রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পদক্ষেপ, তদন্ত কার্যক্রম ও আর্থিক ঘোষণা নিয়ে তীব্র অভিযোগ ও ৫ দফা দাবি তুলে ধরেছে। ওই সম্মেলন আজ (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন এবং প্রশাসনের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারগুলো অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটির সঠিক কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে। তারা বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের বাজেটে বিমানবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা শহরের জনবহুল এলাকায় বিশাল ক্ষতি করেছে।
পরিবারগুলো সরকারি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গত ১১ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিসের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব নিহতদের জন্য প্রতি পরিবার ২০ লাখ ও আহতদের ৫ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দিলেও, পরিবারগুলো ১৪ ডিসেম্বর তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এছাড়াও ২৯ ডিসেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত “১ কোটি টাকা” ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলেন, প্রথমে ন্যায়বিচার এবং সত্য উদঘাটন দরকার, তারপরই আর্থিক সহায়তা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন (নম্বর ১১৮৪২/২০২৫) এবং উপদেষ্টাদের দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতিগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারি দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৫ দফা দাবি
১। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২। যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান
পূর্বের আর্থিক ঘোষণা ও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর পুনর্মূল্যায়ন এবং ন্যায়বিচারের পরে অর্থ সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।
৩। নিহতদের শহীদী মর্যাদা প্রদান ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ
নিহতদের জীবন ও ত্যাগ চিরস্থায়ীভাবে স্মরণীয় করতে এবং শিক্ষার্থীদের স্মৃতি সংরক্ষণে শহীদী মর্যাদা ও স্মৃতিসৌধ নিশ্চিত করা হোক।
৪। আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হোক।
৫। ২১ জুলাইকে জাতীয় স্মরণ দিবস ঘোষণা ও স্মৃতিসৌধের রক্ষণাবেক্ষণ
দুর্ঘটনার শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মে পৌঁছাতে এবং নিহতদের প্রতি সম্মান জানাতে জাতীয় স্মরণ দিবস ঘোষণা ও স্মৃতিসৌধ/স্মরণস্থানের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হোক।
পরিবারগুলো সংবাদ সম্মেলনে আরও জানিয়েছেন, সরকারি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সমাজ আরও বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পদক্ষেপ, তদন্ত কার্যক্রম ও আর্থিক ঘোষণা নিয়ে তীব্র অভিযোগ ও ৫ দফা দাবি তুলে ধরেছে। ওই সম্মেলন আজ (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন এবং প্রশাসনের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারগুলো অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটির সঠিক কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে। তারা বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের বাজেটে বিমানবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা শহরের জনবহুল এলাকায় বিশাল ক্ষতি করেছে।
পরিবারগুলো সরকারি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গত ১১ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিসের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব নিহতদের জন্য প্রতি পরিবার ২০ লাখ ও আহতদের ৫ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দিলেও, পরিবারগুলো ১৪ ডিসেম্বর তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এছাড়াও ২৯ ডিসেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত “১ কোটি টাকা” ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলেন, প্রথমে ন্যায়বিচার এবং সত্য উদঘাটন দরকার, তারপরই আর্থিক সহায়তা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন (নম্বর ১১৮৪২/২০২৫) এবং উপদেষ্টাদের দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতিগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারি দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৫ দফা দাবি
১। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২। যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান
পূর্বের আর্থিক ঘোষণা ও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর পুনর্মূল্যায়ন এবং ন্যায়বিচারের পরে অর্থ সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।
৩। নিহতদের শহীদী মর্যাদা প্রদান ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ
নিহতদের জীবন ও ত্যাগ চিরস্থায়ীভাবে স্মরণীয় করতে এবং শিক্ষার্থীদের স্মৃতি সংরক্ষণে শহীদী মর্যাদা ও স্মৃতিসৌধ নিশ্চিত করা হোক।
৪। আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হোক।
৫। ২১ জুলাইকে জাতীয় স্মরণ দিবস ঘোষণা ও স্মৃতিসৌধের রক্ষণাবেক্ষণ
দুর্ঘটনার শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মে পৌঁছাতে এবং নিহতদের প্রতি সম্মান জানাতে জাতীয় স্মরণ দিবস ঘোষণা ও স্মৃতিসৌধ/স্মরণস্থানের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হোক।
পরিবারগুলো সংবাদ সম্মেলনে আরও জানিয়েছেন, সরকারি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সমাজ আরও বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

আপনার মতামত লিখুন