রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে গ্যাস সরবরাহ তীব্র সংকটে পড়েছে। অনেক গ্রাহক নিয়মিত মাসিক বিল পরিশোধ করলেও পাইপলাইনের মাধ্যমে যথাযথ গ্যাস পাচ্ছেন না। এই কারণে রান্না, গরম জল এবং দৈনন্দিন কাজগুলো চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শীতের শুরুতেই পাইপলাইন গ্যাসের চাপ কমে গেছে, বিশেষ করে ঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায়। অনেক পরিবার সকালে রান্না করতে গিয়ে চুলায় গ্যাস না পেয়ে সমস্যায় পড়ছেন। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকার কারণে একসাথে দুটি চুলা চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। তুরাগ নদীর নিচের পাইপলাইনে লিকেজ ও ক্ষতি সারানোর কাজে বিলম্ব হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়—যেমন খিলগাঁও, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আদাবর—বাসিন্দারা দিনে প্রায় ২০ ঘন্টা গ্যাসের অভাবে ভুগছেন। কেউ কেউ গত এক সপ্তাহ ধরে একটুও গ্যাস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন স্টোভ এবং মাটির চুলা ব্যবহার করছেন। অনেক বাড়িতেই সকালের নাস্তাও বাইরে কিনে আনতে হচ্ছে। হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে।
পাইপলাইনের সমস্যা ছাড়াও এলপিজি গ্যাসের সরবরাহও কম। বাজারে সরকারি রেটের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অনেক জেলা ও শহরের মানুষ সরকারি রেটের এলপিজি না পেয়ে সাধারণ বাজার থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। শারিয়তপুর, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও তা সাধারণ ক্রেতারা কিনতে পারছেন না; ১৩০০ টাকার সিলিন্ডারও কোথাও ২,০০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ অপরিকল্পিতভাবে বাড়তি খরচ করছেন।
সম্প্রতি ঢাকার মিরপুর রোডে একটি বড় গ্যাস ভাল্ব বিস্ফোরণের কারণে শহরের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে গ্যাসের চাপ কমে গেছে বা বন্ধ হয়ে গেছে। এই ধরনের ঘটনা সরবরাহ নেটওয়ার্ককে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করেছে।
গ্রাহকরা দৈনন্দিন জীবন এবং রান্নার কাজে তীব্র সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। মোহাম্মদপুরের এক বাসিন্দা বলেন, “মাসিক বিল পরিশোধ করেও দিনের বেলায় একটুও গ্যাস নেই, রাতে সামান্য চাপ আসে কিন্তু রান্নার জন্য যথেষ্ট নয়।” খিলগাঁওয়ের একজন কর্মজীবী জানান, “সকালে গ্যাস না থাকলে অফিসে যাওয়া থেকে ফিরেও রান্না করার মতো সময় ও গ্যাসই থাকে না।” গ্রাহক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বিল নেওয়া হলেও সেবা না দেওয়া ‘‘নাগরিকদের সাথে অন্যায়’’ এবং এর জন্য জবাবদিহিতা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সংকট শুধু শীতের কারণে নয়; এর পেছনে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, লিকেজ মেরামতের বিলম্ব, অবকাঠামোর সংস্কারের ঘাটতি এবং এলপিজি বাজারে অনিয়মিত সরবরাহও দায়ী। তারা সতর্ক করেছেন, এই সংকট পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে তা দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে গ্যাস সরবরাহ তীব্র সংকটে পড়েছে। অনেক গ্রাহক নিয়মিত মাসিক বিল পরিশোধ করলেও পাইপলাইনের মাধ্যমে যথাযথ গ্যাস পাচ্ছেন না। এই কারণে রান্না, গরম জল এবং দৈনন্দিন কাজগুলো চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শীতের শুরুতেই পাইপলাইন গ্যাসের চাপ কমে গেছে, বিশেষ করে ঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায়। অনেক পরিবার সকালে রান্না করতে গিয়ে চুলায় গ্যাস না পেয়ে সমস্যায় পড়ছেন। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকার কারণে একসাথে দুটি চুলা চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। তুরাগ নদীর নিচের পাইপলাইনে লিকেজ ও ক্ষতি সারানোর কাজে বিলম্ব হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়—যেমন খিলগাঁও, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আদাবর—বাসিন্দারা দিনে প্রায় ২০ ঘন্টা গ্যাসের অভাবে ভুগছেন। কেউ কেউ গত এক সপ্তাহ ধরে একটুও গ্যাস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন স্টোভ এবং মাটির চুলা ব্যবহার করছেন। অনেক বাড়িতেই সকালের নাস্তাও বাইরে কিনে আনতে হচ্ছে। হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে।
পাইপলাইনের সমস্যা ছাড়াও এলপিজি গ্যাসের সরবরাহও কম। বাজারে সরকারি রেটের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অনেক জেলা ও শহরের মানুষ সরকারি রেটের এলপিজি না পেয়ে সাধারণ বাজার থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। শারিয়তপুর, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও তা সাধারণ ক্রেতারা কিনতে পারছেন না; ১৩০০ টাকার সিলিন্ডারও কোথাও ২,০০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ অপরিকল্পিতভাবে বাড়তি খরচ করছেন।
সম্প্রতি ঢাকার মিরপুর রোডে একটি বড় গ্যাস ভাল্ব বিস্ফোরণের কারণে শহরের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে গ্যাসের চাপ কমে গেছে বা বন্ধ হয়ে গেছে। এই ধরনের ঘটনা সরবরাহ নেটওয়ার্ককে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করেছে।
গ্রাহকরা দৈনন্দিন জীবন এবং রান্নার কাজে তীব্র সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। মোহাম্মদপুরের এক বাসিন্দা বলেন, “মাসিক বিল পরিশোধ করেও দিনের বেলায় একটুও গ্যাস নেই, রাতে সামান্য চাপ আসে কিন্তু রান্নার জন্য যথেষ্ট নয়।” খিলগাঁওয়ের একজন কর্মজীবী জানান, “সকালে গ্যাস না থাকলে অফিসে যাওয়া থেকে ফিরেও রান্না করার মতো সময় ও গ্যাসই থাকে না।” গ্রাহক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বিল নেওয়া হলেও সেবা না দেওয়া ‘‘নাগরিকদের সাথে অন্যায়’’ এবং এর জন্য জবাবদিহিতা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সংকট শুধু শীতের কারণে নয়; এর পেছনে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, লিকেজ মেরামতের বিলম্ব, অবকাঠামোর সংস্কারের ঘাটতি এবং এলপিজি বাজারে অনিয়মিত সরবরাহও দায়ী। তারা সতর্ক করেছেন, এই সংকট পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে তা দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আপনার মতামত লিখুন