ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মহাসড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি: ঝুঁকি নিয়েই চলছে শরীয়তপুর–ঢাকা মহাসড়ক সংস্কার


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

মহাসড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি: ঝুঁকি নিয়েই চলছে শরীয়তপুর–ঢাকা মহাসড়ক সংস্কার


পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর থেকে ঢাকার যোগাযোগ সহজ করতে নেওয়া ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের সংস্কার কাজ চলছে অভূতপূর্ব এক ঝুঁকির মধ্য দিয়ে। শরীয়তপুর–ঢাকা মহাসড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের আটটি খুঁটি রেখেই চার লেনে উন্নীত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। রাস্তার ঠিক মধ্যখানে থাকা এই পোলগুলো এখন চালক ও পথচারীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কটি বর্তমানে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার কাজ চলছে। তবে প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী সড়ক বড় করা হলেও মাঝখানে থাকা পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরানো হয়নি। ফলে দ্রুতগতির এই মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাত বছরের ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতা:

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৭ কিলোমিটারের এই চার লেন প্রকল্পটি ২০২০ সালে অনুমোদিত হলেও গত সাত বছর ধরে নানা জটিলতায় এর কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। তিনটি প্যাকেজে বিভক্ত এই উন্নয়ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো রেখেই কার্পেটিং ও প্রশস্তকরণ কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মান্নান শেখ ও শুক্কুর ফকির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন পর রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে খুঁটি রেখে কাজ করা মানে মানুষকে বিপদে ফেলা। কাজ শেষ হওয়ার আগে এগুলো না সরালে পরে আর কেউ গুরুত্ব দেবে না।"

পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও দায়ভার:

ঝুঁকিপূর্ণ এই উন্নয়ন কাজের পেছনে সওজ ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান জানান, খুঁটি অপসারণের জন্য প্রায় এক মাস আগে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, "মৌখিকভাবেও একাধিকবার তাগিদ দিয়েছি। কিন্তু কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় এবং জনদুর্ভোগের কথা ভেবে আমরা বাধ্য হয়েই খুঁটি রেখেই কাজ শুরু করেছি।"

অন্যদিকে, শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আলতাফ হোসেন খুঁটি সরাতে বিলম্বের কারণ হিসেবে ঠিকাদারদের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "আগের ঠিকাদাররা পালিয়ে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে এখন নতুন একজন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খুঁটি সরানোর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"

আতঙ্কে চালকরা:

মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী চালকরা এই চিত্র দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। প্রাইভেটকার চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, "দেশের অনেক হাইওয়েতে গাড়ি চালিয়েছি, কিন্তু রাস্তার মাঝখানে পোল রেখে পিচ ঢালাইয়ের কাজ আগে দেখিনি। এখানে গাড়ির গতি বেশি থাকে, কুয়াশা বা রাতে এই খুঁটির কারণে নিশ্চিত দুর্ঘটনা ঘটবে।"

দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ‘বৈদ্যুতিক মরণফাঁদ’ অপসারণ করা না হলে শরীয়তপুর-ঢাকা রুটে নতুন চার লেনের সুফল পাওয়ার বদলে প্রাণহানির ঘটনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মহাসড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি: ঝুঁকি নিয়েই চলছে শরীয়তপুর–ঢাকা মহাসড়ক সংস্কার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর থেকে ঢাকার যোগাযোগ সহজ করতে নেওয়া ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের সংস্কার কাজ চলছে অভূতপূর্ব এক ঝুঁকির মধ্য দিয়ে। শরীয়তপুর–ঢাকা মহাসড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের আটটি খুঁটি রেখেই চার লেনে উন্নীত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। রাস্তার ঠিক মধ্যখানে থাকা এই পোলগুলো এখন চালক ও পথচারীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কটি বর্তমানে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার কাজ চলছে। তবে প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী সড়ক বড় করা হলেও মাঝখানে থাকা পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরানো হয়নি। ফলে দ্রুতগতির এই মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাত বছরের ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতা:

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৭ কিলোমিটারের এই চার লেন প্রকল্পটি ২০২০ সালে অনুমোদিত হলেও গত সাত বছর ধরে নানা জটিলতায় এর কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। তিনটি প্যাকেজে বিভক্ত এই উন্নয়ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো রেখেই কার্পেটিং ও প্রশস্তকরণ কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মান্নান শেখ ও শুক্কুর ফকির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন পর রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে খুঁটি রেখে কাজ করা মানে মানুষকে বিপদে ফেলা। কাজ শেষ হওয়ার আগে এগুলো না সরালে পরে আর কেউ গুরুত্ব দেবে না।"

পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও দায়ভার:

ঝুঁকিপূর্ণ এই উন্নয়ন কাজের পেছনে সওজ ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান জানান, খুঁটি অপসারণের জন্য প্রায় এক মাস আগে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, "মৌখিকভাবেও একাধিকবার তাগিদ দিয়েছি। কিন্তু কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় এবং জনদুর্ভোগের কথা ভেবে আমরা বাধ্য হয়েই খুঁটি রেখেই কাজ শুরু করেছি।"

অন্যদিকে, শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আলতাফ হোসেন খুঁটি সরাতে বিলম্বের কারণ হিসেবে ঠিকাদারদের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "আগের ঠিকাদাররা পালিয়ে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে এখন নতুন একজন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খুঁটি সরানোর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"

আতঙ্কে চালকরা:

মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী চালকরা এই চিত্র দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। প্রাইভেটকার চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, "দেশের অনেক হাইওয়েতে গাড়ি চালিয়েছি, কিন্তু রাস্তার মাঝখানে পোল রেখে পিচ ঢালাইয়ের কাজ আগে দেখিনি। এখানে গাড়ির গতি বেশি থাকে, কুয়াশা বা রাতে এই খুঁটির কারণে নিশ্চিত দুর্ঘটনা ঘটবে।"

দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ‘বৈদ্যুতিক মরণফাঁদ’ অপসারণ করা না হলে শরীয়তপুর-ঢাকা রুটে নতুন চার লেনের সুফল পাওয়ার বদলে প্রাণহানির ঘটনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ