আগামী ১০ দিনের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা নিবিড় ও সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন—ঘটনার মূলহোতা ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন দিও, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম রাজু ও মো. আব্দুল হান্নান। এদের মধ্যে ছয়জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষীও একই ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, ম্যাগাজিন ও ছোরা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, গুলির খোসা ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার স্বাক্ষরিত চেক জব্দ করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের জবানবন্দি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উদ্ধার করা আলামত পর্যালোচনা করে তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে ফ্যাসিস্টের দোসর ও দুষ্কৃতকারীরা তৎপরতা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে।
সভা শেষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানে গত ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও ১২ হাজার ৩৪৮ জন। অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, গ্রেনেড, বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
আগামী ১০ দিনের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা নিবিড় ও সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন—ঘটনার মূলহোতা ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন দিও, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম রাজু ও মো. আব্দুল হান্নান। এদের মধ্যে ছয়জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষীও একই ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, ম্যাগাজিন ও ছোরা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, গুলির খোসা ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার স্বাক্ষরিত চেক জব্দ করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের জবানবন্দি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উদ্ধার করা আলামত পর্যালোচনা করে তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে ফ্যাসিস্টের দোসর ও দুষ্কৃতকারীরা তৎপরতা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে।
সভা শেষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানে গত ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও ১২ হাজার ৩৪৮ জন। অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, গ্রেনেড, বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন