রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় গত ২৬ অক্টোবর মেট্রোরেলের পিলারের বিয়ারিং প্যাড বিচ্যুত হয়ে খুলে পড়ার ঘটনায় পথচারী আবুল কালামের মৃত্যুর পেছনে কারিগরি ও নকশাগত ত্রুটি ছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। সেতু বিভাগের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দুর্ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক, ডিএমটিসিএলের প্রকল্প পরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং সিআইডির ফরেনসিক প্রতিনিধি যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে আরও দুইজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তদন্ত কমিটি জানায়, দুর্ঘটনায় বিচ্যুত বিয়ারিং প্যাডের হার্ডনেস, কম্প্রেশন সেট ও নিওপ্রিন কন্টেন্ট প্রচলিত মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক ছিল না। এছাড়া প্যাডগুলো ০ দশমিক ৮ শতাংশ ঢালু অবস্থায় স্থাপন করা হয়েছিল, যা বিচ্যুতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে। ফার্মগেট স্টেশনের উভয় প্রান্তে বৃত্তাকার এলাইনমেন্ট থাকলেও কার্ভড এলাইনমেন্টের জন্য আলাদা মডেলিং ও বিশ্লেষণ না করায় অপ্রত্যাশিত পার্শ্ববল ও কম্পনের সৃষ্টি হয়। মধ্যবর্তী স্থানে রিজিড ট্র্যাক ব্যবহারের কারণেও ভাইব্রেশন বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিটি মোট দশটি সভার মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এতে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের পূর্ববর্তী একটি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে নাশকতামূলক কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ভবিষ্যতে বিয়ারিং প্যাড সরে যাওয়া রোধে কার্যকর কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ, ভায়াডাক্টের স্ট্রাকচারাল ও ট্র্যাক ডিজাইনের ওপর থার্ড পার্টি ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালট্যান্ট দিয়ে পর্যালোচনা, পুরো প্রকল্পের জন্য স্বাধীন সেফটি অডিট, দ্রুত স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন এবং স্থানীয় ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তরসহ কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় গত ২৬ অক্টোবর মেট্রোরেলের পিলারের বিয়ারিং প্যাড বিচ্যুত হয়ে খুলে পড়ার ঘটনায় পথচারী আবুল কালামের মৃত্যুর পেছনে কারিগরি ও নকশাগত ত্রুটি ছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। সেতু বিভাগের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দুর্ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক, ডিএমটিসিএলের প্রকল্প পরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং সিআইডির ফরেনসিক প্রতিনিধি যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে আরও দুইজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তদন্ত কমিটি জানায়, দুর্ঘটনায় বিচ্যুত বিয়ারিং প্যাডের হার্ডনেস, কম্প্রেশন সেট ও নিওপ্রিন কন্টেন্ট প্রচলিত মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক ছিল না। এছাড়া প্যাডগুলো ০ দশমিক ৮ শতাংশ ঢালু অবস্থায় স্থাপন করা হয়েছিল, যা বিচ্যুতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে। ফার্মগেট স্টেশনের উভয় প্রান্তে বৃত্তাকার এলাইনমেন্ট থাকলেও কার্ভড এলাইনমেন্টের জন্য আলাদা মডেলিং ও বিশ্লেষণ না করায় অপ্রত্যাশিত পার্শ্ববল ও কম্পনের সৃষ্টি হয়। মধ্যবর্তী স্থানে রিজিড ট্র্যাক ব্যবহারের কারণেও ভাইব্রেশন বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিটি মোট দশটি সভার মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এতে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের পূর্ববর্তী একটি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে নাশকতামূলক কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ভবিষ্যতে বিয়ারিং প্যাড সরে যাওয়া রোধে কার্যকর কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ, ভায়াডাক্টের স্ট্রাকচারাল ও ট্র্যাক ডিজাইনের ওপর থার্ড পার্টি ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালট্যান্ট দিয়ে পর্যালোচনা, পুরো প্রকল্পের জন্য স্বাধীন সেফটি অডিট, দ্রুত স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন এবং স্থানীয় ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তরসহ কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

আপনার মতামত লিখুন