমাধির ভেতরে? ইতিহাসবিদদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ২৬৩০ থেকে ১৫২৫ সাল পর্যন্ত ফারাওদের পিরামিডে দাফন করা হতো। যদিও যুগের পর যুগ ধরে লুটতরাজ চলায় অনেক তথ্য হারিয়ে গেছে, তবে অক্ষত কিছু সমাধির চিত্র বেশ সাধারণ। যেমন:
রানি নেফেরুপতাহর সমাধি: এখানে পাওয়া গেছে মৃৎপাত্র, সোনায় মোড়ানো সাধারণ অলঙ্কার এবং ওসাইরিস দেবতার প্রতীক।
রাজা হোরের সমাধি: মমির মুখোশ, লিনেনে মোড়ানো দেহ এবং ক্যানোপিক জারে সংরক্ষিত দেহাংশই ছিল এখানকার মূল আকর্ষণ।
রানি হেতেফেরেস: তাঁর সমাধি অন্যদের চেয়ে কিছুটা সমৃদ্ধ হলেও তুতেনখামুনের মতো রাজকীয় জৌলুস সেখানেও অনুপস্থিত ছিল।
যুগের বিবর্তন ও রহস্য নিউ কিংডম যুগে (খ্রিস্টপূর্ব ১৫৫০–১০৭০) সমাধিতে মূল্যবান সামগ্রী রাখার প্রবণতা কিছুটা বাড়লেও, পিরামিড নির্মাণের শুরুর যুগে এই প্রথা ছিল না। কেন পরবর্তী সময়ে ধনসম্পদ রাখার চল শুরু হলো, তা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় রহস্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিরামিড নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল আত্মাকে সুরক্ষিত রাখা, সম্পদ প্রদর্শন করা নয়। ফলে সমাধি সামগ্রী সীমিত থাকলেও আধ্যাত্মিক আচার ও পরকালীন মন্ত্রের সমাবেশই ছিল এসব স্থাপত্যের মূল বৈশিষ্ট্য।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রাচীন মিশরের পিরামিড বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্বর্ণালঙ্কার আর বিপুল ধনভাণ্ডার। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক উলফ্রাম গ্রায়েটজকি তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করেছেন, মিশরের বড় পিরামিডগুলোর ভেতরটা আসলে তুতেনখামুনের সমাধির মতো অতটা জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না।
পিরামিড টেক্সট ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব গবেষণায় দেখা গেছে, পিরামিডগুলো মূলত পরকালীন যাত্রার জন্য নির্মিত হতো। তাই সোনা-দানার চেয়ে সেখানে বেশি গুরুত্ব পেত ধর্মীয় মন্ত্র ও আধ্যাত্মিক দিক। অনেক পিরামিডের দেয়ালে খোদাই করা থাকত ‘পিরামিড টেক্সট’, যা মৃত ব্যক্তির আত্মাকে পরবর্তী জীবনের পথে পথ দেখাত। গবেষকদের মতে, এই লেখাসমূহ প্রাচীন মিশরীয়দের পরকাল-সংক্রান্ত গভীর বিশ্বাসের প্রমাণ বহন করে।
কী থাকত সমাধির ভেতরে? ইতিহাসবিদদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ২৬৩০ থেকে ১৫২৫ সাল পর্যন্ত ফারাওদের পিরামিডে দাফন করা হতো। যদিও যুগের পর যুগ ধরে লুটতরাজ চলায় অনেক তথ্য হারিয়ে গেছে, তবে অক্ষত কিছু সমাধির চিত্র বেশ সাধারণ। যেমন:
রানি নেফেরুপতাহর সমাধি: এখানে পাওয়া গেছে মৃৎপাত্র, সোনায় মোড়ানো সাধারণ অলঙ্কার এবং ওসাইরিস দেবতার প্রতীক।
রাজা হোরের সমাধি: মমির মুখোশ, লিনেনে মোড়ানো দেহ এবং ক্যানোপিক জারে সংরক্ষিত দেহাংশই ছিল এখানকার মূল আকর্ষণ।
রানি হেতেফেরেস: তাঁর সমাধি অন্যদের চেয়ে কিছুটা সমৃদ্ধ হলেও তুতেনখামুনের মতো রাজকীয় জৌলুস সেখানেও অনুপস্থিত ছিল।
যুগের বিবর্তন ও রহস্য নিউ কিংডম যুগে (খ্রিস্টপূর্ব ১৫৫০–১০৭০) সমাধিতে মূল্যবান সামগ্রী রাখার প্রবণতা কিছুটা বাড়লেও, পিরামিড নির্মাণের শুরুর যুগে এই প্রথা ছিল না। কেন পরবর্তী সময়ে ধনসম্পদ রাখার চল শুরু হলো, তা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় রহস্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিরামিড নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল আত্মাকে সুরক্ষিত রাখা, সম্পদ প্রদর্শন করা নয়। ফলে সমাধি সামগ্রী সীমিত থাকলেও আধ্যাত্মিক আচার ও পরকালীন মন্ত্রের সমাবেশই ছিল এসব স্থাপত্যের মূল বৈশিষ্ট্য।

আপনার মতামত লিখুন