রাজধানীর পল্টন এলাকায় গত ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা‑৮ আসনের সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রার্থী শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন মডেল থানা দিয়ে মামলা করেন, যা পরে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)‑র পক্ষ থেকে তদন্তে নেওয়া হয়।
ডিবি তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ফয়সাল আহমেদ ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে নাম উল্লেখ করা আসামির মধ্যে অন্যতম প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (জানা যায় ‘ডাউদ’ বা ‘রাহুল’ নামে) ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একসময় কাউন্সিলর ও যুবলীগের নেতাও ছিলেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি; তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড) হিসেবে অভিযোগে নাম রয়েছে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছে —
ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭),
মো. হুমায়ুন কবির (৭০),
হাসি বেগম (৬০),
সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪),
ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭),
মারিয়া আক্তার লিমা (২১),
মো. কবির (৩৩),
মো. নুরুজ্জামান নোমানী (৩৪),
সিবিয়ন দিউ (৩২),
সঞ্জয় চিসিম (২৩),
মো. আমিনুল ইসলাম (৩৭),
মো. আলমগীর হোসেন (২৬),
ফিলিপ স্নাল (৩২),
মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। এদের মধ্যে ফয়সালসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।
এই হামলায় হাদি একটি ব্যাটারি‑চালিত রিকশায় যাচ্ছিলেন তখন দুইজন সঙ্গীসহ মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা সরাসরি গুলি চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও তিনি প্রাণ হারান। মামলায় শুরুতে আত্মহত্যা নয়, হত্যার মামলা দায়ের হয় এবং মৃত্যু পর দণ্ডবিধি ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়।
দ্বিপাক্ষিক অভিযোগপত্র নিয়ে বাদী পক্ষ ডিবি‑র তদন্ত প্রতিবেদনটিকে যথেষ্ট বলে মেনে নিতে নারাজি (নো‑কনফিডেন্স) পিটিশন দায়ের করেছেন। বাদী আর্জি করেছে যে, অভিযোগপত্রে মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীদের যথাযথভাবে চিহ্নিত এবং যুক্তি‑প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, ফলে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। একই কারণে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আজ আদালতে সিআইডিকে (Criminal Investigation Department) মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করেছেন।
এর আগে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ একটি আলাদা আদালত মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সংশ্লিষ্টদের ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬৫.৫০ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল, যা তদন্ত কার্যক্রমে আর্থিক উৎস অনুসন্ধানে সহায়ক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার পুনঃতদন্ত রাতে মধ্য কল্যাণ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি যাচাইয়ের পর আদালত আগামী সময়ে চার্জশিট গ্রহণ বা নতুন কার্যক্রমের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর পল্টন এলাকায় গত ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা‑৮ আসনের সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রার্থী শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন মডেল থানা দিয়ে মামলা করেন, যা পরে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)‑র পক্ষ থেকে তদন্তে নেওয়া হয়।
ডিবি তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ফয়সাল আহমেদ ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে নাম উল্লেখ করা আসামির মধ্যে অন্যতম প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (জানা যায় ‘ডাউদ’ বা ‘রাহুল’ নামে) ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একসময় কাউন্সিলর ও যুবলীগের নেতাও ছিলেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি; তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড) হিসেবে অভিযোগে নাম রয়েছে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছে —
ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭),
মো. হুমায়ুন কবির (৭০),
হাসি বেগম (৬০),
সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪),
ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭),
মারিয়া আক্তার লিমা (২১),
মো. কবির (৩৩),
মো. নুরুজ্জামান নোমানী (৩৪),
সিবিয়ন দিউ (৩২),
সঞ্জয় চিসিম (২৩),
মো. আমিনুল ইসলাম (৩৭),
মো. আলমগীর হোসেন (২৬),
ফিলিপ স্নাল (৩২),
মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। এদের মধ্যে ফয়সালসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।
এই হামলায় হাদি একটি ব্যাটারি‑চালিত রিকশায় যাচ্ছিলেন তখন দুইজন সঙ্গীসহ মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা সরাসরি গুলি চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও তিনি প্রাণ হারান। মামলায় শুরুতে আত্মহত্যা নয়, হত্যার মামলা দায়ের হয় এবং মৃত্যু পর দণ্ডবিধি ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়।
দ্বিপাক্ষিক অভিযোগপত্র নিয়ে বাদী পক্ষ ডিবি‑র তদন্ত প্রতিবেদনটিকে যথেষ্ট বলে মেনে নিতে নারাজি (নো‑কনফিডেন্স) পিটিশন দায়ের করেছেন। বাদী আর্জি করেছে যে, অভিযোগপত্রে মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীদের যথাযথভাবে চিহ্নিত এবং যুক্তি‑প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, ফলে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। একই কারণে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আজ আদালতে সিআইডিকে (Criminal Investigation Department) মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করেছেন।
এর আগে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ একটি আলাদা আদালত মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সংশ্লিষ্টদের ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬৫.৫০ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল, যা তদন্ত কার্যক্রমে আর্থিক উৎস অনুসন্ধানে সহায়ক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার পুনঃতদন্ত রাতে মধ্য কল্যাণ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি যাচাইয়ের পর আদালত আগামী সময়ে চার্জশিট গ্রহণ বা নতুন কার্যক্রমের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

আপনার মতামত লিখুন