ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পীর নির্দেশেই ওসমান হাদি হত্যা- ডিবি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পীর নির্দেশেই ওসমান হাদি হত্যা- ডিবি
ওসমান হাদি

রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এ হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা ছিলেন মিরপুরের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী—ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তদন্তে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। সোমবার ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

ডিবি জানায়, ১২ ডিসেম্বর বিকেলে মোটরসাইকেলে আসা দুই শুটার বিজয়নগরে ওসমান হাদির ওপর একাধিক গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা–৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পী। ডিবি কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার আগে কয়েক দফা বৈঠকে হামলার পরিকল্পনা, শুটার নির্ধারণ, রুট ঠিক করা এবং পালানোর ব্যবস্থা করা হয়। হামলার নেতৃত্ব দেয় ফয়সাল করিম মাসুদ, যার সঙ্গে ছিলেন আলমগীর শেখ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পীর সংশ্লিষ্টতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া এক সহযোগী জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, হামলার পর তিনি শুটার ফয়সালকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারত পালাতে সহায়তা করেন। ডিবি বলছে, হত্যার পর পালানোর পরিকল্পনাও ছিল অত্যন্ত সংগঠিত, যা নির্দেশকের ভূমিকা আরও পরিষ্কার করে। ডিবির দাবি, ‘এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং একটি সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।’

এ ঘটনায় ডিবি বাপ্পীসহ ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। অভিযোগপত্রে হত্যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে অস্ত্র সংগ্রহ, নজরদারি, গুলি চালানো এবং পালানোর পুরো নেটওয়ার্কের বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। ডিবির প্রত্যাশা, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি পাঠানো হলে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে।

ওসমান হাদির মৃত্যুর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজ দ্রুত বিচার দাবি করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ডিবি জানায়, দেশে ও বিদেশে থাকা সন্দেহভাজন আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, সকল আসামি ধরা পড়লে হত্যাকাণ্ডের পুরো চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পীর নির্দেশেই ওসমান হাদি হত্যা- ডিবি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এ হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা ছিলেন মিরপুরের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী—ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তদন্তে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। সোমবার ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

ডিবি জানায়, ১২ ডিসেম্বর বিকেলে মোটরসাইকেলে আসা দুই শুটার বিজয়নগরে ওসমান হাদির ওপর একাধিক গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা–৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পী। ডিবি কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার আগে কয়েক দফা বৈঠকে হামলার পরিকল্পনা, শুটার নির্ধারণ, রুট ঠিক করা এবং পালানোর ব্যবস্থা করা হয়। হামলার নেতৃত্ব দেয় ফয়সাল করিম মাসুদ, যার সঙ্গে ছিলেন আলমগীর শেখ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পীর সংশ্লিষ্টতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া এক সহযোগী জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, হামলার পর তিনি শুটার ফয়সালকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারত পালাতে সহায়তা করেন। ডিবি বলছে, হত্যার পর পালানোর পরিকল্পনাও ছিল অত্যন্ত সংগঠিত, যা নির্দেশকের ভূমিকা আরও পরিষ্কার করে। ডিবির দাবি, ‘এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং একটি সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।’

এ ঘটনায় ডিবি বাপ্পীসহ ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। অভিযোগপত্রে হত্যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে অস্ত্র সংগ্রহ, নজরদারি, গুলি চালানো এবং পালানোর পুরো নেটওয়ার্কের বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। ডিবির প্রত্যাশা, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি পাঠানো হলে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে।

ওসমান হাদির মৃত্যুর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজ দ্রুত বিচার দাবি করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ডিবি জানায়, দেশে ও বিদেশে থাকা সন্দেহভাজন আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, সকল আসামি ধরা পড়লে হত্যাকাণ্ডের পুরো চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ