ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শেষ বেলাতেও দেশেই থেকেছেন

৫ বছরে ৪৮৪ দিন হাসপাতালে কাটিয়েছেন খালেদা জিয়া


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

৫ বছরে ৪৮৪ দিন হাসপাতালে কাটিয়েছেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের শেষ পাঁচ বছরে মোট ৪৮৪ দিন হাসপাতালের শয্যায় কেটেছে। কখনো কারাবন্দি অবস্থায়, কখনো মুক্ত থেকেও গুরুতর অসুস্থতায় এই সময়কাল পার করেছেন তিনি। দেশের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। মৃত্যুর আগে টানা ৪০ দিন হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে রাজি হননি খালেদা জিয়া। ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূদের অনুরোধ এবং চিকিৎসকদের প্রস্তাবও তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেনি। তিনি মেডিকেল বোর্ডের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে দেশেই চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলেন। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো থাকার সময় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

চিকিৎসক ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে গেলে দ্রুত পরিবারকে জানানো হয়। ভোর সাড়ে ৫টার পর হার্ট বিট কমতে শুরু করলে তারেক রহমান মায়ের শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন। ভোর ৬টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর সময় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, জাইমা রহমান, প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। আবেগঘন পরিবেশে অনেক চিকিৎসকও কেঁদে ওঠেন।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, দেশেই চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলেন তিনি। জ্ঞান থাকা পর্যন্ত চিকিৎসকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে তার ডায়ালাইসিস শুরু হয় এবং পরে ইলেকটিভ ভেন্টিলেশনে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

তিনি দীর্ঘদিন আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদরোগ ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত পাঁচ বছরে একাধিকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, এরপর ২৭ নভেম্বর সিসিইউতে নেওয়া হয় এবং আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

চিকিৎসার একনজরে ইতিহাস:

  • ৬ অক্টোবর ২০১৮: কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি

  • ২৫ মার্চ ২০২০: হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরা

  • ১১ এপ্রিল ২০২১: কোভিড-১৯ পজিটিভ

  • ২৭ এপ্রিল ২০২১: প্রথমবার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি

  • ১৯ জুলাই ২০২১: কোভিড-১৯ টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ

  • ১১ জুন ২০২২: মধ্যরাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি

  • ২৪ জুন ২০২২: হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরা

  • ৬ আগস্ট ২০২৪: রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে মুক্তি

  • ৭ জানুয়ারি ২০২৫: লন্ডনে উন্নত চিকিৎসা

  • ৫ মে ২০২৫: ঢাকায় ফেরত

  • ১৯ জুন ২০২৫: এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি

  • ২৪ জুলাই ২০২৫: হাসপাতাল ভর্তি

  • ২৮ আগস্ট ২০২৫: স্বাস্থ্যপরীক্ষা

  • ১৫ অক্টোবর ২০২৫: রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি

  • ২৩ নভেম্বর ২০২৫: সর্বশেষ ভর্তি

  • ২৭ নভেম্বর ২০২৫: সিসিইউতে নেওয়া

  • ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: মৃত্যুবরণ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


৫ বছরে ৪৮৪ দিন হাসপাতালে কাটিয়েছেন খালেদা জিয়া

প্রকাশের তারিখ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের শেষ পাঁচ বছরে মোট ৪৮৪ দিন হাসপাতালের শয্যায় কেটেছে। কখনো কারাবন্দি অবস্থায়, কখনো মুক্ত থেকেও গুরুতর অসুস্থতায় এই সময়কাল পার করেছেন তিনি। দেশের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। মৃত্যুর আগে টানা ৪০ দিন হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে রাজি হননি খালেদা জিয়া। ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূদের অনুরোধ এবং চিকিৎসকদের প্রস্তাবও তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেনি। তিনি মেডিকেল বোর্ডের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে দেশেই চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলেন। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো থাকার সময় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

চিকিৎসক ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে গেলে দ্রুত পরিবারকে জানানো হয়। ভোর সাড়ে ৫টার পর হার্ট বিট কমতে শুরু করলে তারেক রহমান মায়ের শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন। ভোর ৬টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর সময় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, জাইমা রহমান, প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। আবেগঘন পরিবেশে অনেক চিকিৎসকও কেঁদে ওঠেন।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, দেশেই চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলেন তিনি। জ্ঞান থাকা পর্যন্ত চিকিৎসকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে তার ডায়ালাইসিস শুরু হয় এবং পরে ইলেকটিভ ভেন্টিলেশনে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

তিনি দীর্ঘদিন আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদরোগ ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত পাঁচ বছরে একাধিকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, এরপর ২৭ নভেম্বর সিসিইউতে নেওয়া হয় এবং আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

চিকিৎসার একনজরে ইতিহাস:

  • ৬ অক্টোবর ২০১৮: কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি

  • ২৫ মার্চ ২০২০: হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরা

  • ১১ এপ্রিল ২০২১: কোভিড-১৯ পজিটিভ

  • ২৭ এপ্রিল ২০২১: প্রথমবার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি

  • ১৯ জুলাই ২০২১: কোভিড-১৯ টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ

  • ১১ জুন ২০২২: মধ্যরাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি

  • ২৪ জুন ২০২২: হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরা

  • ৬ আগস্ট ২০২৪: রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে মুক্তি

  • ৭ জানুয়ারি ২০২৫: লন্ডনে উন্নত চিকিৎসা

  • ৫ মে ২০২৫: ঢাকায় ফেরত

  • ১৯ জুন ২০২৫: এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি

  • ২৪ জুলাই ২০২৫: হাসপাতাল ভর্তি

  • ২৮ আগস্ট ২০২৫: স্বাস্থ্যপরীক্ষা

  • ১৫ অক্টোবর ২০২৫: রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি

  • ২৩ নভেম্বর ২০২৫: সর্বশেষ ভর্তি

  • ২৭ নভেম্বর ২০২৫: সিসিইউতে নেওয়া

  • ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: মৃত্যুবরণ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ