ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নেতৃত্বহীন ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন

১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী


বিশেষ প্রতিনিধি :
বিশেষ প্রতিনিধি :
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে বরাবরই কোনো একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল বা জোটকে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে দেখা গেলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোটে এবার সেভাবে কাউকে সামনে রাখা হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এবং দলগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে। এই নির্বাচনে প্রার্থী প্রায় দুই হাজার। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুটি বড় রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে। একদিকে আছে বিএনপি এবং দলটি যাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে তারা। অন্যদিকে জামায়াত ও তার সঙ্গে সমঝোতায় আসা দলগুলো।

বিএনপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদসহ যে জোট হয়েছে, সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি এবং এই জোটের নেতৃত্বেও আছেন তারেক রহমান। বিপরীতে জামায়াতসহ ১০ দলের যে জোট হয়েছে, সেখানে একক কোনো নেতৃত্ব নেই। বরং জোটটি চলছে যৌথ নেতৃত্বে।

এই জোটে ১০ দলের মধ্যে জামায়াত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন—এই পাঁচটি দল ইসলামপন্থী। বাকি পাঁচটি দল হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি, আমার বাংলাদেশ বা এবি পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বা জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

বিভিন্ন ধরনের ১০টি দল একসঙ্গে এলেও কীসের ভিত্তিতে ঐক্য হলো, সেটা স্পষ্ট নয়। এই ঐক্যের উদ্দেশ্য কী, আদর্শিক ভিত্তি কী, সেটা নিয়েও কোনো রূপরেখা বা সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই। এছাড়া এই জোট নির্বাচনে জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন কিংবা নির্বাচনে বিরোধী দলে বসলে বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন, সেটাও নির্ধারিত হয়নি। ফলে অস্পষ্ট নেতৃত্ব এবং দলীয় রূপরেখা নিয়ে এই জোট নির্বাচনের মাঠে বিএনপির কতটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের মধ্যে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দল বা জোটগুলো ঐতিহ্যগতভাবেই একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখে ভোটের যুদ্ধে নামে। একসময় আওয়ামী লীগ সামনে রেখেছিল শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দল ও জোট পরিচালিত হয়েছে। একইভাবে বিএনপির ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমান থেকে খালেদা জিয়া পর্যন্ত নেতৃত্বকেন্দ্রিক রাজনীতির চিত্র দেখা গেছে। এমনকি জাতীয় পার্টিও নির্বাচনের সময় হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে সামনে রেখেই মাঠে নেমেছিল।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সামনে রেখেছে তারেক রহমানকে। কিন্তু ১০ দলীয় ঐক্যে এভাবে একক কোনো নেতৃত্ব সামনে রাখা হয়নি। এতে করে প্রশ্ন উঠছে—এই জোট যদি নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন।

দশ দলের নির্বাচনি ঐক্য গঠনের আগেই এই প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জোট গঠনের আগেই এর সুরাহা করার কথা বলা হয়। যদিও সেটি নিয়ে পরে আর আলোচনা এগোয়নি। পরবর্তীকালে ইসলামী আন্দোলন আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ঐক্যপ্রক্রিয়া থেকেও বেরিয়ে যায়।

ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার পর জোটে জামায়াতের গুরুত্ব ও প্রভাব আরও বেড়েছে। দলটি এককভাবে ২১৫টি আসনে প্রার্থী দেওয়ায় এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে জোটের মূল শক্তি জামায়াত। ফলে ঘোষণা না হলেও এই জোটে জামায়াতই এখন অঘোষিত নেতৃত্বে রয়েছে, যা দলগুলোর বক্তব্যেও প্রতিফলিত হয়।

তাহলে কি জামায়াতের শীর্ষ নেতাই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী—এমন প্রশ্নে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বিবিসি বাংলাকে বলেন, শীর্ষ নেতা, প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেতা—এসব নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। এখানে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে কে বসবেন, তা নিয়েও আলোচনা হয়নি। সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হয়, যে দলের বেশি সংসদ সদস্য জয়ী হন, তারাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান।

এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াত একাই লড়ছে ২১৫টি আসনে। এরপরেই আছে এনসিপি, দলটির প্রার্থী মাত্র ৩০টি আসনে। ১০ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় শেষ সময়ে যুক্ত হওয়া এনসিপি নিজ আগ্রহে জোটে এলেও নেতৃত্ব কিংবা রাষ্ট্রীয় পদ নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ পায়নি। বাস্তবতা বিবেচনায় অন্যান্য দলগুলোর বক্তব্যেও জামায়াতের নেতৃত্বের কথাই উঠে আসছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জামায়াত দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নির্বাচন করছে। কাজেই এখানে প্রধান্য বা মুখ্য ভূমিকা তাদেরই। বিএনপি জোটে যেমন বড় দল হিসেবে বিএনপির শীর্ষ নেতাকে ধরা হয়, তেমনি এই জোটেও বড় দলের নেতার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে সামনে আসে।

তবে নেতৃত্বের প্রশ্নে জামায়াত এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। ইসলামী আন্দোলনের আপত্তির অভিজ্ঞতার কারণে দলটি চায় নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি দেখেই বিষয়টি নির্ধারণ হোক। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন শেষে কে কতটি আসন পেয়েছে তা দেখা হবে। এরপর সেই ভিত্তিতেই শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। দলের পক্ষ থেকে তারা তাদের শীর্ষ নেতাকেই সামনে রাখবেন বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী জোটের প্রক্রিয়া শুরু হয় মূলত ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্য নিয়ে। শুরুতে ইসলামপন্থী পাঁচটি দল থাকলেও পরে ধর্মভিত্তিক নয়—এমন দলগুলোও যুক্ত হয়। শেষ পর্যন্ত ১০ দলের এই নির্বাচনি ঐক্য গঠিত হলেও ইসলামী আন্দোলন এতে যোগ দেয়নি। জোট গঠনের পর গত এক সপ্তাহ দলগুলো ব্যস্ত ছিল মূলত আসন ভাগাভাগি নিয়ে।

এই জোটের আদর্শিক ভিত্তি কী—এই প্রশ্নে দলগুলো ‘জুলাই স্পিরিট’-এর কথা বলছে। সংস্কার, বিচার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান—এই বিষয়গুলোতে ঐক্যপ্রক্রিয়ায় থাকা দলগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এনসিপির আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, এসব বিষয়ে সব দল একমত এবং কোনো ভেদাভেদ নেই।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও বলেন, এই জোটের ঐক্যের সূত্র হচ্ছে জুলাই স্পিরিট ধারণ, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রগঠন এবং আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান।

শরিয়া আইন প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করবে—এমন কথা তারা বলেনি। তার মতে, সব দল মিলেই গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে থেকে জোট করেছে।

ইসলামপন্থী দলগুলো অবশ্য বলছে, যার যার আদর্শ ও রাষ্ট্রকল্প অটুট রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, তারা বাংলাদেশকে সবার আগে ইনসাফের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। শরিয়া বা ইসলামি আইনভিত্তিক রাষ্ট্রের ধারণা থাকলেও বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে, জনগণকে প্রস্তুত করার মাধ্যমে।

একই বক্তব্য তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে বিদ্যমান আইন একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সংসদীয় প্রক্রিয়া, সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মধ্য দিয়েই কল্যাণকর আইন প্রণয়ন করা হবে। মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়—এমন বিধানই গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

দেশে বরাবরই কোনো একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল বা জোটকে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে দেখা গেলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোটে এবার সেভাবে কাউকে সামনে রাখা হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এবং দলগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে। এই নির্বাচনে প্রার্থী প্রায় দুই হাজার। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুটি বড় রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে। একদিকে আছে বিএনপি এবং দলটি যাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে তারা। অন্যদিকে জামায়াত ও তার সঙ্গে সমঝোতায় আসা দলগুলো।


বিএনপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদসহ যে জোট হয়েছে, সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি এবং এই জোটের নেতৃত্বেও আছেন তারেক রহমান। বিপরীতে জামায়াতসহ ১০ দলের যে জোট হয়েছে, সেখানে একক কোনো নেতৃত্ব নেই। বরং জোটটি চলছে যৌথ নেতৃত্বে।


এই জোটে ১০ দলের মধ্যে জামায়াত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন—এই পাঁচটি দল ইসলামপন্থী। বাকি পাঁচটি দল হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি, আমার বাংলাদেশ বা এবি পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বা জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।


বিভিন্ন ধরনের ১০টি দল একসঙ্গে এলেও কীসের ভিত্তিতে ঐক্য হলো, সেটা স্পষ্ট নয়। এই ঐক্যের উদ্দেশ্য কী, আদর্শিক ভিত্তি কী, সেটা নিয়েও কোনো রূপরেখা বা সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই। এছাড়া এই জোট নির্বাচনে জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন কিংবা নির্বাচনে বিরোধী দলে বসলে বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন, সেটাও নির্ধারিত হয়নি। ফলে অস্পষ্ট নেতৃত্ব এবং দলীয় রূপরেখা নিয়ে এই জোট নির্বাচনের মাঠে বিএনপির কতটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের মধ্যে।


বাংলাদেশের রাজনীতিতে দল বা জোটগুলো ঐতিহ্যগতভাবেই একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখে ভোটের যুদ্ধে নামে। একসময় আওয়ামী লীগ সামনে রেখেছিল শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দল ও জোট পরিচালিত হয়েছে। একইভাবে বিএনপির ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমান থেকে খালেদা জিয়া পর্যন্ত নেতৃত্বকেন্দ্রিক রাজনীতির চিত্র দেখা গেছে। এমনকি জাতীয় পার্টিও নির্বাচনের সময় হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে সামনে রেখেই মাঠে নেমেছিল।


এবারের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সামনে রেখেছে তারেক রহমানকে। কিন্তু ১০ দলীয় ঐক্যে এভাবে একক কোনো নেতৃত্ব সামনে রাখা হয়নি। এতে করে প্রশ্ন উঠছে—এই জোট যদি নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন।


দশ দলের নির্বাচনি ঐক্য গঠনের আগেই এই প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জোট গঠনের আগেই এর সুরাহা করার কথা বলা হয়। যদিও সেটি নিয়ে পরে আর আলোচনা এগোয়নি। পরবর্তীকালে ইসলামী আন্দোলন আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ঐক্যপ্রক্রিয়া থেকেও বেরিয়ে যায়।


ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার পর জোটে জামায়াতের গুরুত্ব ও প্রভাব আরও বেড়েছে। দলটি এককভাবে ২১৫টি আসনে প্রার্থী দেওয়ায় এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে জোটের মূল শক্তি জামায়াত। ফলে ঘোষণা না হলেও এই জোটে জামায়াতই এখন অঘোষিত নেতৃত্বে রয়েছে, যা দলগুলোর বক্তব্যেও প্রতিফলিত হয়।


তাহলে কি জামায়াতের শীর্ষ নেতাই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী—এমন প্রশ্নে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বিবিসি বাংলাকে বলেন, শীর্ষ নেতা, প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেতা—এসব নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। এখানে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে কে বসবেন, তা নিয়েও আলোচনা হয়নি। সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হয়, যে দলের বেশি সংসদ সদস্য জয়ী হন, তারাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান।


এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াত একাই লড়ছে ২১৫টি আসনে। এরপরেই আছে এনসিপি, দলটির প্রার্থী মাত্র ৩০টি আসনে। ১০ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় শেষ সময়ে যুক্ত হওয়া এনসিপি নিজ আগ্রহে জোটে এলেও নেতৃত্ব কিংবা রাষ্ট্রীয় পদ নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ পায়নি। বাস্তবতা বিবেচনায় অন্যান্য দলগুলোর বক্তব্যেও জামায়াতের নেতৃত্বের কথাই উঠে আসছে।


বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জামায়াত দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নির্বাচন করছে। কাজেই এখানে প্রধান্য বা মুখ্য ভূমিকা তাদেরই। বিএনপি জোটে যেমন বড় দল হিসেবে বিএনপির শীর্ষ নেতাকে ধরা হয়, তেমনি এই জোটেও বড় দলের নেতার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে সামনে আসে।


তবে নেতৃত্বের প্রশ্নে জামায়াত এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। ইসলামী আন্দোলনের আপত্তির অভিজ্ঞতার কারণে দলটি চায় নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি দেখেই বিষয়টি নির্ধারণ হোক। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন শেষে কে কতটি আসন পেয়েছে তা দেখা হবে। এরপর সেই ভিত্তিতেই শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। দলের পক্ষ থেকে তারা তাদের শীর্ষ নেতাকেই সামনে রাখবেন বলেও জানান তিনি।


বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী জোটের প্রক্রিয়া শুরু হয় মূলত ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্য নিয়ে। শুরুতে ইসলামপন্থী পাঁচটি দল থাকলেও পরে ধর্মভিত্তিক নয়—এমন দলগুলোও যুক্ত হয়। শেষ পর্যন্ত ১০ দলের এই নির্বাচনি ঐক্য গঠিত হলেও ইসলামী আন্দোলন এতে যোগ দেয়নি। জোট গঠনের পর গত এক সপ্তাহ দলগুলো ব্যস্ত ছিল মূলত আসন ভাগাভাগি নিয়ে।


এই জোটের আদর্শিক ভিত্তি কী—এই প্রশ্নে দলগুলো ‘জুলাই স্পিরিট’-এর কথা বলছে। সংস্কার, বিচার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান—এই বিষয়গুলোতে ঐক্যপ্রক্রিয়ায় থাকা দলগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এনসিপির আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, এসব বিষয়ে সব দল একমত এবং কোনো ভেদাভেদ নেই।


বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও বলেন, এই জোটের ঐক্যের সূত্র হচ্ছে জুলাই স্পিরিট ধারণ, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রগঠন এবং আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান।


শরিয়া আইন প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করবে—এমন কথা তারা বলেনি। তার মতে, সব দল মিলেই গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে থেকে জোট করেছে।


ইসলামপন্থী দলগুলো অবশ্য বলছে, যার যার আদর্শ ও রাষ্ট্রকল্প অটুট রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, তারা বাংলাদেশকে সবার আগে ইনসাফের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। শরিয়া বা ইসলামি আইনভিত্তিক রাষ্ট্রের ধারণা থাকলেও বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে, জনগণকে প্রস্তুত করার মাধ্যমে।


একই বক্তব্য তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে বিদ্যমান আইন একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সংসদীয় প্রক্রিয়া, সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মধ্য দিয়েই কল্যাণকর আইন প্রণয়ন করা হবে। মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়—এমন বিধানই গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ