আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় আজ মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা যদি সামান্যতম বিচ্যুতিও প্রদর্শন করেন—তাহলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে নিয়োগ পাওয়া জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) নির্বাচন পরিচালনায় সক্ষম, অভিজ্ঞ এবং যথাযথভাবে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসন দিয়ে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রশ্নহীন নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। এ সময় নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো পক্ষপাতিত্ব, অবহেলা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তা কঠোরভাবে দেখা হবে বলে সতর্কবার্তাও দেন তিনি।
সচিব আরও বলেন, “নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো অনিয়ম বা অস্বাভাবিক কিছু শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।” তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং প্রতিটি পর্যায়েই নিয়মিত বৈঠক ও পর্যালোচনা কার্যক্রম চলছে।
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রশাসনিক নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটের দিনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দল যে উদ্বেগ প্রকাশ করছে তা নিয়েও সচিবকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারসাজির সুযোগ রাখতে চায় না। “জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য,”—বলেন তিনি।
এছাড়া ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা প্রস্তুতি, পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণ টিম নিয়েও বিস্তারিত তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার সব ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নজরদারি চালাচ্ছে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে।
সচিবের আজকের বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে সরকারের কঠোর বার্তা—নির্বাচনী দায়িত্বে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। প্রশাসনের সব পর্যায়কে সতর্ক, সতর্কতর ও জবাবদিহির আওতায় রেখে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন