এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাস জীবন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসে সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন তারেক রহমান। প্রায় ১৮ মাস কারাবাসের পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই হামলায় ২৪ জন নিহত হন এবং শেখ হাসিনাসহ শতাধিক মানুষ আহত হন। বিএনপির পক্ষ থেকে এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হলেও সেসব মামলার কারণে দেশে থাকা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক রহমান। এরপর তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সরকারের অবস্থানের কারণে আর দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি লন্ডনেই অবস্থান করেন। এই সময়ে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব কার্যত তার হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। ওই সময় তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমান্তরাল ক্ষমতাকেন্দ্র গড়ে ওঠার অভিযোগ ওঠে, যা ‘হাওয়া ভবন’ নামে পরিচিত ছিল। অভিযোগ ছিল, এখান থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। বিএনপি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন তারেক রহমান। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং লন্ডন থেকেই দল পরিচালনা শুরু করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এতে দেশে ফেরার পথ সুগম হয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে বিএনপির এক আলোচনা সভায় তিনি ঘোষণা দেন, ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে রওনা হন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে তিনি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিই প্রধান শক্তি হিসেবে মাঠে রয়েছে। এই অবস্থায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার ভূমিকা ও নেতৃত্ব ঘিরে রাজনৈতিক মহলসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশমুখী।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাস জীবন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসে সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন তারেক রহমান। প্রায় ১৮ মাস কারাবাসের পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই হামলায় ২৪ জন নিহত হন এবং শেখ হাসিনাসহ শতাধিক মানুষ আহত হন। বিএনপির পক্ষ থেকে এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হলেও সেসব মামলার কারণে দেশে থাকা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক রহমান। এরপর তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সরকারের অবস্থানের কারণে আর দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি লন্ডনেই অবস্থান করেন। এই সময়ে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব কার্যত তার হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। ওই সময় তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমান্তরাল ক্ষমতাকেন্দ্র গড়ে ওঠার অভিযোগ ওঠে, যা ‘হাওয়া ভবন’ নামে পরিচিত ছিল। অভিযোগ ছিল, এখান থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। বিএনপি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন তারেক রহমান। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং লন্ডন থেকেই দল পরিচালনা শুরু করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এতে দেশে ফেরার পথ সুগম হয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে বিএনপির এক আলোচনা সভায় তিনি ঘোষণা দেন, ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে রওনা হন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে তিনি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিই প্রধান শক্তি হিসেবে মাঠে রয়েছে। এই অবস্থায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার ভূমিকা ও নেতৃত্ব ঘিরে রাজনৈতিক মহলসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশমুখী।

আপনার মতামত লিখুন