ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কমতে পারে অস্বাভাবিক দাম

এলপিজি আমদানির অনুমতি পেল বিপিসি


এস. এম. মেহেদী হাসান :
এস. এম. মেহেদী হাসান :
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

এলপিজি আমদানির অনুমতি পেল বিপিসি

দেশে চলমান এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট নিরসন এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আমদানির অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, বিপিসিকে এলপিজি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ইতোমধ্যে মৌখিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এবং দ্রুতই আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে। এখন থেকে সরকার টু সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যার ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যে ভারসাম্য ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আপাতত সরকার কেবল এলপিজি আমদানির পর্যায়েই যুক্ত থাকবে। আমদানিকৃত গ্যাসের সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ কার্যক্রম আগের মতোই বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। বিতরণ প্রক্রিয়ায় সরকার সরাসরি জড়িত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। এর আগে গত ১০ জানুয়ারি এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে জ্বালানি সচিবকে চিঠি দিয়েছিল বিপিসি। 

সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, দেশের এলপিজি বাজার সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় সংকটের সময় সরকারি পর্যায়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত থাকে। ফলে সরবরাহ ঘাটতি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলায় সরকারের হাতে কার্যকর কোনো হাতিয়ার থাকে না।

বিপিসি মনে করছে, নীতিগত অনুমোদন পাওয়ায় এখন জিটুজি ভিত্তিতে দ্রুত এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে। বিপিসির আবেদনের প্রেক্ষিতেই জনস্বার্থ বিবেচনায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।

এদিকে বাজারে এলপি গ্যাসের চরম সংকটের অজুহাতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীতে ১২ কেজির প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়, যা সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বেশি। এছাড়া ৩৫ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। 

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, প্রতি মাসে সোয়া কোটি সিলিন্ডার রিফিল হচ্ছে; সেই হিসেবে সিলিন্ডার প্রতি গড়ে এক হাজার টাকা বাড়তি নেওয়া হলে সাধারণ গ্রাহকদের পকেট থেকে মাসে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু চক্র। সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে এই লুণ্ঠন বন্ধ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


এলপিজি আমদানির অনুমতি পেল বিপিসি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

দেশে চলমান এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট নিরসন এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আমদানির অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, বিপিসিকে এলপিজি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ইতোমধ্যে মৌখিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এবং দ্রুতই আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে। এখন থেকে সরকার টু সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যার ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যে ভারসাম্য ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আপাতত সরকার কেবল এলপিজি আমদানির পর্যায়েই যুক্ত থাকবে। আমদানিকৃত গ্যাসের সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ কার্যক্রম আগের মতোই বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। বিতরণ প্রক্রিয়ায় সরকার সরাসরি জড়িত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। এর আগে গত ১০ জানুয়ারি এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে জ্বালানি সচিবকে চিঠি দিয়েছিল বিপিসি। 


সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, দেশের এলপিজি বাজার সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় সংকটের সময় সরকারি পর্যায়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত থাকে। ফলে সরবরাহ ঘাটতি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলায় সরকারের হাতে কার্যকর কোনো হাতিয়ার থাকে না।


বিপিসি মনে করছে, নীতিগত অনুমোদন পাওয়ায় এখন জিটুজি ভিত্তিতে দ্রুত এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে। বিপিসির আবেদনের প্রেক্ষিতেই জনস্বার্থ বিবেচনায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।


এদিকে বাজারে এলপি গ্যাসের চরম সংকটের অজুহাতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীতে ১২ কেজির প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়, যা সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বেশি। এছাড়া ৩৫ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। 


এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, প্রতি মাসে সোয়া কোটি সিলিন্ডার রিফিল হচ্ছে; সেই হিসেবে সিলিন্ডার প্রতি গড়ে এক হাজার টাকা বাড়তি নেওয়া হলে সাধারণ গ্রাহকদের পকেট থেকে মাসে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু চক্র। সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে এই লুণ্ঠন বন্ধ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ