ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তীব্র গ্যাসের সংকটসহ ৬ সমস্যায় দেশের রেস্তেরাঁ খাত


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

তীব্র গ্যাসের সংকটসহ ৬ সমস্যায় দেশের রেস্তেরাঁ খাত

 দেশের রেস্তোরাঁ খাত বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে এবং মালিকরা সরকারের কাছে একে জাতীয় জরুরি ইস্যু হিসেবে অনুধাবনের দাবি তুলেছেন। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি (BROA) গতকাল রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি‑তে এক সংবাদ সম্মেলনে ছয়টি মৌলিক সমস্যার কথা তুলে ধরে অবস্থার গম্ভীরতা ব্যাখ্যা করেছেন, যা দ্রুত সমাধান না হলে দেশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ব্যবসা বন্ধের হুমকিতে পড়বে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

BROA‑এর সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে গত কয়েক মাস ধরে দেশের রেস্তোরাঁগুলো গ্যাস সরবরাহ পৌঁছানো কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি, এলপিজি‑র দাম বাড়া এবং এলপিজি‑র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়াসহ বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছে। তিনি দাবি করেন যে পাইপলাইন গ্যাস সংযোগগুলো দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় রেস্তোরাঁগুলোকে এলপিজি‑র ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যার দাম বর্ধিত হওয়ার পাশাপাশি বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে। এর ফলে রান্নার খরচে ব্যাপক বৃদ্ধি সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান আর লাভের মুখ দেখতে পারছে না।

সংবাদ সম্মেলনে মালিকেরা যে ছয়টি প্রধান সমস্যা তুলে ধরেছেন, তা হলো:

১. তীব্র গ্যাস সংকট ও উচ্চ জ্বালানি খরচ: পাইপলাইন ব্যবস্থা কমে যাওয়ায় অবলম্বন করা এলপিজি‑র দাম অসাধারণভাবে বেড়ে গেছে এবং বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া কঠিন হয়েছে। মালিকদের মতে কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য পেট্রোলিয়াম/গ্যাস সিন্ডিকেটের কার্যক্রম গ্যাসের প্রাপ্যতা কমিয়ে দিয়েছিল।

২. মূল্যস্ফীতি ও কাঁচামালের দাম বাড়া: রান্নার জন্য ব্যবহৃত তেল, চাল, ডাল ইত্যাদি কাঁচামালের আগের তুলনায় দাম গড়পড়তা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় খাদ্যের উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

৩. শ্রমিকের নামে হয়রানি ও চাপ: মালিকরা দাবি করেন একাধিক গোষ্ঠী ট্রেড ইউনিয়নের নামে হুমকি ও অতিরিক্ত দাবিতে, ব্যবসায়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

৪. নিয়ন্ত্রক ও প্রশাসনিক জটিলতা: বিভিন্ন সরকারি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নিয়ম‑কানুন ও অনুমোদন ব্যবস্থায় ভুল বোঝাবুঝি ও জটিলতা ব্যবসা পরিচালনা কঠিন করছে।

৫. অনুচিত প্রতিযোগিতা: অনিয়ন্ত্রিত স্ট্রিট ফুড বা রাস্তার খাবারের ব্যবসা রেস্তোরাঁর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে যা রেস্তোরাঁর বাজার হারানোতে ভূমিকা রাখছে।

৬. রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অনিশ্চিত পরিবেশ: রেস্তোরাঁ মালিকরা বলেছেন, চলমান নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট নীতিগত নিরাপত্তার অভাব বৃহৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দিচ্ছে।

BROA আরও বলেন, যদি অনিয়ম, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান না করা হয়, তাহলে বিভিন্ন শহর ও শহরতলির হোটেল‑রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কর্মচারীদের চাকরি, গ্রাহকদের খাবারের মূল্য সাশ্রয় এবং দেশজুড়ে খাদ্যব্যবসার নির্ভরযোগ্যতা সবই বিপন্ন হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের গ্যাস সংকট ও জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি এলপিজি‑র বাজারে সরবরাহের অভাব ও বেশি দাম খাদ্য খাতে সরাসরি চাপ সৃষ্টি করেছে, ফলে রেস্তোরাঁর পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় লাভের মার্জিন কমে গেছে।

এ অবস্থায় মালিক সমিতি সরকারের কাছে দাবি তুলেছে– দ্রুত গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান, মূল্য নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট নির্মূল, শ্রমিক হয়রানি রোধ, এক‑স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা ও নির্বাচন প্রতিশ্রুতি‑তে রেস্তোরাঁ খাতের নিরাপত্তা স্থাপন করা। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


তীব্র গ্যাসের সংকটসহ ৬ সমস্যায় দেশের রেস্তেরাঁ খাত

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

 দেশের রেস্তোরাঁ খাত বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে এবং মালিকরা সরকারের কাছে একে জাতীয় জরুরি ইস্যু হিসেবে অনুধাবনের দাবি তুলেছেন। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি (BROA) গতকাল রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি‑তে এক সংবাদ সম্মেলনে ছয়টি মৌলিক সমস্যার কথা তুলে ধরে অবস্থার গম্ভীরতা ব্যাখ্যা করেছেন, যা দ্রুত সমাধান না হলে দেশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ব্যবসা বন্ধের হুমকিতে পড়বে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

BROA‑এর সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে গত কয়েক মাস ধরে দেশের রেস্তোরাঁগুলো গ্যাস সরবরাহ পৌঁছানো কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি, এলপিজি‑র দাম বাড়া এবং এলপিজি‑র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়াসহ বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছে। তিনি দাবি করেন যে পাইপলাইন গ্যাস সংযোগগুলো দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় রেস্তোরাঁগুলোকে এলপিজি‑র ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যার দাম বর্ধিত হওয়ার পাশাপাশি বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে। এর ফলে রান্নার খরচে ব্যাপক বৃদ্ধি সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান আর লাভের মুখ দেখতে পারছে না।

সংবাদ সম্মেলনে মালিকেরা যে ছয়টি প্রধান সমস্যা তুলে ধরেছেন, তা হলো:

১. তীব্র গ্যাস সংকট ও উচ্চ জ্বালানি খরচ: পাইপলাইন ব্যবস্থা কমে যাওয়ায় অবলম্বন করা এলপিজি‑র দাম অসাধারণভাবে বেড়ে গেছে এবং বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া কঠিন হয়েছে। মালিকদের মতে কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য পেট্রোলিয়াম/গ্যাস সিন্ডিকেটের কার্যক্রম গ্যাসের প্রাপ্যতা কমিয়ে দিয়েছিল।

২. মূল্যস্ফীতি ও কাঁচামালের দাম বাড়া: রান্নার জন্য ব্যবহৃত তেল, চাল, ডাল ইত্যাদি কাঁচামালের আগের তুলনায় দাম গড়পড়তা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় খাদ্যের উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

৩. শ্রমিকের নামে হয়রানি ও চাপ: মালিকরা দাবি করেন একাধিক গোষ্ঠী ট্রেড ইউনিয়নের নামে হুমকি ও অতিরিক্ত দাবিতে, ব্যবসায়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

৪. নিয়ন্ত্রক ও প্রশাসনিক জটিলতা: বিভিন্ন সরকারি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নিয়ম‑কানুন ও অনুমোদন ব্যবস্থায় ভুল বোঝাবুঝি ও জটিলতা ব্যবসা পরিচালনা কঠিন করছে।

৫. অনুচিত প্রতিযোগিতা: অনিয়ন্ত্রিত স্ট্রিট ফুড বা রাস্তার খাবারের ব্যবসা রেস্তোরাঁর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে যা রেস্তোরাঁর বাজার হারানোতে ভূমিকা রাখছে।

৬. রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অনিশ্চিত পরিবেশ: রেস্তোরাঁ মালিকরা বলেছেন, চলমান নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট নীতিগত নিরাপত্তার অভাব বৃহৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দিচ্ছে।

BROA আরও বলেন, যদি অনিয়ম, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান না করা হয়, তাহলে বিভিন্ন শহর ও শহরতলির হোটেল‑রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কর্মচারীদের চাকরি, গ্রাহকদের খাবারের মূল্য সাশ্রয় এবং দেশজুড়ে খাদ্যব্যবসার নির্ভরযোগ্যতা সবই বিপন্ন হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের গ্যাস সংকট ও জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি এলপিজি‑র বাজারে সরবরাহের অভাব ও বেশি দাম খাদ্য খাতে সরাসরি চাপ সৃষ্টি করেছে, ফলে রেস্তোরাঁর পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় লাভের মার্জিন কমে গেছে।

এ অবস্থায় মালিক সমিতি সরকারের কাছে দাবি তুলেছে– দ্রুত গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান, মূল্য নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট নির্মূল, শ্রমিক হয়রানি রোধ, এক‑স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা ও নির্বাচন প্রতিশ্রুতি‑তে রেস্তোরাঁ খাতের নিরাপত্তা স্থাপন করা। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ