বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় গভীর রাতে বাড়ি থেকে দুই যুবককে ধরে এনে সাজানো ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শাজাহানপুর থানার কৈগাড়ি ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী দুই যুবক হলেন উপজেলার বেজোড়া দক্ষিণপাড়া এলাকার নাহিদ ইসলাম (২৪) ও বিপুল হাসান। নাহিদ পেশায় রং মিস্ত্রি এবং বিপুল একটি বেসরকারি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তারা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
মামলার এজাহার সূত্রে পুলিশ দাবি করেছে, গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে বনানী–বেজোড়া সড়কের বেজোড়া সেতুর পূর্ব পাশে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় ওই দুই যুবককে আটক করা হয়। পরে দেহ তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে দুটি বার্মিজ চাকু এবং ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র ও রশি উদ্ধার করা হয়।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ কোনো ধরনের পরোয়ানা ছাড়াই নাহিদের বাড়িতে গিয়ে নাহিদ ও বিপুলকে আটক করে। এ সময় বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো অস্ত্র বা ডাকাতির প্রস্তুতির আলামত পাওয়া যায়নি। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
নাহিদের মা নাজমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ আমাদের ঘরে ঢুকে বিছানা তছনছ করে আমার ছেলেকে ও তার বন্ধুকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন শুনি ডাকাতির মামলা দেওয়া হয়েছে। আমার ছেলের জন্য সাত হাজার টাকা ঘুষও নেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে মামলার জব্দ তালিকার সাক্ষীদের বক্তব্যে। জব্দ তালিকায় সাক্ষী হিসেবে থাকা মামুন হোসেন ও ইব্রাহিম খলিল জানান, পুলিশ তাদের কাছ থেকে শুধু কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে। কোনো অস্ত্র উদ্ধার তারা নিজের চোখে দেখেননি।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশ দুইজনকে চাকুসহ গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন।”
অন্যদিকে বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় গভীর রাতে বাড়ি থেকে দুই যুবককে ধরে এনে সাজানো ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শাজাহানপুর থানার কৈগাড়ি ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী দুই যুবক হলেন উপজেলার বেজোড়া দক্ষিণপাড়া এলাকার নাহিদ ইসলাম (২৪) ও বিপুল হাসান। নাহিদ পেশায় রং মিস্ত্রি এবং বিপুল একটি বেসরকারি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তারা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
মামলার এজাহার সূত্রে পুলিশ দাবি করেছে, গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে বনানী–বেজোড়া সড়কের বেজোড়া সেতুর পূর্ব পাশে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় ওই দুই যুবককে আটক করা হয়। পরে দেহ তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে দুটি বার্মিজ চাকু এবং ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র ও রশি উদ্ধার করা হয়।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ কোনো ধরনের পরোয়ানা ছাড়াই নাহিদের বাড়িতে গিয়ে নাহিদ ও বিপুলকে আটক করে। এ সময় বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো অস্ত্র বা ডাকাতির প্রস্তুতির আলামত পাওয়া যায়নি। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
নাহিদের মা নাজমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ আমাদের ঘরে ঢুকে বিছানা তছনছ করে আমার ছেলেকে ও তার বন্ধুকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন শুনি ডাকাতির মামলা দেওয়া হয়েছে। আমার ছেলের জন্য সাত হাজার টাকা ঘুষও নেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে মামলার জব্দ তালিকার সাক্ষীদের বক্তব্যে। জব্দ তালিকায় সাক্ষী হিসেবে থাকা মামুন হোসেন ও ইব্রাহিম খলিল জানান, পুলিশ তাদের কাছ থেকে শুধু কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে। কোনো অস্ত্র উদ্ধার তারা নিজের চোখে দেখেননি।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশ দুইজনকে চাকুসহ গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন।”
অন্যদিকে বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন