সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে এই বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হচ্ছে। এর ফলে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ এসেছে। চূড়ান্তভাবে গ্রেডের সংখ্যা থাকছে ২০টি। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের বেতন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন তুলে ধরার কথা রয়েছে। কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার চূড়ান্তভাবে বেতন ও ভাতা নির্ধারণ করবে।
কমিশন চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে, যা পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে।
জানা গেছে, প্রতিবেদন তৈরির সময় অনলাইনে জরিপের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারীর মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার মানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এসব মতামত পর্যালোচনা করেছে বেতন কমিশন।
সূত্রগুলো জানায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এত দিন ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীরা যাতায়াত ভাতা পেলেও নতুন কাঠামোয় ১০ম ধাপ থেকে ২০তম ধাপ পর্যন্ত যাতায়াত ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণেরও সুপারিশ করা হয়েছে। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা পাঁচ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৫ বছর বয়সীদের জন্য আট হাজার টাকা এবং ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের জন্য ১০ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রথম থেকে ১০ম ধাপ পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে এবং ১১তম থেকে ২০তম ধাপে তুলনামূলক বেশি হারে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন চূড়ান্ত করা হবে।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে ২১ সদস্যের এই বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় শেষে আজ অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে এই বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হচ্ছে। এর ফলে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ এসেছে। চূড়ান্তভাবে গ্রেডের সংখ্যা থাকছে ২০টি। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের বেতন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন তুলে ধরার কথা রয়েছে। কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার চূড়ান্তভাবে বেতন ও ভাতা নির্ধারণ করবে।
কমিশন চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে, যা পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে।
জানা গেছে, প্রতিবেদন তৈরির সময় অনলাইনে জরিপের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারীর মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার মানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এসব মতামত পর্যালোচনা করেছে বেতন কমিশন।
সূত্রগুলো জানায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এত দিন ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীরা যাতায়াত ভাতা পেলেও নতুন কাঠামোয় ১০ম ধাপ থেকে ২০তম ধাপ পর্যন্ত যাতায়াত ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণেরও সুপারিশ করা হয়েছে। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা পাঁচ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৫ বছর বয়সীদের জন্য আট হাজার টাকা এবং ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের জন্য ১০ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রথম থেকে ১০ম ধাপ পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে এবং ১১তম থেকে ২০তম ধাপে তুলনামূলক বেশি হারে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন চূড়ান্ত করা হবে।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে ২১ সদস্যের এই বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় শেষে আজ অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন