ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সবার জন্য ইনসাফ

বেসরকারি ট্যাক্সের নামে চাঁদাবাজি আর চলবে না: জামায়াত আমির


বিশেষ প্রতিনিধি :
বিশেষ প্রতিনিধি :
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

বেসরকারি ট্যাক্সের নামে চাঁদাবাজি আর চলবে না: জামায়াত আমির
চিত্র : সংগৃহীত

মিরপুরসহ সারা দেশে বেসরকারি ট্যাক্স বা চাঁদাবাজি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ট্যাক্সের বাইরেও বেসরকারি নামে ট্যাক্স নেওয়া হয়। প্রত্যেক মুদির দোকান, রাস্তাঘাট, হকার এবং যেসব মানুষ রাস্তার ধারে বসে ভিক্ষা করে, তাদের কাছ থেকেও ট্যাক্স নেওয়া হয়। এই চাঁদাবাজি আর চলবে না। আমরা চাঁদা নেব না, দেবো না। দুর্নীতি করব না, কাউকে করতে দেবো না। ইনসাফ সবার জন্য; টাকার মূল্যে বিক্রি হবে না।”

বিএনপির দুই হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দুই হাজার টাকা দিয়ে কোনো পরিবারের সমস্যার সমাধান হবে না। এমন কাল্পনিক কার্ডের মাধ্যমে কিছু মানুষের হাতে কিছু দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও আসল সুবিধা নাগরিকদের পৌঁছায় না।”

তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ইনসাফের প্রতীক। সমাজে দুর্নীতি, দখলবাজি, লুটেরা, ব্যাংক ডাকাতি ও সন্ত্রাসের কারণ ইনসাফের অভাব। “ইনসাফ থাকলে কেউ নিরাপদে জনগণের সম্পত্তি লুট করতে পারত না, দেশে বেগমপাড়া তৈরি হতো না, সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হতো না।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সারা বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের কবলে পড়েছিল, বহু মা সন্তান হারিয়েছেন, বহু বোন বিধবা হয়েছেন, ছোট শিশু এতিম হয়েছে। ইতিহাসের কলঙ্ক রচনা করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আয়নাঘর তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে সাধারণ মানুষও রক্ষা পায়নি।

তিনি জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এখানে অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষ বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। যারা ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা ভোট ডাকাত। নতুন কোনো ভোট ডাকাতের আগমন আমরা চাই না।”

ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যারা দলের লোকদের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলাবাজি, সন্ত্রাস এবং মানুষ হত্যা থেকে বিরত রাখতে পারবে, তারাই আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম।

মিরপুরে মানসম্মত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “মনিপুর হাইস্কুল সারাদেশে শ্রেষ্ঠ হাইস্কুলে পরিণত হয়েছিল। এখন সেই মান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। বিশ্বমানের শিক্ষাদান নিশ্চিত করা হবে।”

নিজেকে কেবল জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে নয়, বরং স্বৈরশাসনের কবলে পড়ে যারা আপনজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত আছেন বলে উল্লেখ করেন। শহীদ শরীফ ওসমান হাদির সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “হাদি হারিয়ে যায়নি; এখন ১৮ কোটি মানুষই হাদি। সে ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। হাদী, তোমাকে কথা দিচ্ছি ভাই— তোমার স্বপ্নের লড়াই থামাব না।”

ডা. শফিকুর রহমান যুবসমাজকে কেবল স্বার্থপর ও সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা দিতে নয়; তাদের নৈতিক, দায়িত্বশীল, দক্ষ এবং কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ডা. মোবারক হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ প্রার্থী কর্ণেল আব্দুল বাতেন ও ডা. এসএম খালিদুজ্জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, আয়নাঘর হতে গুম ফেরত সংসদ প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বেসরকারি ট্যাক্সের নামে চাঁদাবাজি আর চলবে না: জামায়াত আমির

প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

মিরপুরসহ সারা দেশে বেসরকারি ট্যাক্স বা চাঁদাবাজি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।


বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ট্যাক্সের বাইরেও বেসরকারি নামে ট্যাক্স নেওয়া হয়। প্রত্যেক মুদির দোকান, রাস্তাঘাট, হকার এবং যেসব মানুষ রাস্তার ধারে বসে ভিক্ষা করে, তাদের কাছ থেকেও ট্যাক্স নেওয়া হয়। এই চাঁদাবাজি আর চলবে না। আমরা চাঁদা নেব না, দেবো না। দুর্নীতি করব না, কাউকে করতে দেবো না। ইনসাফ সবার জন্য; টাকার মূল্যে বিক্রি হবে না।”


বিএনপির দুই হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দুই হাজার টাকা দিয়ে কোনো পরিবারের সমস্যার সমাধান হবে না। এমন কাল্পনিক কার্ডের মাধ্যমে কিছু মানুষের হাতে কিছু দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও আসল সুবিধা নাগরিকদের পৌঁছায় না।”


তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ইনসাফের প্রতীক। সমাজে দুর্নীতি, দখলবাজি, লুটেরা, ব্যাংক ডাকাতি ও সন্ত্রাসের কারণ ইনসাফের অভাব। “ইনসাফ থাকলে কেউ নিরাপদে জনগণের সম্পত্তি লুট করতে পারত না, দেশে বেগমপাড়া তৈরি হতো না, সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হতো না।”


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সারা বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের কবলে পড়েছিল, বহু মা সন্তান হারিয়েছেন, বহু বোন বিধবা হয়েছেন, ছোট শিশু এতিম হয়েছে। ইতিহাসের কলঙ্ক রচনা করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আয়নাঘর তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে সাধারণ মানুষও রক্ষা পায়নি।


তিনি জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এখানে অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষ বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। যারা ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা ভোট ডাকাত। নতুন কোনো ভোট ডাকাতের আগমন আমরা চাই না।”


ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যারা দলের লোকদের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলাবাজি, সন্ত্রাস এবং মানুষ হত্যা থেকে বিরত রাখতে পারবে, তারাই আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম।


মিরপুরে মানসম্মত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “মনিপুর হাইস্কুল সারাদেশে শ্রেষ্ঠ হাইস্কুলে পরিণত হয়েছিল। এখন সেই মান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। বিশ্বমানের শিক্ষাদান নিশ্চিত করা হবে।”


নিজেকে কেবল জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে নয়, বরং স্বৈরশাসনের কবলে পড়ে যারা আপনজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত আছেন বলে উল্লেখ করেন। শহীদ শরীফ ওসমান হাদির সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “হাদি হারিয়ে যায়নি; এখন ১৮ কোটি মানুষই হাদি। সে ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। হাদী, তোমাকে কথা দিচ্ছি ভাই— তোমার স্বপ্নের লড়াই থামাব না।”


ডা. শফিকুর রহমান যুবসমাজকে কেবল স্বার্থপর ও সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা দিতে নয়; তাদের নৈতিক, দায়িত্বশীল, দক্ষ এবং কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।


জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ডা. মোবারক হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ প্রার্থী কর্ণেল আব্দুল বাতেন ও ডা. এসএম খালিদুজ্জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, আয়নাঘর হতে গুম ফেরত সংসদ প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ