ইসলামের ইতিহাস ও হাদিসসমূহে পাওয়া মতে নবী মুহাম্মদ ﷺ অসুস্থ অবস্থাতেও নেক আমল ও দোয়াকে প্রায় চলমান রেখেছিলেন, যা আমাদের জন্য আজও এক শক্তিশালী শিক্ষা। ইসলামী উৎসগুলোতে বিভিন্নভাবে বর্ণিত আছে যে অসুস্থতা শুধু শারীরিক সময়েই সীমাবদ্ধ ছিল না — বরং এটি নেক আমল ও সওয়াব অর্জনের সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হত।
প্রথমত, হাদিসে বিবৃত আছে যে যখন কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়, তখন যে আমল তিনি সুস্থ অবস্থায় করতেন, তারই সওয়াব অসুস্থ অবস্থায়ও তাকে লেখা হয়। অর্থাৎ অসুস্থতার কারণে ইবাদত করতে অক্ষম হলেও, আগের নেক কাজগুলো তার আমলনামে লেখা চালিয়ে যায়। এটি ইসলামের একটি দয়ালু দিক, যেখানে মানুষের নৈতিক প্রচেষ্টা ও নিয়মিত ইবাদতের মূল্যায়ন হয়।
হাদিসে আরও বর্ণিত আছে যে নবীজী ﷺ অসুস্থ অবস্থায় নিজেই দোয়া ও রুকইয়া (আধ্যাত্মিক সুরক্ষা ও চিকিৎসা) করতেন। যেমন, তিনি অসুস্থ অবস্থায় আল‑ফালাক ও আন‑নাস সূরা পড়তেন এবং নিজ দেহে দম দিয়ে হাত বুলিয়ে দিতেন — এটি একটি রুকইয়ার সুন্নাহ হিসেবেও বিবেচিত হয়।
এছাড়াও নবীজি ﷺ অসুস্থদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া পড়তেন তাদের সুস্থতার জন্য। হাদিসে বর্ণিত যে তিনি অসুস্থ সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)‑এর জন্য তিনবার দোয়া করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এবং তাকে ঠিক করার জন্য দোয়া ও ইজলাস করেছিলেন, এবং পরবর্তীতে সা‘দ (রাঃ) সুস্থ হয়ে যান।
শরিয়াহ অনুযায়ী, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ইবাদত এবং দোয়াকে সহজ করে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু অসুস্থ ব্যক্তি পরিস্থিতির কারণে পূর্ণ ইবাদত পালন করতে পারে না, তাই আল্লাহ তাআলা তাকে সুস্থ অবস্থায় করা আমলের সমপরিমাণ সওয়াব দেয়। এটি এমন এক দান, যা অসুস্থ ব্যক্তিকে ঈমানের বিপুল শক্তি ও সাহস যোগায়।
অসুস্থতার মাধ্যমে গুনাহও কাফফারা হয়ে যায় — ইসলামে বিশ্বাস করা হয় যে রোগে আক্রান্ত হওয়া এক ধরণের পরিশোধন; এতে আল্লাহ বান্দার ভুল ও গুনাহ মাফ করেন। হাদিসে এসেছে যে যখন একজন মুমিন অসুস্থ হয়, তখন আল্লাহ তাকে গুনাহমুক্ত করেন যেমন আগুন লোহাকে বিশুদ্ধ করে।
নবীজী ﷺ‑এর জীবনে অসুস্থ অবস্থাও ছিল নেক আমল, দোয়া এবং আল্লাহর স্মরণে সময় কাটানোর একটি মাধ্যম। তিনি দেখিয়ে গেছেন যে শরীরের অসুবিধা কখনোই নেক কাজ থেকে বিরত থাকার কারণ হতে পারে না; বরং যথ্থা সম্ভব দোয়া, ইস্তেগফার ও স্মরণে সময় দেওয়া উচিত। অনেকে অসুস্থ অবস্থায় মনখোলা দোয়া ও স্মরণের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কাছে যাওয়ার গুরুত্বও শিখেছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস ও হাদিসসমূহে পাওয়া মতে নবী মুহাম্মদ ﷺ অসুস্থ অবস্থাতেও নেক আমল ও দোয়াকে প্রায় চলমান রেখেছিলেন, যা আমাদের জন্য আজও এক শক্তিশালী শিক্ষা। ইসলামী উৎসগুলোতে বিভিন্নভাবে বর্ণিত আছে যে অসুস্থতা শুধু শারীরিক সময়েই সীমাবদ্ধ ছিল না — বরং এটি নেক আমল ও সওয়াব অর্জনের সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হত।
প্রথমত, হাদিসে বিবৃত আছে যে যখন কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়, তখন যে আমল তিনি সুস্থ অবস্থায় করতেন, তারই সওয়াব অসুস্থ অবস্থায়ও তাকে লেখা হয়। অর্থাৎ অসুস্থতার কারণে ইবাদত করতে অক্ষম হলেও, আগের নেক কাজগুলো তার আমলনামে লেখা চালিয়ে যায়। এটি ইসলামের একটি দয়ালু দিক, যেখানে মানুষের নৈতিক প্রচেষ্টা ও নিয়মিত ইবাদতের মূল্যায়ন হয়।
হাদিসে আরও বর্ণিত আছে যে নবীজী ﷺ অসুস্থ অবস্থায় নিজেই দোয়া ও রুকইয়া (আধ্যাত্মিক সুরক্ষা ও চিকিৎসা) করতেন। যেমন, তিনি অসুস্থ অবস্থায় আল‑ফালাক ও আন‑নাস সূরা পড়তেন এবং নিজ দেহে দম দিয়ে হাত বুলিয়ে দিতেন — এটি একটি রুকইয়ার সুন্নাহ হিসেবেও বিবেচিত হয়।
এছাড়াও নবীজি ﷺ অসুস্থদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া পড়তেন তাদের সুস্থতার জন্য। হাদিসে বর্ণিত যে তিনি অসুস্থ সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)‑এর জন্য তিনবার দোয়া করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এবং তাকে ঠিক করার জন্য দোয়া ও ইজলাস করেছিলেন, এবং পরবর্তীতে সা‘দ (রাঃ) সুস্থ হয়ে যান।
শরিয়াহ অনুযায়ী, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ইবাদত এবং দোয়াকে সহজ করে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু অসুস্থ ব্যক্তি পরিস্থিতির কারণে পূর্ণ ইবাদত পালন করতে পারে না, তাই আল্লাহ তাআলা তাকে সুস্থ অবস্থায় করা আমলের সমপরিমাণ সওয়াব দেয়। এটি এমন এক দান, যা অসুস্থ ব্যক্তিকে ঈমানের বিপুল শক্তি ও সাহস যোগায়।
অসুস্থতার মাধ্যমে গুনাহও কাফফারা হয়ে যায় — ইসলামে বিশ্বাস করা হয় যে রোগে আক্রান্ত হওয়া এক ধরণের পরিশোধন; এতে আল্লাহ বান্দার ভুল ও গুনাহ মাফ করেন। হাদিসে এসেছে যে যখন একজন মুমিন অসুস্থ হয়, তখন আল্লাহ তাকে গুনাহমুক্ত করেন যেমন আগুন লোহাকে বিশুদ্ধ করে।
নবীজী ﷺ‑এর জীবনে অসুস্থ অবস্থাও ছিল নেক আমল, দোয়া এবং আল্লাহর স্মরণে সময় কাটানোর একটি মাধ্যম। তিনি দেখিয়ে গেছেন যে শরীরের অসুবিধা কখনোই নেক কাজ থেকে বিরত থাকার কারণ হতে পারে না; বরং যথ্থা সম্ভব দোয়া, ইস্তেগফার ও স্মরণে সময় দেওয়া উচিত। অনেকে অসুস্থ অবস্থায় মনখোলা দোয়া ও স্মরণের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কাছে যাওয়ার গুরুত্বও শিখেছেন।

আপনার মতামত লিখুন