ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তীব্র শীতে যশোরে ১০ জনের মৃ/ত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

তীব্র শীতে যশোরে ১০ জনের মৃ/ত্যু
চিত্র : সংগৃহীত

যশোরে তীব্র শীতের কারণে ঠাণ্ডাজনিত ও ফুসফুস সংক্রমণজনিত রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় এ ধরনের কারণে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শতাধিক রোগী ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এসব রোগীর মধ্যে ৫৪ জন শিশু রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তীব্র শীতের কারণে বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে। এ কারণে ঘরে ও বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে মো. শামছুজ্জামান জানান, ঠাণ্ডার কারণে তার বাবার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ছয়টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তার বাবা মারা যান।

মৃত শেখ সদরুল আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার বাবার আগে থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল। এর পাশাপাশি গত কয়েক দিনের তীব্র শীতে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল রাতে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত মনিরা খাতুনের ছেলে শেখ মামুন বলেন, তার মায়ের বয়স ৬৪ বছর। প্রচণ্ড শীতে তিনি প্রায় ১০ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় গুরুতর অবস্থায় গতকাল রাতে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেখ মামুনের বাড়ির পাশেই ৬৫ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষিকা উম্মে হানি মারা গেছেন। তার ছেলে বনি জানান, তার মা এক সপ্তাহ ধরে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে তার মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাচ্ছিল না, যা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় যশোরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বাতাসের তীব্রতা বাড়ায় শীতের প্রকোপ চরমে পৌঁছেছে। সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাস শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় জেলাজুড়ে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


তীব্র শীতে যশোরে ১০ জনের মৃ/ত্যু

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

যশোরে তীব্র শীতের কারণে ঠাণ্ডাজনিত ও ফুসফুস সংক্রমণজনিত রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় এ ধরনের কারণে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।


যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শতাধিক রোগী ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এসব রোগীর মধ্যে ৫৪ জন শিশু রয়েছে।


চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তীব্র শীতের কারণে বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে। এ কারণে ঘরে ও বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


হাসপাতালে মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে মো. শামছুজ্জামান জানান, ঠাণ্ডার কারণে তার বাবার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ছয়টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তার বাবা মারা যান।


মৃত শেখ সদরুল আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার বাবার আগে থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল। এর পাশাপাশি গত কয়েক দিনের তীব্র শীতে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল রাতে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


মৃত মনিরা খাতুনের ছেলে শেখ মামুন বলেন, তার মায়ের বয়স ৬৪ বছর। প্রচণ্ড শীতে তিনি প্রায় ১০ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় গুরুতর অবস্থায় গতকাল রাতে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


শেখ মামুনের বাড়ির পাশেই ৬৫ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষিকা উম্মে হানি মারা গেছেন। তার ছেলে বনি জানান, তার মা এক সপ্তাহ ধরে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে তার মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাচ্ছিল না, যা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় যশোরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বাতাসের তীব্রতা বাড়ায় শীতের প্রকোপ চরমে পৌঁছেছে। সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাস শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় জেলাজুড়ে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ