চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচার ও জব্দ করা মাদক আত্মসাতের অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় সিএমপি (চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ) ৮ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। ৫ জানুয়ারী সোমবার সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের আদেশে বাকলিয়া থানার অধীন বিভিন্ন টিমে কর্মরত এ সদস্যদের বরখাস্ত করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে বাকলিয়া থানার একটি চেকপোস্টে কক্সবাজারের একটি আদালতে কর্মরত বিচারকের গানম্যান ইমতিয়াজ হোসেনকে আটক করে প্রায় ১ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। তবে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ ও আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং অভিযোগ উঠেছে—ইমতিয়াজকে আটক করেও মামলার প্রক্রিয়া ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয় এবং জব্দ করা ইয়াবার পরিমাণ গোপন রাখা হয়। ঘটনার পর তিনি দুইদিন ফোন বন্ধ রেখে যোগাযোগের বাইরে ছিলেন, যা তদন্তের সন্দেহ আরও বাড়ায়।
ঘটনার পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সিএমপি দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনারকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়—ইয়াবা পাচারের মতো গুরুতর মামলায় পুলিশের এমন আচরণ জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে আসে, চেকপোস্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা ইয়াবা উদ্ধার ও আটক ব্যক্তির তথ্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে গোপন রাখেন এবং আসামিকে ছেড়ে দেন। এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সিএমপি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—এসআই মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার, এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন, এএসআই সাইফুল আলম, কনস্টেবল জিয়াউর রহমান, সাদ্দাম হোসেন, এনামুল হক, রাশেদুল হাসান ভূঞা ও নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, মাদক উদ্ধার গোপন রাখা এবং নিয়মভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে আটক হওয়া পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ হোসেনের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত চলছে। তিনি কক্সবাজারের একজন বিচারকের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। কীভাবে তিনি ইয়াবা বহনে যুক্ত হলেন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা তার যোগাযোগ, চলাচল এবং সম্ভাব্য মাদকচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা খুঁজে দেখছেন।
সিএমপি জানায়, এ ঘটনায় কারও প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা করতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকবিরোধী অভিযানে জড়িত কেউই আইনভঙ্গ করলে ছাড় পাবে না—এ বিষয়েও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্পষ্ট অবস্থান জানান।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচার ও জব্দ করা মাদক আত্মসাতের অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় সিএমপি (চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ) ৮ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। ৫ জানুয়ারী সোমবার সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের আদেশে বাকলিয়া থানার অধীন বিভিন্ন টিমে কর্মরত এ সদস্যদের বরখাস্ত করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে বাকলিয়া থানার একটি চেকপোস্টে কক্সবাজারের একটি আদালতে কর্মরত বিচারকের গানম্যান ইমতিয়াজ হোসেনকে আটক করে প্রায় ১ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। তবে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ ও আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং অভিযোগ উঠেছে—ইমতিয়াজকে আটক করেও মামলার প্রক্রিয়া ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয় এবং জব্দ করা ইয়াবার পরিমাণ গোপন রাখা হয়। ঘটনার পর তিনি দুইদিন ফোন বন্ধ রেখে যোগাযোগের বাইরে ছিলেন, যা তদন্তের সন্দেহ আরও বাড়ায়।
ঘটনার পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সিএমপি দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনারকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়—ইয়াবা পাচারের মতো গুরুতর মামলায় পুলিশের এমন আচরণ জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে আসে, চেকপোস্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা ইয়াবা উদ্ধার ও আটক ব্যক্তির তথ্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে গোপন রাখেন এবং আসামিকে ছেড়ে দেন। এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সিএমপি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—এসআই মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার, এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন, এএসআই সাইফুল আলম, কনস্টেবল জিয়াউর রহমান, সাদ্দাম হোসেন, এনামুল হক, রাশেদুল হাসান ভূঞা ও নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, মাদক উদ্ধার গোপন রাখা এবং নিয়মভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে আটক হওয়া পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ হোসেনের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত চলছে। তিনি কক্সবাজারের একজন বিচারকের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। কীভাবে তিনি ইয়াবা বহনে যুক্ত হলেন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা তার যোগাযোগ, চলাচল এবং সম্ভাব্য মাদকচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা খুঁজে দেখছেন।
সিএমপি জানায়, এ ঘটনায় কারও প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা করতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকবিরোধী অভিযানে জড়িত কেউই আইনভঙ্গ করলে ছাড় পাবে না—এ বিষয়েও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্পষ্ট অবস্থান জানান।

আপনার মতামত লিখুন