ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড: প্রধান উপদেষ্টা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড: প্রধান উপদেষ্টা


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যতের সকল নির্বাচনের জন্য একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার একটি অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠককালে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচন, শ্রম আইনের সংস্কার, প্রস্তাবিত শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


অধ্যাপক ইউনূস মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করে বলেন, "১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে উৎসবমুখর এবং স্বচ্ছ। এই ভোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা একটি উঁচু মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই।" তিনি আরও জানান যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বড় প্রতিনিধি দল পাঠাবে বলে সরকার আশাবাদী।


জবাবে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ীদের সঙ্গেই কাজ করতে ওয়াশিংটন আগ্রহী। বিশেষ করে নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান।


বাণিজ্যিক প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান এবং চলমান আলোচনার মাধ্যমে এই সুবিধা আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা করেন। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণকে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।


আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস জানান, বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন হতে চায় এবং এজন্য আসিয়ান-এর সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা ‘সার্ক’-কে পুনরুজ্জীবিত করার ওপরও তিনি জোর দেন। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


বৈঠকে ৭৫টি দেশের ওপর সম্প্রতি আরোপিত মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও জাতীয় নিরাপত্তার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যতের সকল নির্বাচনের জন্য একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার একটি অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠককালে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচন, শ্রম আইনের সংস্কার, প্রস্তাবিত শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


অধ্যাপক ইউনূস মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করে বলেন, "১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে উৎসবমুখর এবং স্বচ্ছ। এই ভোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা একটি উঁচু মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই।" তিনি আরও জানান যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বড় প্রতিনিধি দল পাঠাবে বলে সরকার আশাবাদী।


জবাবে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ীদের সঙ্গেই কাজ করতে ওয়াশিংটন আগ্রহী। বিশেষ করে নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান।


বাণিজ্যিক প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান এবং চলমান আলোচনার মাধ্যমে এই সুবিধা আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা করেন। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণকে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।


আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস জানান, বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন হতে চায় এবং এজন্য আসিয়ান-এর সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা ‘সার্ক’-কে পুনরুজ্জীবিত করার ওপরও তিনি জোর দেন। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


বৈঠকে ৭৫টি দেশের ওপর সম্প্রতি আরোপিত মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও জাতীয় নিরাপত্তার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ